প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন শিক্ষক বরখাস্তের চিঠিতে শিক্ষা কর্মকর্তার ২২ বানান ভুল

শিক্ষক বরখাস্তের চিঠিতে শিক্ষা কর্মকর্তার ২২ বানান ভুল

121
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

শিক্ষার্থীরা ইংরেজি পড়তে না পারায় এক শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামান। কিন্তু শিক্ষিকাকে বরখাস্তের ওই চিঠির ২২ জায়াগায় বানান ভুল করেছেন খোদ ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ইংরেজি পড়তে না পারায় শেখ মো. আক্তারুজ্জামান ওই স্কুলের এক ইংরেজি শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেন। গত ৩১ জুলাই নার্গিস সুলতানা ছবি নামের ওই শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু বরখাস্ত জারি করা সরকারি ওই নোটিশের ২২ জায়গায় রয়েছে বানান ভুল।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকরা বলেন, ’শিক্ষার্থীদের ভুলে যদি শিক্ষক বরখাস্ত হন, তাহলে জেলা শিক্ষা অফিসারের ভুলে কে বরখাস্ত হবেন?’ এদিকে সরকারি চিঠির ২২ জায়গায় ভুল থাকায় এটি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে সর্বত্র। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এমনকি সরকারি চিঠিতে এত ভুল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। অনেকেই আবার প্রশ্ন তুলছেন জেলা শিক্ষা অফিসারদের দক্ষতা নিয়ে।

আরও পড়ুন:  অবশেষে সরানো হলো ইউপি চেয়ারম্যানের গু*জব ছড়ানো সেই টিউবওয়েল

বিষয়টি জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ’ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একটি শিক্ষার্থীও ইংরেজি রিডিং পড়তে পারেনি। এমনকি যার রোল নম্বর দুই সেও না। শিক্ষিকা নার্গিস সুলতানা নিজেও রিডিং পড়তে গিয়ে দুটি শব্দ ভুল করেছেন।

এছাড়া ওই শিক্ষিকা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান করেন না। তাই তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রজু করা হবে।’

ভুল বানানের বিষয়ে তিনি বলেন, তার বয়স ৫০ বছরের বেশি। তার চশমাটাও কে বা কারা নিয়ে গেছে। তাই বরখাস্তের চিঠিটি তিনি মুখে বলেছেন এবং তার প্রধান সহকারী সেটি লিখেছেন। চশমা না থাকায় চিঠিটি তিনি ঠিকমতো দেখতে পারেননি। সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। কিন্তু পরে যখন বানান ভুলের ব্যাপারটি জেনেছেন তখনই আবার একই স্মারকে সংশোধন করে দিয়েছেন সেটি।

আরও পড়ুন:  ৩২৯ ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীকে আ’টক করেছে বিজিবি

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মঞ্জুর কাদির বলেন, ’শিক্ষার্থীরা ইংরেজি পড়তে না পারায় শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা ঠিক হয়নি। যদি শিক্ষকের দক্ষতার অভাব থাকে তাহলে তাকে সময় দিতে হবে। কিন্তু জেলা শিক্ষা অফিসার যে ভুল করেছেন সেটি তার অপরাধ ও অদক্ষতা।’ তিনি বিষয়টি দেখবেন বলেও জানান।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: