প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

ভ্যাকসিন দৌড়ে কোথায় বাংলাদেশ?

22
ভ্যাকসিন দৌড়ে কোথায় বাংলাদেশ?
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

বিশ্বজুড়ে হাহাকার। প্রতিদিন নীরবে ঝরে যাচ্ছে হাজারো প্রাণ। অসুস্থ হচ্ছেন লাখো মানুষ। করোনাভাইরাসের থাবায় আট মাস পার করছে বিশ্ব। এখন অবধি এর কোনো সর্বজনীন, অনুমোদিত চিকিৎসা নেই। তবে কয়েকশ’ টিকা ও ওষুধ নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষামূলক টিকা আশা জাগিয়েছে। দেশে দেশে সরকারগুলো আগে থেকেই সে টিকা পেতে শত শত কোটি টাকার চুক্তি করছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে।

এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন সহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো। যুক্তরাজ্যে প্রতি নাগরিকের জন্য অন্তত পাঁচ ডোজ করে পরীক্ষামূলক টিকা নিশ্চিত করেছে সরকার। মোট ৩৪ কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার চুক্তি করেছে দেশটি। বাংলাদেশে অর্থনীতি সচল রাখতে মহামারির মাঝেই সরকার লকডাউন উঠিয়ে নিয়েছে। দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এ দেশে করোনা টিকা নিশ্চিতে কী উদ্যোগ নিয়েছে? টিকা পাওয়ার দৌড়ে কতদূর এগিয়েছে সরকার এ প্রশ্ন এখন সবার সামনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা নিশ্চিতের দৌড়ে বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে। টিকা পাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে টিকা পাওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা পেলেও সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা পেতে পারে। এটিও আবার সময়সাপেক্ষ বিষয়। করোনা টিকার সরবরাহ পর্যাপ্ত হলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পর্যায়ক্রমে এ টিকা দেবে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তিন কোটি ৪০ লাখ টিকা হু দিলেও বাকি জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে কী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ কোনো চুক্তি করেনি। অথচ বিশ্বের কিছু কিছু দেশে ইতিমধ্যেই তাদের জনসংখ্যার চেয়ে ৫ গুণ বেশি ভ্যাকসিনের জন্য অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশে হু’র মাধ্যমে টিকা পেলেও লাগবে দীর্ঘ সময়। এর মধ্যে প্রথম দফায় করোনায় সম্মুখ যোদ্ধা যারা তারা পাবেন ৫১ লাখ ভ্যাকসিন। দেশের জনসংখ্যার ৩ শতাংশ হারে প্রথমে এটা পাওয়া যাবে। এরপর যাদের বয়স বেশি (৬০ বছরের উপরে) এবং জটিল রোগে ভুগছেন তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন পাবেন। ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য গত ৯ই জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। ধারাবাহিকভাবে ২০ শতাংশ হিসেবে উল্লিখিত মোট ভ্যাকসিন আসবে দেশে। দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ২০ শতাংশ হারে এই টিকা পাবে। ডিসেম্বরে টিকা উৎপাদন হলে ২০২১ সালের মাঝামাঝি এই টিকা হাতে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব কিছু টিকা উৎপাদনের উপর নির্ভর করছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক আলোচনা সভায় করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে জানতে চাইলে টিকাদান কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মোহাম্মদ শামসুল হক এমন তথ্য জানিয়েছেন। এ সময়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম উপস্থিত ছিলেন। ২০ শতাংশ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পাওয়া যাবে কিনা জানতে চাইলে লাইন ডিরেক্টর ডা. মোহাম্মদ শামসুল হক মানবজমিনকে বলেন, এটা কো-ফাইন্যান্সিং হিসেবে আসবে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন জোট ‘গ্যাভি’র বোর্ড মিটিংয়ের পরে জানা যাবে। তিনি জানান, বাকি প্রায় ১৪ কোটি লোকের ভ্যাকসিন কোথা থেকে আসবে, তা এখনই বলা যাবে না। এ জন্য সরকার যোগাযোগ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা উৎপাদন করতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৫শে আগস্ট দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো চুক্তির (টিকফা) এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর ইউএসটিআর’র দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চল বিষয়ক সহকারী প্রতিনিধি ক্রিস উইলসন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে করোনার টিকা উৎপাদনের পাশাপাশি নন-কোভিড ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পেও বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস খাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। করোনা টিকা উৎপাদনের পাশাপাশি অন্যান্য দেশে সক্রিয় মার্কিন কোম্পানিগুলোর কারখানা বাংলাদেশে নিয়ে আসার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে বৈঠকটিতে। অন্যদিকে, ২৪শে আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন দেশে আনতে সরকারের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সব শাখাই তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বে ভ্যাকসিন আবিষ্কার এখন অ্যাডভান্স লেভেলে আছে। যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, আমেরিকা, ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চূড়ান্ত পর্যায়ে কাজ করছে। এই ভ্যাকসিনগুলোর গুণগত মান যাচাই-বাছাই করে প্রধানমন্ত্রী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবেন। এর আগে মন্ত্রী মানবজমিনকে বলেছেন, আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। সংস্থাটি জানিয়েছে, যখন ভ্যাকসিন অনুমোদন পাবে তখন দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ২০ শতাংশ হারে পাবে। এটা যখন সহজলভ্য হবে (এভেইলেবল)।

