প্রচ্ছদ Featured News

যে ভেবে প্রশাসন ও রা’জনৈতিক প্র*শ্রয়ে ভ*য়ঙ্কর অ*পরাধী হয়ে উঠে নয়ন বন্ড

42
পড়া যাবে: 9 মিনিটে

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার প্রধান আ’সামি সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড কথিত ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হয়েছে। সে এই হ’ত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে হ’ত্যাকা’ণ্ডে স’রাস’রি অংশ নেয়। সে তার লোকজন নিয়ে স্ত্রীর সামনেই রিফাতকে প্র’কাশ্যে কু’পিয়ে হ’ত্যা করে।

নয়ন বন্ডের মৃ’ত্যুর পর তার সম্পর্কে বহু চা’ঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে।সাব্বির আহমেদ থেকে নয়ন বন্ড হয়ে উঠার পেছনে কাজ করেছে বরগুনার রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসন। এই দুটির প্রশ্রয়েই ছিঁ’চকে চো’র থেকে ভ’য়ঙ্কর অ’পরাধী হয়ে উঠেন নয়ন বন্ড।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

নয়ন বন্ড ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হয়েছে-প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও স্থানীয়রা সেটি মানতে নারাজ। তারা বলছেন, নয়ন বন্ডকে ‘মে’রে ফেলা’ হয়েছে।নয়ন গ্রে’ফতার হলে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের মু’খোশ উ’ন্মোচিত হয়ে যেত- এ কারণেই তাকে ‘হ’ত্যা’ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় পুলিশের অনেক অ’সাধু কর্মকর্তার কু’র্কীতি’ও সামনে চলে আসত নয়ন বেঁচে থাকলে।

স্থানীয়রা বলছেন, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের জে’রে নয়ন বন্ড রিফাত শরীফকে খু’ন করেছে এটি যেমন সত্য। ঠিক তেমনি সত্য হচ্ছে নয়নের ‘বন্ড’ হয়ে উঠার পেছনে রাজনীতিবিদরাই দা’য়ী। অন্য অ’পরাধী’র মত নয়নের উত্থানটাও ছিল বেশ চমকের। নয়নের এক সময়ের সহপাঠীরা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে সুনাম দেবনাথ ও থানার কতিপয় অ’সাধু পুলিশ কর্মকর্তার আ’শকারায় সাব্বির আহমেদ থেকে নয়ন বন্ড হয়ে উঠে সে।

নয়নের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর স্থানীয় এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ এবং তাঁর চাচাতো শ্যালক শাওন তালুকদার ও অভিজিৎ তালুকদারের সঙ্গে নয়নের সখ্য গড়ে ওঠে। অভিজিৎ ও নয়ন একসঙ্গে বিভিন্ন অ’পরা’ধমূল’ক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তখন বিভিন্ন ছাত্রাবাসে গিয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও টাকা ছি’নিয়ে নেয়া, চাঁ’দাবা’জি ও মোটরসাইকেল ছি’নিয়ে নেয়া ছিল তাদের নিয়মিত কাজ। তাদের আশ্রয়ে ছিঁ’চকে চো’র থেকে ভ’য়াবহ স’ন্ত্রাসী হয়ে উঠে নয়ন। মা’দক, নারী, অ’বৈধ টাকা এসবের সঙ্গে ছিল তার নিত্য আনাঘোনা। নিজের বাংলোয় (বিশেষ কক্ষ) ডেকে নিয়ে বহু তরুণীর স’র্বনাশ করেছে নয়ন। নারীর পাশাপাশি মা’দক নে’শায়ও বুঁ’দ হয়ে পড়েছিল নয়ন।

স’ন্ত্রাসের পাশাপাশি ই’য়াবা ব্যবসায়ও ছিল তার বড় হাত। এসব অ’পরাধের মধ্য দিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে এলাকার নেতৃত্বাস্থানীয়দের নজরে চলে নয়ন। তার সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে এলাকার রাজনৈতিক মহলের। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও নয়নের উঠাবসা ছিল চোখে পড়ার মত। ২০১৭ সালের শেষদিকে বিপুল মা’দকস’হ পুলিশের হাতে গ্রে’ফতার হয় নয়ন। ওই একই রাতে পুলিশ অ’ভিযান চালায় কলেজ রোডে সুনাম দেবনাথের প্রতিষ্ঠান সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশনের অফিসে। পুলিশ যখন ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল তখন পেছন দিয়ে পালিয়ে যায় দুই-তিনজন।

বলাবলি হচ্ছে- ‘ওই অফিসে যদি অ’পরাধ ক’র্মকাণ্ড নাই-ই ঘটবে তাহলে কেন তাদের পা’লিয়ে যেতে হল?’ তারপর বন্ধ হয়ে যায় সুনাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘রিফাত হ’ত্যার পর সুনামই গণমাধ্যমে বলেছেন, রিফাত তাদের কর্মী ছিল। রিফাতকে অনেক ভালোবাসতেন।’ মজার ব্যাপার হচ্ছে এই রিফাতও মা’দকস’হ গ্রে’ফতার হয়েছিল। রিফাত হ’ত্যার পর আলোচনায় আসে নয়ন বন্ডের ‘০০৭ গ্রুপ’ ও ‘টিম সিক্সটি’ নামের দুটি গ্রুপ। টিম সিক্সটির প্রধান হচ্ছে মঞ্জুরুল আলম জন। জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মা’দকের পা’ইকারি বা’ণিজ্যের অ’ভিযোগ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নয়ন বন্ড প্রথমে ছিঁ’চকে চো’র ছিল। একপর্যায়ে মেয়েদের হ্যান্ডব্যাগ, মোবাইল ফোন নিয়ে দৌ’ড় দিত। তবে নি’ষিদ্ধ মা’দকের জ’গতে ঢুকে সে ক্ষ’মতাবান হয়ে ওঠে। বছর খানেক ধরে জেলার প্র’ভাবশালী লোকজনের সঙ্গে নয়নের ওঠবস শুরু হয়। কয়েক মাস ধরে সে বে’পরো’য়া হয়ে ওঠে। নয়নের একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নূর হোসেন জানান, বাবার মৃত্যুর কিছুদিন পর প্রেমে বি’চ্ছেদ হয়, এরপর নয়ন গাঁ’জা সে’বন শুরু করেন। ২০১১ সালে মাধ্যমিক পেরোনোর আগেই সে ই’য়াবা ও হে’রোই’নে আ’সক্ত হয়ে পড়ে। তখন মা’দকের টাকা জোগাতে মানুষের মুঠোফোন, গয়না ছিনিয়ে নেয়ার মতো ছিঁ’চকে অ’পরাধ শুরু করেন।

মা’দকের টাকার জন্য নয়নের এমন অ’পরাধ দিন দিন বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অ’স্ত্র, ছি’নতা’ইসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটি মা’মলা হয়। ভু’ক্তভো’গীরা তখন বিভিন্ন রা’জনৈতিক ব্যক্তির কাছে নয়নের বিষয়ে অ’ভিযোগ করতে শুরু করেন। নয়নও তখন রা’জনৈতিক আ’শ্রয় খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরাদ হোসেইনের হাত ধরে রা’জনীতিতে সক্রিয় হন।

নয়নের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রা’জনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর সুনাম দেবনাথ এবং তাঁর চাচাতো শ্যালক শাওন তালুকদার ও অভিজিৎ তালুকদারের সঙ্গে নয়নের সখ্য গড়ে ওঠে। অভিজিৎ ও নয়ন একসঙ্গে বিভিন্ন অ’পরা’ধমূল’ক ক’র্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তখন বিভিন্ন ছাত্রাবাসে গিয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও টাকা ছি’নিয়ে নেয়া, চাঁ’দাবা’জি ও মোটরসাইকেল ছি’নিয়ে নেয়া ছিল তাঁদের নিয়মিত কাজ।তবে সুনাম দেবনাথ বরাবরই এসব অভিযোগ অ’স্বীকার করে আসছেন।

বরগুনা শহরে সাধারণ লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নয়ন বন্ডের ক্’ষমতার উৎস শহরের কারও কাছেই অজানা নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা সমাবেশে নয়নকে স্থানীয় প্’রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশতে দেখা গেছে। ব’খাটে নয়নকে ন’ষ্ট রা’জনীতিতে হা’তিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন অ’সাধু রা’জনীতিকরা। হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘০০৭ লাইসেন্স’র নায়কের নামানুসারে নিজের নামের সঙ্গে ‘বন্ড’ যুক্ত করেন নয়ন। এর পর সিনেমাটির গল্পের আ’দলে গড়ে তোলেন স’ন্ত্রাসী বা’হিনী।

নয়নের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নয়নের ঘরে সাদা দেয়ালে লাল রঙ দিয়ে এক জায়গায় লেখা ০০৭ (নয়নের স’ন্ত্রাসী গ্’রুপের সাং’কেতিক নাম)। প্রসঙ্গত, ‘০০৭ লা’ইসেন্স’ একটি বিখ্যাত হলিউড সিনেমা সিরিজ। সিনেমার মৌলিক গল্প অনুযায়ী ০০৭ হচ্ছে মানুষ হ’ত্যার লা’ইসে’ন্স। এতে যিনি নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন, তার নাম জেমস বন্ড।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, এই ছবি দেখে নয়ন বিশেষভাবে প্র’ভাবিত হন। এর পর নিজেকে ‘০০৭ লা’ইসে’ন্স’ সিনেমার নায়ক ভাবতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের নামের সঙ্গে নিজেই যুক্ত করে দেন ‘বন্ড’ শব্দটি এবং একই সঙ্গে গড়ে তোলেন ০০৭ নামের স’ন্ত্রাসী বা’হিনী। এই বাহিনী নয়নের হু’কুমে চলত। তার নির্দেশমত অ’পক’র্ম করে বেড়াত।

