প্রচ্ছদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে

বা’সর ঘরে চি*ৎকা’র করা যাবে না , র*ক্তক্ষ’রণে কিশোরীর মৃ*ত্যু

1935
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

রাত ২ টা ৪৫। ডিউটি ডাক্তার সবে মাত্র বিশ্রাম নেয়ার জন্য ঘুম ঘুম চোখে চেয়ারে বসেছে। ই’মারজেন্সি থেকে ফোন আসলো। চোখের পাতায় ঘুম ঠেসে, ই’মারজেন্সিতে এসে চমকে যাওয়ার অবস্থা। মহিলা রোগী, প’ড়নের চা’দর র*ক্তে ভে’জা। মু’খের রঙ ফ্যা’কাসে, সাদা।

কাপড় দেখেই বোঝা যাচ্ছে নতুন বিয়ে হয়েছে। কাগজে লেখা, রোগীর নাম ফুলি। হিষ্ট্রি নেয়ার জন্য ডাক্তার জানতে চাইল, কি হয়েছে? রোগীর সাথে সদ্য বিবাহিত জামাই, জা এবং আরও দুই একজন এসেছে। ডাক্তার দেখেই রোগীর বর চো’রের মত, রুম থেকে বের হয়ে গেল। রোগীর সাথের মহিলা তেজের সাথে বলল, ‘ডাক্তার হইছেন, বুঝেন না কেরে, সব কইতে হইবো!’

‘মালকা বানুর দেশে রে, বিয়ের বাদ্য বাজনা বাজে রে..’

গাছের মাথায় বাধা মাইকটিতে একের পর এক বিয়ের গান বেজে চলছে। বিয়ে বাড়িতে সবাই ব্যস্ত। বর পক্ষের যারা এসেছে, কথা বার্তায় আভিজাত্য ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের চেষ্টায় ব্যস্ত। দর কষাকষি করার পরে, কনে পক্ষ থেকে যৌ*তুক হিসেবে যা পাওয়া গেছে, তা নেহাত কম নয়।

কিন্তু কম হয়ে গেছে কনের বয়স। বাচ্চা মেয়ে, নাম ফুলি বেগম, সবে মাত্র ১৪ পেরিয়ে ১৫ বছরে পড়েছে। মেয়ের বাবাও মোটামুটি ভাবে লাল শাড়ি পড়িয়ে মেয়েকে বিদায় দিতে পেরে খুশি।

মেয়ে হলে তো বিদায় দিতেই হবে। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মেয়েকে পড়িয়েছে। কম কি! তাছাড়া, শোনা যাচ্ছে ছেলেও নাকি ভাল। আয় রোজগার বেশ। এমন ছেলে তো আর চাইলেই মেলে না।

বাড়ির উঠোনে বসে মুখে পান চিবুতে চিবুতে ছেলের মামা বলল, ‘এমন ছেলে কোথায় পাবেন মিয়া। তাছাড়া, ছেলে মানুষের একটু দো’ষ থাকলেও সমস্যা নেই, বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে।’

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে, মেয়েকে নিয়ে আসা হল, তার নতুন ঘরে। যে মেয়েটি সবে মাত্র জীবনের সংজ্ঞা শিখতে শুরু করেছে, শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখতে যাচ্ছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তার আজ বা’সর। পু’রুষতা’ন্ত্রিক এই সমাজে স*তীত্ব যা’চাই করার উৎসব। আর বিয়ে তো একটি সামাজিক বৈ’ধতা মাত্র।

সমাজ অনেক এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিয়ের সময় মেয়ের মতামতটা এখনও গৌ*ণ। মেয়ের যদি মতামত না নেওয়া হয় বা পরিবারের কারও ধ’মকে মতামত দানের পর বিয়ে হয়, তাহলে তাকে ধ*র্ষণ না বলে উপায় নেই।

ফুলির ইচ্ছে করছে, চি*ৎকার করে। কিন্তু বা’সর ঘ’রে চি*ৎকার যে করা উচিত নয়, এতটুকু বুঝতে শিখেছে। হা’ত পা ছু’ড়ে বরের লা*লসা’র য*জ্ঞ থেকে বেরিয়ে আসার মি’থ্যে চেষ্টা।

সমাজ বিধীত ‘ব’র’, যখন আদিম প*শুত্ব থেকে বাস্তবে ফিরে আসে, তখন ফুলি র*ক্তে ভে’জা। তখনও ফি*নকির মত র*ক্ত যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সাদা ফা’ক্যাসে হয়ে আসছে মুখের র’ঙ!

হাসপাতালের বে’ডে অ*চেত’ন শুয়ে আছে ফুলি। যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে, ওর চোখে পড়েছিল যে, শ্বশুর বাড়ির লোকজন কা’নাকানি করে কথা বলছে। ব্যা*ঙ্গা’ত্মক হাসি তা’মাশা করছে। যেন সব দো’ষ ফুলির। ল*জ্জায় কারও দিকে তাকাতেও ভ’য় করে। তারপর ইঞ্জিন চালিত গাড়ীর ইঞ্জিনের প্রচণ্ড শব্দ। আরও এলোমেলো কিছু মুহূর্ত।

কিছুক্ষণ পর, সাদা এপ্রোন পড়া একজন ডাক্তার এসে তার হাত ধরেছে। মনে আছে শুধু এতটুকুই। ডাক্তার নার্সকে সাথে নিয়ে, ফুলি বেগমকে পরীক্ষা করলেন। ভয়াবহ রকমের পে’রিনি’য়াল টি’য়ার (য*নাঙ্গ ও তার আশ পাশ ছি’ড়ে গেছে)। তখনও র*ক্ত যাচ্ছে প্র’চুর। হাতে পা’লস দেখা হল। খুবই কম। জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে র’ক্ত দেয়া দরকার। জরুরি অবস্থায় অ*পারে’শন করে ছি’ড়ে যাওয়া অংশ অ*পারে’শন করে ঠিক করতে হবে। নাহলে র*ক্ত ক্ষ*রণ বন্ধ হবে না আর র*ক্ত শূন্য হয়ে শেষ হয়ে যাবে প্রা*ণস্পন্দন ।

এই ভ*য়াবহ সংকটাপন্ন রোগীকে নিয়ে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা কর্তব্যরত ডাক্তারের। ম্যাডামকে ফোন করা হল। প্রাথমিক ভাবে ম্যানেজ করার জন্য র’ক্ত দরকার।

রোগীর সাথে যারা এসেছে এতক্ষণ ই’মারজেন্সী রুমের সামনে চিল্লা পাল্লা করছিল। ডাক্তার এসে জানালো জরুরি ভিক্তিতে র*ক্ত দরকার। তখন সবাই চুপ। কেউ কেউ কেটে পড়ার জন্য পাশে সরে গেল। কিছুক্ষণ পর রোগীর লোক জানালো, তারা র*ক্ত জোগাড় করতে পারবে না। যা হয় হবে! ডাক্তার তাদের বুঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু লাভ হল না।

রাত সাড়ে তিনটায় ম্যাডাম আসলেন। তার ধমকে শেষ পর্যন্ত তারা র*ক্ত জোগাড় করতে রাজি হল। কিন্তু র*ক্ত আর সেই রাতে জোগাড় হল না। অ*পারে’শন থি’য়েটারে ফুলিকে নিয়ে টি*য়ার রি’পেয়ার করা হল। সকালে রোগীর শ্বশুর বাড়ির লোক সবাই উধাও। ফুলির বাবা আসলেন সেই সকালে, র*ক্ত জোগাড় হল কোনরকমে।

ছয় দিন পর, রোগীর সে*প্টিসে’মিয়া ডে*ভল’প করলো। ই*নফে*কশ’ন র*ক্তে ছড়িয়ে গেছে। ভাল অ্যা*ন্টিবায়ো*টিক দরকার। রোগীর বাবা এসে বললেন, তারা আর খরচ চালাতে পারবেন না। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন, কোন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে, তাহলে ঔষুধ কেনার খরচ কিছুটা বাচবে। কিন্তু, হাসপাতাল মানে তো, কাজকর্ম রেখে একজনকে রোগীর পাশে থাকতে হবে। রিলিজ দিয়ে বাসায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, যা হবার হবে।

রিলিজ নিয়ে ফুলিকে বাসায় নেয়া হল। আরও বেশি অ’সুস্থ হওয়ায় চারদিন পরে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হল। পরদিন ভোর ভোর সময়। একবার চোখ খুলে আবার বন্ধ করলো ফুলি। সেই শেষ। আর খোলেনি সেই কিশোরী চোখ। এই সমাজের প্রতি ঘৃ’নায় চোখ জ্’বল জ্’বল করছিল কি না কেউ দেখেতে পায়নি। ভোরের স্বল্প আলোয় বিদায় জানালো জীবনের নি*ষ্ঠুর’তাকে!

ফুলি এ’কিউ’ট রে*নাল ফে*ইলরে মা*রা গেছে। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ডা*য়ালা*ইসিসের জন্য বলা হয়েছিল, তারা রোগী নিয়ে এত ঝামেলা করতে পারবে না। শ্বশুর বাড়ি থেকে সেই বা’সর রা’তের পর, কেউ আসে নি। তাদেরই বা এত চিন্তা কি, একটা বউ ম’রলে দশটা বউ পাওয়া যায়!

লেখাটি রণদীপ সরকার নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট