প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

গণহত্যাকারী পাকিস্তানিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হতে পারে না : হানিফ

15
গণহত্যাকারী পাকিস্তানিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হতে পারে না : হানিফ
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক  :     ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের মানুষের ওপর ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালানো পাকিস্তানিদের সঙ্গে কোনো ধরনের বন্ধুত্ব হতে পারে না বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, ন্যূনতম চেতনা ধারণ করলে এবং আত্মসম্মান বোধ থাকলে কোনো বাঙালি মিত্রতা করবে না। একটি টেলিফোন কলের মাধ্যমে সম্পর্কের ভিত্তি বিবেচনা করা সমীচীন নয়।

বুধবার একটি অনলাইন লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘২১ আগস্ট: নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ শীর্ষক ওই আলোচনায় অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাংবাদিক ও কলামিস্ট স্বদেশ রায়।

অনুষ্ঠানে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের মধ্য দিয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই পাকিস্তানিদের হাতে ১৯৭১-এ আমরা গণহত্যার শিকার হয়েছি, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি কোনো বাঙালি ন্যূনতম চেতনা ধারণ করলে এবং আত্মসম্মান বোধ থাকলে পাকিস্তানের সঙ্গে মিত্রতা তৈরি করবে না। আমি ব্যক্তিগত ও দলীয় অবস্থান থেকে বলতে চাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সুতরাং এই আওয়ামী লীগ একাত্তরের পরাজিত শক্তির সঙ্গে কোনো মিত্রতা করবে না।’

সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারতীয় সেনাদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন। এ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে হানিফ বলেন, কোনো একটি টেলিফোন কলের মাধ্যমে সম্পর্কের ভিত্তি বিবেচনা করা সমীচীন নয়।

১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্টের হামলা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের প্রায় সকলকে হত্যা, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল হত্যা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা একই সূত্রে গাথা। একই কারণে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:  খালেদা জিয়ার ‘ভুয়া’ জন্মদিনে উপহার পাঠানোয় চীনের ‘দুঃখ’ প্রকাশ

কুষ্টিয়া-৩ আসনের এ সাংসদ বলেন, ’৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড শুধু ক্ষমতা পালাবদলের হত্যাকাণ্ড নয়, এটা ছিল ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা পরাজিত হয়েছিল তাদের ষড়যন্ত্র। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করে দেয়া। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা এবং আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে শেষ করে দেয়া।

এ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পরে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা কি কি কাজ করেছিলেন। জিয়া ক্ষমতায় এসে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের হত্যার দায় থেকে মুক্তি দিলেন। হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন জিয়া।

হানিফ বলেন, জিয়া ক্ষমতায় এসে দালাল আইন বাতিল করে দিলেন। এর ফলে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী সাড়ে ১১ হাজার আসামিকে মুক্ত করে দিলেন। তিনি জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করলেন। কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে আনলেন। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি তখন নিষিদ্ধ ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিয়ে জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে মূলত বাংলাদেশকে পাকিস্তানের তাবেদার রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন।

‘ ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর ওই জিয়াউর রহমান তাকে(শেখ হাসিনা) ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়নি। এমনকি একটি মিলাদেও অংশ নিতে দেয়নি। তখন আমাদের নেত্রী রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নিয়েছিলেন। নেত্রী ফিরে আসার পর আবার ওই পরাজিত শত্রুরা একত্রিত হয়ে নেত্রীর ওপর একাধিক বার হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলীয় অফিসের সামনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইতিহাসের জঘণ্যতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ২১ আগস্টের হামলার সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারস খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং তার মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী জড়িত ছিল এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।’

আরও পড়ুন:  আর্তমানবতার সেবায় ছাত্রদলের সোনালী অতীত সেলিনা সুলতানা নিশিতা

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমি একজন বিচারপতি হিসেবে অজ্ঞ যে কিভাবে ২১ আগস্টের মামলা থেকে খালেদা জিয়া বাদ গেলেন। আমি মামলার রায় পড়েছি। খালেদা জিয়া ওই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বাবর, যাকে সাজা দেয়া হয়েছে, তিনি ওই সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী জড়িত, একজন প্রতিমন্ত্রী এবং দুই জন সংসদ সদস্য জড়িত। সবচেয়ে বড় কথা হলো এনএসআই, ডিজিএফআই এবং পুলিশের আইজি জড়িত। তাই এর সঙ্গে খালেদা জিয়াও জড়িত এটা পরিষ্কার।

তিনি বলেন, আমাদের যে ফৌজদারী আইন রয়েছে সে অনুযায়ী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। ফৌজদারী আইনে বলা আছে একটি মামলা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে আবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা শুরু করা যায়।

সাংবাদিক স্বদেশ রায় বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হামলা ছিল পথম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড ছিল সেনাবাহিনীর একটি অংশের অংশগ্রহণে। আমি এটাকে হত্যা বলবো না, এটা গণহত্যা।

তিনি বলেন, সাংবাদিক হিসেবে ২১ আগস্টের ঘটনার আমিও প্রত্যক্ষদর্শী। ঘটনার কয়েক মিনিট পরে সচিবালয়ের পাশে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি দেখতে পাই। ওই সময় রাজধানীতে সেনাবহিনীর কোনো গাড়ি থাকার কথা নয়। কারণ তখন কারফিউ ছিল না।

আলোচনায় অংশ নেয়া অন্য অতিথিরা বলেন, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের বর্বর হত্যাকাণ্ডের পেছনের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কারা সেদিন পেছনে থেকে কলকাঠি নেড়েছিল তা পুনঃতদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 12
    Shares