প্রচ্ছদ জেলা মাথায় অ*স্ত্র ঠে*কিয়ে নয়ন বন্ডের মতো গু*লি করে মে*রে ফেলার হু*মকি দেয়...

মাথায় অ*স্ত্র ঠে*কিয়ে নয়ন বন্ডের মতো গু*লি করে মে*রে ফেলার হু*মকি দেয় পুলিশ

294
পড়া যাবে: 7 মিনিটে
advertisement

আদালতে রিফাত শরীফ হ*ত্যার দা*য় স্বীকার করে তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জ*বানব*ন্দি দিয়েছেন। তবে তার পরিবারের দাবি, মিন্নির কাছ থেকে জোর করে স্বী*কারো*ক্তিমূল*ক জ*বানব*ন্দি নেয়া হয়েছে।

advertisement

মিন্নির মা মিলি আক্তারের অভিযোগ- মিন্নিকে রি*মান্ডে নিয়ে ট্যাবলেট খা*ইয়ে জ*বানব*ন্দি নেয়া হয়েছে। তাকে ভ*য় দেখিয়ে ও নি*র্যাতন করে এই জ*বানব*ন্দি দিতে রাজি করানো হয়েছে। পুলিশের লিখে দেয়া জ*বানব*ন্দি রাতভর মুখস্ত করানো হয়েছে। পরে আদালতে সেই জ*বানব*ন্দি দিতে মিন্নিকে বাধ্য করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা মাইঠা এলাকার বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে এসব কথা বলেন রিফাত শরীফ হ*ত্যা মা*মলার আ*সামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির মা। এর আগের দিন রোববার মিন্নির মা-বোনসহ তার স্বজনরা কা*রাগা*রে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের কাছে এসব কথা জানান মিন্নি।

মিন্নির বরাত দিয়ে মা মিলি আক্তার জানান, পুলিশের নি*র্যাতন ও ভয়ে মিন্নি আদালতে পুলিশের লিখে দেয়া জ*বানব*ন্দি দিয়েছে। মিন্নিকে ই*য়াবা ট্যা*বলেট মে*শানো পা*নি খাইয়ে জো*র করে স্বী*কারো*ক্তিমূল*ক জ*বানব*ন্দি নেয়া হয়েছে। রি*মান্ডের নামে আ*টকে রেখে রাতভর পুলিশের লিখে দেয়া জ*বানব*ন্দি মুখস্থ করানো হয় তাকে। সেই জ*বানব*ন্দি না দিলে মা-বাবাকে আ*টক করে নি*র্যাত*ন করা হবে বলেও হু*মকি দেয় রিতা নামের এক এএসআই। পুলিশি নি*র্যাতন ও ভ*য়ে মিন্নি আদালতে পুলিশের লিখে দেয়া জ*বানব*ন্দি দিয়েছেন।

মেয়ের মুখ থেকে শোনা নৃ*শংস নি*র্যাত*নের ঘটনা সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে কা*ন্নায় ভেঙে পড়েন মিন্নির মা মিলি আক্তার। তিনি বলেন, ‘রি*মান্ডে নিয়ে মেয়েটাকে তিন দিন পুলিশ না খা*ইয়ে রেখেছে। একটু পা*নি খেতে চাইলেও তাকে দেয়া হয়নি। বড়ির কথা বলে একপর্যায়ে ট্যা*বলেট মি*শিয়ে তাকে পা*নি খেতে দেয়া হয়। পুলিশের লেখা জ*বানব*ন্দি মুখস্থ করানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে। এতে মিন্নি বারবার অ*জ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেও পুলিশের মন গলেনি।’

মিন্নির বরাত দিয়ে লিপি আরও বলেন, ‘পুলিশ আমার মেয়েকে বলতে বলে- তুমি আদালতে বলবা, আমার স্বামী তো ভালো না, তাই হালকা পাতলা মা*ইর দে*য়ার কথা বলেছি।’ এমনটি বললে মিন্নির সা*জা কম হবে বলে তাকে আ*শ্বস্ত করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:  সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন করে বো*মা ফা*টালেন মিন্নি

মিন্নির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার পরিবারের সদস্যরা জে*লগে*টে সাংবাদিকদের জানান, রোববার কারাগারে পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ মিন্নির খোঁজখবর নেন। এ সময় মিন্নি তার ওপর যে নি*র্যাত*ন চালানো হয়েছে, সে কথা ডিসিকে জানান। তবে ডিসি মিন্নির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

মিন্নির মা আরও বলেন, আমার মেয়ে আমাকে বলেছে- ১৬ জুলাই পুলিশ মিন্নিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে ১২-১৩ ঘণ্টা শা*রীরি*ক ও মা*নসিক নি*র্যাতন চালায়। পুলিশলাইনে একটি কক্ষে এএসআই রিতার নেতৃত্বে ৪-৫ পুলিশ সদস্য তাকে শা*রীরি*ক নি*র্যাতন করেছে এবং মা*রধ*র করেছে। এ সময় পা*নি পান করতে চাইলে তাকে পানিটুকুও দেয়া হয়নি।

রিফাত শরীফ হ*ত্যার আ*সামি রিফাত ও রি*শান কে দিয়েও পুলিশ মিন্নির জ*ড়িত থাকার বিষয়ে জো*র করে স্বী*কারো*ক্তি নিয়েছে বলেও দাবি করেন তার মা মিলি আক্তার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে জবানবন্দি দিতে অ*স্বীকৃতি জানালে তার মা*থায় অ*স্ত্র ঠেকিয়ে নয়ন বন্ডের মতো গু*লি করে মে*রে ফে*লার হু*মকি দেয়া হয়। রিফাত , রি*শান আমার মেয়ের সামনে এনে বলতে বলে—বল, তোদের সঙ্গে মিন্নিও জ*ড়িত ছিল। প্রথম দিকে না বললেও পুলিশের চাপে ও শারীরিক নি*র্যাত*নের একপর্যায়ে তারা তা বলতে বাধ্য হয় এবং মিন্নি এ ঘটনায় জ*ড়িত ছিল বলে আদালতে স্বী*কারো*ক্তিমূ*লক জ*বানব*ন্দি দেয়।’

এ সময় মিন্নির মা জানান, মিন্নির আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে পুলিশ খুঁজছে। নিজেদের নি*রাপত্তাহী*নতার কথাও সাংবাদিকদের তুলে ধরে মিন্নির মা বলেন, আমার ছোট্ট ছেলেমেয়েরা আজ স্কুলে যেতে পারছে না। স*ন্ত্রাসী*রা বাড়ির আশপাশে ঘুর ঘুর করছে।

প্রসঙ্গত ২৬ জুন রিফাতকে প্র*কাশ্য সড়কে কু*পিয়ে হ*ত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পর দিন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আ*সামি করে যে মা*মলা*টি করেন, তাতে মিন্নিকে প্রধান সা*ক্ষী করা হয়েছিল।

১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জি*জ্ঞাসাবা*দ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশলাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জি*জ্ঞাসাবা*দ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রে*ফতার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:  চা*ঞ্চল্যক*র তথ্য : একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করেই রিফাত হ*ত্যা

পর দিন মিন্নিকে আ*দালতে হা*জির করা হয়। আ*দালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত মিন্নির পাঁচ দিনের রি*মান্ড আ*বেদন ম*ঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।

পর দিন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হ*ত্যাকা*ণ্ডে জ*ড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হ*ত্যার প*রিকল্প*নার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

এর পর দিন বিকালে মিন্নি একই আ*দালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হ*ত্যাকা*ণ্ডে জ*ড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বী*কারো*ক্তিমূল*ক জ*বানব*ন্দি দেন। পরে আ*দালত তাকে জে*লহাজ*তে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কু*পিয়ে জ*খম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃ*ত্যু হয়।

এ হ*ত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আ*সামি করে মা*মলা করেন। এ ছাড়া স*ন্দেহভা*জন অ*জ্ঞাতনা*মা আরও চার-পাঁচজনকে আ*সামি করা হয়। এ মা*মলার প্রধান আ*সামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ব*ন্দুকযু*দ্ধে নি*হত হয়। মা*মলা*র এ*জাহা*রভু*ক্ত ছয় আ*সামি সহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রে*ফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই স্বী*কারো*ক্তিমূল*ক জ*বানব*ন্দি দিয়েছে।

এদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের দাবি, মিন্নির কাছ থেকে জো*র করে জ*বানব*ন্দি নেয়া হয়েছে। তিনি এ হ*ত্যা মা*মলার এক নম্বর সাক্ষীকে (মিন্নি) আ*সামি করা ও রি*মান্ডে নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে দা*য়ী করে আসছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, ‘সবকিছুই শম্ভু বাবুর খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে রক্ষা করার জন্য আমার মেয়েকে ব*লি দেয়া হচ্ছে।’ শম্ভুর ছেলে সুনামের বি*রুদ্ধে কিশোরের অ*ভিযোগ, তার জন্যই এতদিন মিন্নির পক্ষে আ*দালতে দাঁড়াননি আইনজীবীরা। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু স*মালোচনার পর বরগুনা ও ঢাকার আইনজীবীদের একটি অংশ মিন্নির পক্ষে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

advertisement