আরও পড়ুন:  পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচনের ভোট চলছে

‘গ্যাভি’কে চিঠি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাভিইর ভ্যাকসিনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে পাওয়া যাবে। তিনি জানান, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ভারতে ট্রায়ালে, চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে রয়েছে। রাশিয়া তো অনুমোদন দিয়েছে। আমেরিকার ফাইজারের ভ্যাকসিনও ট্রায়ালে আছে। সব বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। যখন অগ্রগতি হবে তখন প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, গত ১৯শে আগস্ট ঢাকায় ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সম্ভাব্য কোভিড-১৯ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র সচিবকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ট্রায়াল সহ কোভিড-১৯ টিকা তৈরিতে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। টিকা প্রস্তুত হলে সাশ্রয়ী মূল্যে শুরুতেই পেতে চায় বাংলাদেশ। টিকা বা ভ্যাকসিন তৈরিকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ এখনো দৃশ্যত কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি। এক প্রকার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটিও ভ্যাকসিনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার তাগিদ দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশেই টিকার ট্রায়ালের পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। করোনার ওষুধ আবিষ্কার না হওয়ায় পুরো বিশ্ব এখন ভ্যাকসিনের অপেক্ষায়। কীভাবে আমরা টিকা পাবো জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং সংস্থাটির উপদেষ্টা ডা. মুস্তাক হোসেন বলেন, তিন প্রক্রিয়ায় ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। নিজেদের তৈরি করা ভ্যাকসিন। অন্যদের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করে এবং অন্য দেশের তৈরি করা ভ্যাকসিন হু’র মাধ্যমে চুক্তি করে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন জোট ‘গ্যাভি’র ভ্যাকসিন পেতে এই প্রক্রিয়ায় এগোতে হবে। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণদের আগে ভ্যাকসিন দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এরপর ধারাবাহিকভারে তালিকা করে দিতে হবে ভ্যাকসিন। সিরিঞ্জ তৈরি করতে হবে। সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা নিতে হবে এখনই। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাসের টিকা এখন তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে টিকা উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। এর মধ্যে চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড তাদের তৈরি করা টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা বাংলাদেশেও করার পরিকল্পনা করেছিল। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলও গত ১৮ই জুলাই বাংলাদেশে ওই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছিল। ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে চীনা টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজটি করার কথা ছিল আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র-আইসিডিডিআর,বি’র। বলা হয়েছিল, দেশের সাতটি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে। তবে সে বিষয়টি পরে ঝুলে যায়। এদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করা টিকার পরীক্ষা ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত হয়েছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটি অফ ইন্ডিয়া (এসআইই)। দ্বিতীয় ধাপ থেকেই কোভিশিল্ড নামের ওই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে যাচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী এই সংস্থা।

আরও পড়ুন:  স্যোশাল মিডিয়ার সার্ভিস প্রোভাইডাররা অপব্যবহারের দায় এড়াতে পারে না : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই বলে আসছেন, এ বছর টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করলেও বাজারে সর্বজনীন ব্যবহারের টিকা আগামী বছরই আসবে। সাধারণত যেখানে কোনো রোগের টিকা তৈরিতে কয়েক বছর লেগে যায়, সেখানে করোনার টিকা এক বছরে বের করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানগুলো। নিশ্চিতভাবেই তা যুগান্তকারী এক প্রচেষ্টা। কিন্তু ভাইরাস হিসেবে করোনাও নতুন। এর আগে ২০০২ সালে একই গোত্রের একটি ভাইরাস এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়লেও নোভেল করোনাভাইরাসের প্রভাব তার চেয়ে বহুগুণ বেশি মারাত্মক। এর সত্যিকারের প্রভাব কী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিনিয়তই ভাইরাসটি ঘিরে বেরিয়ে আসছে নতুন তথ্য। সম্প্রতি ভাইরাসটি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত করতে সক্ষম বলেও খবর বেরিয়েছে। এমতাবস্থায় কার্যকরী কোনো টিকা বা ওষুধই এর একমাত্র প্রতিকার হিসেবে প্রতীয়মান হয়ে উঠেছে। বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোও সে হিসেবে চেষ্টা জোরদার করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরীক্ষাধীন আছে দুই শতাধিক টিকা। এর মধ্যে মানবদেহে পরীক্ষাধীন আছে এক ডজনেরও বেশি। চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ যুক্ত হয়েছে এই টিকা তৈরির প্রতিযোগিতায়। এর মধ্যে কিছু টিকা আছে মানবদেহে পরীক্ষার শেষ ধাপে। বাংলাদেশেও সেসব টিকার পরীক্ষার প্রস্তাব এসেছিল। চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড এদেশে তাদের টিকাটির শেষ ধাপের পরীক্ষা চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এখনো সে প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত জানায়নি বাংলাদেশ। চলতি মাসের মাঝামাঝি এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকটি স্থগিত রাখা হয়। এর একদিন পরই পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, ভারতের সঙ্গে টিকা তৈরির কাজে যুক্ত হতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। ভারতীয় গণমাধ্যমে তখন বলা হয়, ভারত বৃটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি পরীক্ষামূলক টিকাটি তৈরি করতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে আরো জানা যায়, ভারতের ১৭টি হাসপাতালে ওই টিকার শেষ ধাপের পরীক্ষা চালানো হবে। যদিও বাংলাদেশের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানা যায়নি। যদিও গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো চুক্তির (টিকফা) এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশে করোনার টিকা উৎপাদন করতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো আশ্বাস দিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের টিকা ট্র্যাকার অনুসারে, বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ ধাপে আছে ৮টি টিকা।শনাক্ত ৩ লাখ ছাড়ালো, একদিনে আরো ৫৪ জনের মৃত্যু: দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা থামছেই না। একদিনে আরো ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ২ হাজার ৫১৯ জন করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২ হাজার ১৪৭ জন শনাক্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪২৭ জন এবং এখন পর্যন্ত এক লাখ ৯০ হাজার ১৮৩ জন সুস্থ হয়েছেন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনা বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares