প্রচ্ছদ অপরাধ যার কারনে ই*য়া’বা মি*শ্রিত পা*নি খাইয়ে জো*র করে স্বী*কারো*ক্তি নেয়া হয়

যার কারনে ই*য়া’বা মি*শ্রিত পা*নি খাইয়ে জো*র করে স্বী*কারো*ক্তি নেয়া হয়

271
পড়া যাবে: 3 মিনিটে
advertisement

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হ*ত্যা মা*মলার প্রধান সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে আ*টকের পর প্র*চণ্ড শারীরিক ও মা*নসিক নি*র্যাতন করা হয়েছে। বরগুনার পুলিশলাইনসে একটি কক্ষে নিয়ে তাকে টানা ১০-১২ ঘণ্টা নি*র্যাতন করা হয়। এমনকি তাকে ই*য়াবা মি*শ্রিত পানি খা*ইয়ে জোর করে স্বী*কারো*ক্তি নেয়া হয়। রাতভর আ*টকে রেখে পুলিশের লিখে দেয়া স্বী*কারোক্তিমূ*লক জ*বানব*ন্দি তাকে মুখস্ত করানো হয়। বাবা-মাকে আ*টক ও নি*র্যাতনের হু*মকি দিয়ে তাকে দিয়ে আদালতে জ*বানব*ন্দি দেয়ানো হয়।

advertisement

রোববার মিন্নির মা-বোনসহ তার স্বজনরা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের কাছে নৃ*শং*স এই নি*র্যাত*নের বর্ণনা দেন মিন্নি। মেয়ের মুখ থেকে শোনা নৃ*শং*স নি*র্যাতনে*র ঘটনা সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে কা*ন্নায় ভে*ঙে পড়েন মিন্নির মা জিনাত জাহান।

মিন্নির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার পরিবারের সদস্যরা জেল গেটে সাংবাদিকদের জানান, রোববার কারাগারে পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ মিন্নির খোঁজখবর নেন। এ সময় মিন্নি তার ওপর যে নি*র্যাত*ন চালানো হয়েছে সে কথা ডিসিকে জানান।

মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি বলেন, আমার মেয়ে আমাকে বলেছে- ১৬ জুলাই পুলিশ মিন্নিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে ১২-১৩ ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক নি*র্যাতন চালায়। পুলিশলাইনে একটি কক্ষে এএসআই রিতার নেতৃত্বে ৪-৫ পুলিশ সদস্য তাকে শা*রীরি*ক নি*র্যাতন করেছে এবং মা*রধ*র করেছে। এ সময় পানি পান করতে চাইলে তাকে পানিটুকুও দেয়া হয়নি।

মিন্নির বরাত দিয়ে তার মা আরও জানান, ১৬ জুলাই রাতে মিন্নিকে গ্রে*ফতা*র দেখানোর পর ওই রাতেই পা*নির সঙ্গে ই*য়াবা ট্যা*বলে*ট মিশিয়ে তাকে পানি খেতে দেয়া হয়। একটি সাদা কাগজে লিখিত বক্তব্য দিয়ে তাকে মুখস্থ করতে পুলিশ বারবার চা*প দিয়েছে। যতক্ষণ মুখস্থ বলতে না পেরেছে ততক্ষণ পর্যন্ত রিতা ও তার সহযোগীরা তাকে নি*পীড়*ন করে। পুলিশ মিন্নিকে ভ*য় দেখিয়ে বলে লিখিত বক্তব্য আদালতে না বললে তার বাবা-মা ও চাচাদের ধ*রে আনা হবে। আর এ সব করা হয়েছে আসল আ*পরাধিদে*র বাঁচানোর জন্য

আরও পড়ুন:  ‘আরেকটু আস্তে ধরুন’

এ সময় মিন্নির মা জানান, মিন্নির আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে পুলিশ খুঁজছে। নিজেদের নি*রাপত্তাহী*নতার কথাও সাংবাদিকদের তুলে ধরে মিন্নির মা বলেন, আমার ছোট্ট ছেলেমেয়েরা আজ স্কুলে যেতে পারছে না। স*ন্ত্রাসী*রা বাড়ির আশপাশে ঘুর ঘুর করছে। এর আগে মিন্নির বাবাও মেয়ের পুলিশ হে*ফাজতে নি*পীড়নে*র অ*ভিযোগ করেছেন।

প্রসঙ্গত ২৬ জুন রিফাতকে প্র*কাশ্য সড়কে কু*পিয়ে হ*ত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পর দিন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আ*সামি করে যে মা*মলাটি করেন, তাতে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল।

১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জি*জ্ঞাসাবা*দ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশলাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জি*জ্ঞাসাবা*দ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রে*ফতা*র করে পুলিশ।

পর দিন মিন্নিকে আদালতে হা*জির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আ*ইনজীবী ছিলেন না। আদালত মিন্নির পাঁচ দিনের রি*মান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী। পর দিন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হ*ত্যা কা*ণ্ডে জ*ড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হ*ত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

এর পর দিন বিকালে মিন্নি একই আ*দালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হ*ত্যা কা*ণ্ডে জ*ড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বী*কারো*ক্তিমূ*লক জ*বান ব*ন্দি দেন। পরে আদালত তাকে জে*লহাজ*তে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:  ঘটনা মোড় নিচ্ছে অন্যদিকে,রি*মান্ডে নতুন ত*থ্যের পর মিন্নির বাড়িতে ঘর তুললো পুলিশ

প্রসঙ্গত বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কু*পিয়ে জ*খম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃ*ত্যু হয়।

এ হ*ত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তো*লপাড় শুরু হয়। হ*ত্যা*কা*ণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আ*সামি করে মা*মলা করেন। এ ছাড়া স*ন্দেহভাজন অ*জ্ঞাতনা*মা আরও চার-পাঁচজনকে আ*সামি করা হয়। এ মা*মলার প্রধান আ*সামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ব*ন্দুক যু*দ্ধে নি*হত হয়। মা*মলার এ*জাহা*রভু*ক্ত ছয় আ*সামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রে*ফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই স্বী*কারো*ক্তিমূল*ক জ*বানব*ন্দি দিয়েছে।

এদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের দাবি, মিন্নির কাছ থেকে জো*র করে জ*বানব*ন্দি নেয়া হয়েছে। তিনি এ হ*ত্যা মা*মলার এক নম্বর সা*ক্ষীকে (মিন্নি) আ*সামি করা ও রি*মান্ডে নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে দা*য়ী করে আসছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, ‘সবকিছুই শম্ভু বাবুর খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে রক্ষা করার জন্য আমার মেয়েকে ব*লি দেয়া হচ্ছে।’ শম্ভুর ছেলে সুনামের বিরুদ্ধে কিশোরের অ*ভিযোগ, তার জন্যই এতদিন মিন্নির পক্ষে আদালতে দাঁড়াননি আইনজীবীরা। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু সমালোচনার পর বরগুনা ও ঢাকার আইনজীবীদের একটি অংশ মিন্নির পক্ষে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

advertisement