প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বালিশ কাণ্ডকেও হার মানিয়েছে ইসির প্রশিক্ষণ দু*র্নীতি

543
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

সম্প্রতি রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কেনাকাটায় দু*র্নীতির যে অভিযোগ ওঠেছে, যা ‘বালিশ দু*র্নীতি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে; সেই দু*র্নীতিকেও হার মানিয়েছে `প্রশিক্ষণ ভাতা’র নামে নির্বাচন কমিশনের দু*র্নীতি। এজন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কেএম নুরুল হুদাসহ নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করেছে দু*র্নীতি বি*রোধী সংস্থা ট্রা*ন্সপারে*ন্সি ই*ন্টারন্যা*শনাল বাংলাদেশ (টি*আইবি)।

গত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের আগে প্রশিক্ষণের নামে নির্বাচন কমিশনে অর্থের লো*পাট হয়েছে এমন একটি সংবাদ মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার এবং সচিবরা কর্মশালায় ‘বিশেষ বক্তা’, ‘কোর্স উপদেষ্টা’ও ‘কোর্স পরিচালক’ হিসেবে কয়েক কোটি টাকার অর্থ ‘সম্মানি’ও ‘ভাতা’ হিসেবে গ্রহণ করেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পুরো কমিশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে গুরুতর অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের জন্য সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল হিসেবে দায় গ্রহণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অ*নিয়ম ও দু*র্নীতি*র জন্য জ*বাবদি*হিতা নিশ্চিত করা।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ কর্তৃক এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অ*নৈতি*ক ও অ*নভিপ্রে*ত। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে পুরো একটি কমিশনের পদস্থ প্রায় সব কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ন*জিরবিহীন।

এছাড়া এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করেই সম্পৃক্ততার নামে জনগণের করের অর্থ আদায় একদিকে রীতিমতো আইনের গুরুতর ল*ঙ্ঘন, ক্ষমতার অ*পব্*যবহার ও সুস্পষ্ট দু*র্নীতি, অপরদিকে যোগসাজসের মাধ্যমে অ*নৈতিক সুবিধা অর্জনের বিস্ময়কর নজির, যা এ পর্যায়ের সাংবিধানিক পদাধিকারী ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ অ*নৈতি*ক ঘটনা রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘বালিশ দু*র্নীতি*কে’ও ম্লান করে দিয়েছে।’

উল্লেখ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনারদের মতো সাংবিধানিক পদের পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে বক্তৃতা না দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের সঙ্গে আছেন ইসির সচিবসহ পদস্থ কর্মকর্তারা। আর এই অর্থের পরিমাণ একেবারে কম নয়, দুই কোটি টাকার বেশি।

ছবি প্রথম আলো

বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এরপরে উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণ উপলক্ষে শুধু ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে বক্তৃতা দিয়ে তাঁরা এই অর্থ নিয়েছেন। আর এর বাইরে ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের তৎকালীন সচিব (বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব) একাই নিয়েছেন ৪৭ লাখ টাকা। তিনি ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবেও টাকা নিয়েছেন। তবে তা কত জানা যায়নি ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 2
    Shares
Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...