প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত

কারাবন্দীর ২ বছর ইসহাক সরকার এর জামিন হচ্ছে না কেনো ?

9
কারাবন্দীর ২ বছর ইসহাক সরকার এর জামিন হচ্ছে না কেনো ?
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

আজ ২ বছর পূর্ণ হল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক ইসহাক সরকার এর কারাবন্দীর।অনেকের’ই মুক্তি হলো,কিন্তুু ইসহাক এখনো কারাগারে। জীবন্ত কিংবদন্তি নেতা পুরনো ঢাকার কৃতি সন্তান ছাত্র রাজনীতির আইকন বাকশালীদের আতঙ্ক জিয়ার আদর্শে গড়া রাজপথের অগ্নিরত্ন মামলা সম্রাট কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার আজ দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে তাই দেশের এই দুঃসময়ে করোনা নামক ভাইরাস এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে ইসহাককে মুক্তি দিন,কারণ এটা একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার যা হরন করা মানে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা তাই গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে কোন নাগরিকের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সাধ্য কার নেই, তাই নিঃশর্ত মুক্তি চাই দিতে হবে

ছাত্রনেতা ইসহাক সরকার এর জীবনবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার তিনি শুধু একজন ছাত্রনেতাই নয় তিনি লাখো নেতা-কর্মীর প্রাণ দুই বছর আগে জুলাই মাসের ৯ তারিখে ঢাকার সেনা মালঞ্চ থেকে ইসহাক সরকারকে গ্রেফতার করা হয় জুলাই মাসের ৯ তারিখে গ্রেফতার করা হলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ১০ তারিখ সন্ধায়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনেক নেতা কর্মীরা তার খোজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করেন । কিন্তু অনেক খোজ নেওয়ার পর মিন্টু রোডের ডিবি কার্যলয়ে সারা রাত রেখে পরের দিন গ্রেফতার দেখানোা হয়। তাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ২৬ ঘন্টা পর গ্রেফতার দেখানো হয়। এর পর ১১ জুলাই তাকে ১৬৯ টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে হাজির করা হয়। কোর্টে হাজির করা হলে ইসহাক সরকারকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় বারবার রিমান্ড দিতে থাকে হাসিনার কেঙ্গারু আদালত। একের পর এক রিমান্ড শেষে ইসহাক সরকার অসুস্থ হয়ে পড়ে । ইসহাক সরকারকে ৩ বার রিমান্ড দেওয়ার পর ইসহাক সরকার অসুস্থ হয়ে পরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিল তাকে যাতে আপাতত রিমান্ড না দেওয়া হয়। কিন্তু আদালত ইসহাক সরকার অসুস্থ থাকা সত্বেও আবার ও রিমান্ড দেয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।এর পর প্রতিদিন একের পর এক মিথ্যা মামলায় ইসহাক সরকারকে কোর্টে হাজিরা করা হয়। অপর দিকে বংশাল থানা বি এন পির নেতা ইয়াকুব সরকার কে ৩ জুলাই ২১ টি মামলায় গ্রেফতার করে কোর্টে হাজির করা হয়। কোর্টে হাজির করার পর তাকে কাশিমপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর পর কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে ঢাকা কেরানীগন্জ কারাগারে তার ছোট ভাই ইসহাক সরকারের সাথে রাখা হয়, পরের দিন ২ ভাইকে একই সাথে একই হাত কড়ায় কোর্টে আনা হয়। কোর্টে আনার পর তাদের কে কারাগারে পাঠানো হয় এবং একের পর এক মামলায় কের্টে হাজির করা হয়। ইসহাক সরকার শুধ্র একটি নাম নয় এটি লাখো ছাত্রজনার আশ্রয়স্থল। আর জীবনের বেশির ভাগ সময় কারাগারে কেটে গেছে।

আরও পড়ুন:  পতন না হলে মন্ত্রিসভার সদস্যরা মোশতাকের আ’ লীগই করতেন!

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁকে বহুবার হতে হয়েছে কারা-নির্যাতিত। বিগত হাসিনা সরকারের (১৯৯৬-২০০১) আন্দোলনে দেশের তৎকালীন ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৫২ মামলায় ৩ বছর কারাবন্দী ছিলেন তারই বড় ভাই আন্দোলন সংগ্রামের সাহসী নেতা “ইয়াকুব সরকার” ।

রাজপথের বীর নেতা, ৩০০ সতের বেশি অর্থাৎ ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সর্বাধিক মিথ্যা মামলার আসামী “ইসহাক সরকার। যার জীবনের অনেকটা সময়ই কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে পিতৃবিয়োগের শোক সংবরণ করতে হয়েছে।

আরেক ভাই “ইসমাইল সরকার” যিনি রাজনীতি না করেও ৬০ মামলায় এখন পর্যন্ত ৪ বার কারাবরণ করেছেন। “ইসমাইল” নামের পিছনে শুধুমাত্র সরকার নাম থাকার কারণে তাকে রাজনীতি না করেই হাসিনা বাহিনীর নোংরা ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:  খিচুড়ি রান্না শিখতে চাইলে কেকা ফেরদৌসির কাছে গেলেই তো হয়, বিদেশে যাওয়ার কি দরকার?

এই বীরযোদ্ধার; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছিঃ

১৯৯৬ সালের ২৭শে এপ্রিল রাজধানীর রমনা পার্ক থেকে প্রথমবারের মতো আটক হন ইসহাক সরকার।

ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি শহিদউদ্দিন চৌধুরী এনি ও ইসহাক সরকার সহ ছাত্রদলের ৩৪ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। যার মধ্যে ২২ জনই ছিলেন কোতয়ালি থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মী। আটককৃতদের পুলিশ কন্ট্রোল রুমের খোলা মাঠে সারাদিন খালি গায়ে রাখা হয়। পরদিন বাংলাদেশের গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়ঃ “Torture on Dhaka University students under police custody; Sheikh Hasina style”

১৯৯৯ সালে হরতাল চলাকালে বংশাল বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পিকেটিং করার সময় দ্বিতীয়বারের মতো আটক হয় ইসহাক সরকারকে । ১৭টি মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয় ইসহাক। কোতয়ালি থানায় রিমান্ডে থাকাকালীন সময়ে খাবার দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয় তারই সহোদর ইসমাইল সরকার(১৭) ও তাঁর সহযোগী নীরব। ৪ মাস পর জেল থেকে মুক্তি পান ইসহাক সরকার । সেই একই বছরের শেষ দিকে বংশাল বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর থেকে ইসহাক সরকারে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।মানবিক দিক থেকে ইসহাক সরকারকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হউক।

লেখকঃ প্রধান সম্পাদক banglamagazines.com

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 23
    Shares