প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য

প্র’য়ো’জনের অ’তি’রিক্ত চি’নি ডেকে আনবে বি*প*দ

20
প্র’য়ো’জনের অ’তি’রিক্ত চি’নি ডেকে আনবে বি*প*দ
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

আমা’দের খাদ্য তালিকার অন্যতম উপাদান কার্বোহাইড্রেট। যা শরীরে ভে’ঙ্গে গ্লুকোজ তৈরি হয়। এই গ্লুকোজটাই হলো চিনি। আমা’দের শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এই গ্লুকোজ।এশিয়া অঞ্চলে বসবাসকারী প্রা’প্তবয়ষ্কদের জন্য মোট ক্যালরির ৫৫% থেকে ৬০% আসে গ্লুকোজ থেকে। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার

আমা’দের শরীরে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। তাই আমা’দের শরীরে কার্বোহাইড্রেট দরকার। চিনি ভে’ঙ্গে যে গ্লুকোজ হয় সেটা আমা’দের শরীরে শোষণ হয়। সরাসরি চিনি খেলে সেটা কিন্তু শোষণ হবে না। গ্লুকোজ ভে’ঙ্গে এটি এটিপি তৈরী করে যে এটিপি থেকে আমর’া শক্তি পাই। আমা’দের শরীর কর্মক্ষম থাকে।

কিন্তু চিনি শুধু খেলেই হবে না। কতোটুকু চিনি খাব, কোন ধরনের চিনি খাব বা চিনি খাওয়ার পর করণীয় কী- এসব নিয়ে রয়েছে নিয়ম কানুন। সেই নিয়ম কানুনে হেরফের হলে ’হতে পারে বিপদ। তাই আমর’া আজ চিনির ক্ষ’তিকর দিকগু’লো নিয়েই আলাপ করব। আমর’া যেটাকে সাদা চিনি বলি অর্থাৎ রিফাইনড চিনি সেটা আমা’দের শরীরের জন্য ক্ষ’তিকর।

তবে সরাসরি আখ থেকে উৎপাদিত চিনি (লাল চিনি) শরীরের জন্য ক্ষ’তিকর নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনি আমা’দের জন্য ক্ষ’তিকর। চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার বেশী খেলে আমা’দের শরীরে ক্যালরি বেশী আসে। আমর’া যদি ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করি তাহলে শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা ’হতে থাকবে।

এই অতিরিক্ত ক্যালরি ব্যাব’হৃত হওয়ার সুযোগ না পায় বা বার্ণ ’হতে না পেরে জমা ’হতে থাকে তাহলে ফ্যাটি লিভার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোলস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। ফলে স্ট্রোক করতে পারেন। র’ক্তচাপ বৃ’দ্ধি পাবে। ওবেসিটি ’হতে পারে। ওবেসিটির ফলে ওজন আধিক্যের কারণে ডায়াবেটিস ’হতে পারে।

হৃদযন্ত্র ও কিডনির নানা ধরনের রোগ দেখা দিবে। লিভারের নানা অসুখ ’হতে পারে। বয়সের তুলনায় দ্রুত বার্ধক্য জলে আসবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাব’ে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ক্যান্সার ও এইডস জাতীয় ঘা’তক ব্যাধিগু’লো সহজে শরীরে বাসা বাঁধার সুযোগ পায়।

আরও পড়ুন:  কচু শাক শুধু দৃ’ষ্টি’শ’ক্তি’ই বা’ড়ায় না, কমায় হৃ’দ’রো’গ-ডা’য়া’বে’টিসের ঝুঁ’কিও

আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে পূর্ণবয়স্ক একজন পুরুষ দৈনিক নয় চা চামচ ও একজন নারী দৈনিক ছয় চা চামচ চিনি গ্রহণ করতে পারবে। তবে এটা নির্ভর করে শারীরিক পরিশ্রমের উপর।

সারাদিন ডেস্কে কাজ করে এমন একজন লোকের যে পরিমাণ ক্যালরি দরকার হয় একজন রিক্সাচালকের তারচেয়ে অনেক বেশি ক্যালরি দরকার হয়। একজন রিক্সাচালক যদি দৈনিক ১৫ চামচ চিনিও খায় তাহলে সমস্যা হবে না। কিন্তু শারীরিক পরিশ্রম করেনা এমন একজন লোক যদি পনের চামচ চিনি খায় তাহলে অল্প কিছুদিন পরেই বিপদ দেখা দিবে।

অস্বীকার করার উপায় নেই, চিনি বা চিনিজাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ সবার আছে। তাই যদি প্রয়োজনের বেশী চিনি আমর’া খেয়েও ফেলি সেটা জোরে হাঁটা, দৌড়ানো, শারীরিক পরিশ্রম সহ নানা ভাবে বার্ণ করে ফেলতে হবে। সেজন্য সকালে বা বিকালে বা সন্ধ্যায় দশমিনিট করে হাঁটা যেতে পারে। হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। ফলে ঘাম হবে। অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ণ হয়ে যাব’ে।

যারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করে তাদের ডায়াবেটিস সব সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। ডায়াবেটিস থেকে আরও বেশী সমস্যা হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের র’ক্তে চিনির পরিমাণ বেশী থাকে। `ইনসুলিন` নামক হরমোনটা চিনিটাকে কাজে লাগায়। কোন কারণে যদি ইনসুলিন ব্যবহার করা সম্ভব না হয় তাহলে এই সুগার র’ক্ত ও ইউরিনে চলে আসে। ডায়াবেটিক রোগীদের র’ক্তে এমনিতেই সুগারের পরিমাণ বেশী থাকে। তাই তাদেরকে সতর্ক করা হয় যাতে করে শরীরে সুগার পরিমাণ আরও বেড়ে না যায়।

আরও পড়ুন:  যে কাজটি করলে, কখনোই আপনার গ্যা’স্ট্রি’কে’র স’ম’স্যা থাকবে না

সুগারের কিন্তু অনেক রকমফের আছে। আমর’া ভাতের সাথেও সুগার পাই আবার মিষ্টি খেলে সেখান থেকেও সুগার পাই। তবে মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবার থেকে যে চিনি পাই তা সরাসরি র’ক্তে গিয়ে মিশে। ফলে র’ক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে যায়। রোগীর তখন অস্বস্তি বেড়ে যায়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

তাই ডায়াবেটিক রোগীদের বলা হয় যেন কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট (অ’পরিশোধিত শর্করা) গ্রহণ করতে বলা হয়। যা হজম ’হতে সময় লাগে। যেমন ভাত ও রুটি থেকে প্রায় সমপরিমাণ ক্যালোরি আসে। কিন্তু আমর’া ডায়াবেটিক রোগীদের ভাত না খেয়ে রুটি খেতে বলি। কারণ ভাত খুব তাড়াতাড়ি হজম হয় ও র’ক্তে গ্লুকোজ মিশে যাচ্ছে। যতো তাড়াতাড়ি খাবার হজম হবে ততো তাড়াতাড়ি পরবর্তী খাবার খাওয়ার তাগিদ আপনি অনুভব করবেন।

কিন্তু রুটি খেলে কাজটা খুব ধীরগতিতে হবে। ওটস খেলেও ধীরগতিতে ভা’ঙ্গবে। কারণ এগু’লো কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। ফলে অনেক্ষণ ধরে আপনার ক্ষুধা লাগবে না। ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের আমর’া যেটা বলি, কম খেতে হয়, সেটা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বা অ’পরিশোধিত শর্করা খেলে মেনে চলা সম্ভব।চিনিতে আমর’া যে উপাদান পেয়ে থাকি তা কিন্তু অন্যান্য খাদ্যেও উপাদান হিসেবে পাওয়া যায়। তাই অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। লেখক: ডায়াটেশিয়ান ও নিউট্রিশিয়ানিস্ট, বিআরবি হসপিটাল, ঢাকা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares