প্রচ্ছদ ফেসবুক থেকে বিভিন্ন দেশের জাতীয় সংগীত শুনে ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে করবে না যেমনটা ‘আমার...

বিভিন্ন দেশের জাতীয় সংগীত শুনে ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে করবে না যেমনটা ‘আমার সোনার বাংলা’ শুনে করে

252
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলার গানের প্রতিযোগিতা ‘সারেগামাপা’য় একের পর এক গান গেয়ে আলোচনায় এসেছেন মাঈনুল আহসান নোবেল। এই মঞ্চে গান গেয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর ভক্ত তৈরি হয়েছে তাঁর। এ জনপ্রিয়তা পাওয়ার পেছনে আছে দুই বাংলার সুপারহিট কিছু গান। ভক্তদের কাছে তিনি ‘নোবেলম্যন’ নামে পরিচিত। জনপ্রিয় গানগুলো নতুন আয়োজনে নোবেল উপস্থাপন করেছেন ‘সারেগামাপা’র মঞ্চে। নোবেল এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন।

advertisement

একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ যতটা না দেশকে এক্সপ্লেইন করে তারচেয়ে কয়েক হাজার গুণে এক্সপ্লেইন করে প্রিন্স মাহমুদ স্যারের লেখা ‘বাংলাদেশ’ এই গানটা।’ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান মাঈনুল আহসান নোবেলকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন

বাংলা ম্যাগাজিন পাঠকদের জন্য এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের  ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

জাতীয় সংগীত কোন ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে এর পরিবর্তন করা যাবে না। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হয়েছে। জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া (সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ) ফ্রান্স, জার্মানি, চীন থেকে শুরু করে আফগানিস্থান পর্যন্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন:  বা'সর ঘরে চি*ৎকা'র করা যাবে না , র*ক্তক্ষ'রণে কিশোরীর মৃ*ত্যু

সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৮ বার জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হয়েছে রাশিয়ায়। জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ঘটনাটাও রাশিয়াতেই ঘটেছে। রুশ বিপ্লবের পর ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল’ কে সোভিয়েত ইউনিয়নের জাতীয় সংগীত করা হয়েছিল। স্ট্যালিন ক্ষমতায় এসেই জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের ফন্দি করছিলেন। ১৯৪৪ সালে তিনি মওকামত মতো নিজের নাম ঢুকিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করে নেন। মৃ*ত্যুর পরে অবশ্য জাতীয় সংগীত এর ভেতর থেকে স্ট্যালিনের নামের অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়েছিল।

গায়ক নোবেল বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে তার নিজের পছন্দের কথা বলেছেন। তিনি বলেন নি যে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করতে হবে। বললেও আমি দোষের কিছু দেখতাম না। কারণ, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে আমার নিজেরও কিছুটা দ্বিমত রয়েছে।

প্রথমতঃ ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের সবচেয়ে ভালো ভার্সনটি হচ্ছে জীবন থেকে নেয়া সিনেমায় ব্যবহৃত। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যে অর্কেস্ট্রা ভার্সনটি বাজানো হয়, ‘রয়েল ফিলহার্মনিক অর্কেস্ট্রা’র বাজানো সেই ভার্সনটি আমার ভালো লাগেনা। তাছাড়া এটি অতিরিক্ত লম্বা।

আরও পড়ুন:  প্রিয়া সাহার ভ*য়ানক মি*থ্যাচা*রকে সমর্থন করে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

দ্বিতীয়তঃ ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি অনেক পুরাতন এবং বাংলাদেশকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করে না। বরং পুরাতন হলেও ডি এল রায়ের ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ গানটি বাংলাদেশকে অনেক বেশি হবে রিপ্রেজেন্ট করে।

তৃতীয়তঃ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জাতীয় সংগীত শুনে দেখবেন; মিউজিক এর ভেতর একটা তেজ পাবেন, শুনে আপনার ভেতর উদ্দীপনা জাগবে। ওই সব গান শুনে আপনার ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে করবে না, যেমনটা ‘আমার সোনার বাংলা’ শুনে ইচ্ছে করে।

এই বিষয়গুলো বিবেচনা করলে নোবেল আমাদের জাতীয় সংগীত নিয়ে সত্যিকারের কথাগুলোই বলে ফেলেছে।

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান

এখন দেখছি একদল উ*ন্মাদ নোবেল এর উপর ভার্চুয়ালি ঝাঁপিয়ে পড়েছে! এই উন্মাদদের মাথায় সামান্যতম বুদ্ধি থাকলে এই কাজটা তারা করত না। আফসোসের বিষয় হচ্ছে দেশ ও জাতির অনেকেই এদের ‘বুদ্ধিজীবী’ বা ‘গজায়মান বুদ্ধিজীবী’ বলে মনে করে!

আমি নোবেল এর পাশে দাঁড়ালাম। আপনারাও দাঁড়ান।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের তালিকা: https://bit.ly/2Yxy7Wz   ।      সুত্র ফেসবুক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 2
    Shares
advertisement