প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

ওসি প্রদীপের মামলা থেকে জামিনে মুক্ত সাংবাদিক ফরিদ

32
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের পদত্যাগ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দীর্ঘ ১১ মাস ৫ দিন পর জামিনে কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন। এ সময় স্ত্রী হাসিনা আকতার, বোন ফাতেমা আকতার বেবি, সালমা আকতার, মেয়ে সোমাইয়া মোস্তফা, ছেলে শাহেদ মোস্তফা, সাজেদুল মোস্তফাসহ স্বজনেরা ফরিদকে বরণ করে নেন।

ফরিদ মুক্তি পাচ্ছে, এমন খবরে বিকাল থেকে কারাগারের আশে পাশে জড়ো হয় সহকর্মীরা। ফরিদুল মোস্তফার কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপার মোকাম্মেল হোসেন। এর আগে দুপুরে টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-এসটি ২৮১/২০২০, জিআর-৫৭৭/২০১৯ শুনানি শেষে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত ফরিদকে জামিন দেন যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান।

মামলার শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন কক্সবাজার জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম ছিদ্দিকী, সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল মন্নান ও এডভোকেট রেজাউল করিম রেজা। মামলাটির বাদি ছিলেন টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ।

মেজর (অবঃ) সিনহার হত্যা মামলার আসামী টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সর্বশেষ তিনটি মামলায় তাকে আসামী বানিয়েছিলেন।

ফরিদুল মোস্তফা খানের পক্ষে নিযুক্ত প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল ফৌজদারী মিস মামলার মূলে জি.আর ১০২৫/২০১৯, (অবৈধ দুইটি অস্ত্র ও ৫ রাউন্ড গুলি) এবং জি.আর ১০২৬/২০১৯ (৪ হাজার পিচ ইয়াবা) পুলিশের সাজানো মামলা দুইটি শুনানী শেষে বুধবার জামিন দেন বিজ্ঞ বিচারক।

আরও পড়ুন:  পরিত্যক্ত আমের বিচিতে বছরে আয় ৫ লক্ষাধিক টাকা

এই মামলা দুইটি ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টের ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়ের করেছিল পুলিশ। এর আগে গত ১ মার্চ জি.আর ১০২৭/২০১৯ (বিদেশি মদ উদ্ধার) মামলায় জামিন প্রদান করেন একই আদালত। তিনি আরো জানান, টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপের দালাল মৌলভী মুফিজ ও জহিরের গায়েবি চাঁদাবাজির মামলা (টেকনাফ থানা মামলা নং-১১৫/২০১৯, ৩০ জুন ২০১৯) থেকে গত ১৩ আগস্ট জামিন প্রদান করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রাজজ মোহাম্মদ ইসমাইল। এছাড়া ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-৪২/২০১৯ (জি.আর ৭৭৮/২০১৯) থেকে ১৯ আগস্ট জামিন প্রদান করেন টেকনাফের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ।

এ নিয়ে ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৬টি মামলারই জামিন হলো। আশা করা হচ্ছে, ১১ মাসের কারাবাস থেকে সাংবাদিক ফরিদ আজকেই কারামুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন স্বাভাবিক জীবনে।

২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার বাড়িতে তাকেসহ নিয়ে গিয়ে কথিত অভিযান চালানো হয়। ওই সময় গুলিসহ ২টি অস্ত্র, ৪ হাজার ইয়াবা ও বিপুল পরিমান বিদেশী মদের বোতল উদ্ধার হয় বলে পুলিশ দাবী করে। যদিও পরিবারের দাবী, এসব নাটক। সম্পূর্ণ সাজানো।

আরও পড়ুন:  ঈদগাহে নয়, মসজিদেই ঈদুল আজহার জামাত

গত বছরের ৩০ জুন ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় চাঁদাবাজি মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং- ১১৫, জিআর নং-৩১৬/১৯। এরপর তাকে পুলিশ হন্য হয়ে খোঁজতে থাকে। আত্মরক্ষায় ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যায় ফরিদুল মোস্তফা। নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর গত বছরের ২৮ জুলাই পৃথক আবেদনও করেন।

সাংবাদিক ফরিদের পরিবারের দাবী, উক্ত আবেদনের তদন্ত না করে উল্টো টেকনাফ থানা ও কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মিরপুর থানার পুলিশের সহায়তায় ‘ওয়ারেন্ট’ দেখিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারাগারে না পাঠিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।

 

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 149
    Shares