পুলিশের সঙ্গে ছিল নয়নের নিত্য উঠাবসা। শহরের বাসিন্দারা এমনও বলছেন, নয়ন চাইলে যে কাউকে পুলিশ দিয়ে হ’য়রা’নি বা গ্রে’ফতার করাতে পারত। নয়ন কাজ করত পুলিশের বিশ্বস্ত সোর্স হিসেবে। স’ন্ত্রাসে’র পাশাপাশি নারী নে’শায় বুঁ’দ ছিল নয়ন। নয়ন বন্ডের হাতে ঠিক কতজন তরুণীর স’র্বনা’শ হয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই পুলিশের কাছেও। তবে নয়নের ‘বি’শেষ কক্ষ’ থেকে উ’দ্ধার একটি ল্যাপটপে বহু প’র্’নে ভি’ডিও পাওয়া গেছে।

কয়েকটি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পর্ ভি’ডিওতে নয়ন বন্ডের সঙ্গে একাধিক তরুণীর বি’শেষ মহূর্তের দৃশ্য রয়েছে। একেক দিন একেক তরুণী নিয়ে সে যে ফু’র্তিতে মেতে উঠেছিল তা স্পষ্ট। পুলিশের সূত্র বলছে, নয়ন বন্ডের ওই বি’শেষ কক্ষের গো’পন জায়গায় সু’কৌশলে আই’পি ক্যামেরা (ইন্টারনেট ক্যামেরা) ব’সানো থাকত।

বি’শেষ উদ্দেশে নয়ন বন্ড যাদের ওই কক্ষে আনতেন তারা কেউ ক্যামেরার অ’স্তিত্ব টে’র পেতেন না। একবার নয়নের সঙ্গে অ’ন্তরঙ্গ হওয়ার পর ওই মেয়ের আর রক্ষা ছিল না। ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যা’কমেই’ল করে বারবার কিশোরী- তরুণীদের ব্যবহার করত সে। অনেক তরুণী নয়নের হাত থেকে বাঁচতে কলেজ ছাড়তে পর্যন্ত বা’ধ্য হয়েছেন।

অনেকে আবার নয়নের চাহিদামতো মোটা অঙ্কের অ’র্থ দিয়ে মু’ক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। পুলিশের হাতে এমন অন্তত ১২ জন তরুণীর তথ্য আছে বলে জানা গেছে। নয়ন কথিত ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে বা কারা এসব ভিডিও ছড়াচ্ছে তার স’ন্ধান করতে পারেনি পুলিশ। নয়ন বন্ডের বাড়ি বরগুনা শহরের ডিকেপি রোডের মাঝ বরাবর একটি সরু গলির শেষ প্রান্তে। বাড়ির সামনে অনেকটা জায়গা খালি।

বাড়ি নির্মাণের জন্য সম্প্রতি সেখানে অনেক ইট এনে রাখা হয়েছে। নয়নের বাড়ির মূল দরজার পাশেই একটা ছোট্ট বৈঠক ঘর। নয়ন সেখানেই থাকত। গভীর রাত পর্যন্ত ঘরের দরজা খোলা থাকত। সারা দিন এখানে-সেখানে ঘোরাঘুরির পর গভীর রাতে বাড়ি ফিরত।

রাত ১২টার পর তার কক্ষে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যেত। আসতেন পুলিশের সদস্যরাও। প্রতিবেশীরা বলছেন, পুলিশের কয়েকজন অ’সাধু সদস্য মা’দক ব্’যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা নয়নকে ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে মা’দক ব্য’বসা চালিয়ে গেছেন। শহরের অনেকেই মা’দকে’র সঙ্গে যুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের চেনেন- জানেন। কিন্তু কেউ-ই মুখ খুলতে নারাজ।

শহরের বাজার রোডের আরেক বাসিন্দা বলেন, নয়নের ম’নোরঞ্জ’নে ব্যবহৃত অনেক তরুণীকে পরে পুলিশের ম’নোরঞ্জ’নে ব্যবহৃত হওয়ার কথা শোনা গেছে। বিনিময়ে পুলিশের উদ্ধার করা মা’দকে’র ভা’গ পেত নয়ন।

বরগুনা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নয়নের শোবার ঘর থেকে যে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে কয়েকশ’ নী’ল ফি’ল্ম রয়েছে। স্থানীয় অনেক তরুণী যে তার শি’কারে পরিণত হয়েছেন ল্যাপটপের ওই ভি’ডিও-ই তার প্রমাণ। জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এসব ভিডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। সুত্র যুগান্তর

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...