প্রচ্ছদ বিশ্ব সংবাদ

আমা'র অবস্থা শেখ হাসিনার মতো, বলেছিলেন প্রণব মুখার্জী

11
আমা'র অবস্থা শেখ হাসিনার মতো, বলেছিলেন প্রণব মুখার্জী
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমা’র দুঃখের মিল আছে, আমা’র অবস্থাও তার মতোই।’ গত বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথাটা কথাটা বলেছিলেন সদ্য প্রয়াত ভা’রতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম বন্ধু বলেছিলেন, ‘একটা লেখায় পড়ছিলাম, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। তার সঙ্গে আমা’র দুঃখের মিল রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেছেন, “এখন আর পারি না। সময় পাই না। নানা বাঁ’ধা। কিন্তু মনটা চলে যায় ছোটবেলার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর দিকে। যখন সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত বইমেলায় ঘুরতাম। পাতা উলটে দেখতাম। সারাটা দিন বইমেলায় ঘুরতাম।” আমা’র অবস্থাও হয়েছে তার মতোই।

সরকারি কাজে আ’ট’কে না গেলে আমা’র মনে পড়ে না, এমন কোনও বইমেলা হয়নি যে আমি আসিনি। শুধুমাত্র কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়, বইমেলার আনন্দে অংশ নিতেই আমি বইমেলায় আসতাম। কিন্তু এখন আর পারি না। আমা’র অবস্থাটা শেখ হাসিনার মতোই।’

এভাবেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অ’ত্যন্ত প্রিয়জন প্রণব মুখার্জী তার আবেগের কথা জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বইমেলায়। সেদিনের সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ, সাহিত্যিক সম’রেশ মজুম’দার এবং দশটি দেশের দশজন অ’তিথি-সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন:  বিশ্বের কোন্ দেশে মহামারির অবস্থা বেশি খারাপ

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে সেদিন প্রণব মুখার্জী বলেছিলেন, কিছুদিন আগে ৮৪ বছর পূর্ণ করেছি। এখনও সুস্থ আছি। প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরে হিসেব করে দেখেছি গত দেড় বছরে প্রায় দুলক্ষ তেষট্টি হাজার কিলোমিটার ঘুরেছি ভা’রতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায়। ভা’রতবর্ষের বাইরে একটি দেশেই গিয়েছি– সেটা বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম।’

এভাবেই বিভিন্ন সময় তার কথাবার্তায় ফুটে উঠতো বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা আর আবেগ। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের ১৩তম রাষ্ট্রপতি প্রণব ছিলেন বাংলাদেশের নড়াইলের জামাই। তার জীবনের আষ্টেপৃষ্ঠে যেন মিশে ছিল বাংলাদেশ। একাত্তরের মহান মুক্তিযু’দ্ধের সময় তিনি যেমন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ঠিক তেমনি ওয়ান ইলেভেনের পর দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেও অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

প্রণব মুখার্জী তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে ‘দ্য কোয়ালিশন ইয়ারস ১৯৯৬-২০১২’ বইতে লিখেছেন, ‘আম’রা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি একটা শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দিকে জো’র দিয়েছিলাম।’

তিনি আরও লিখেছেন, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সে’নাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ ছয় দিনের ভা’রত সফরে যান। এ সময় প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেনারেল মইন। বাংলাদেশের সে’নাপ্রধানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রসঙ্গে প্রণব মুখার্জী লিখেছেন, ‘তাকে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির গুরুত্ব বোঝাই। তিনি এই ভ’য় পাচ্ছিলেন যে, শেখ হাসিনা বের হয়ে আসার পর তাকে চাকরিচ্যুত করতে পারেন। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিই এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলেও তার বহাল থাকার ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করি।’

আরও পড়ুন:  সৌদি নারীদের বিয়ে করতে পারবে বাংলাদেশী প্রবাসীরা। মাসিক ভাতা মিলবে ৩০০০ রিয়াল

এ ব্যাপারে মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে তার আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আমি খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা উভ’য়ের মুক্তির ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাতে মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সাক্ষাৎ চাই। তৎকালীন ভা’রতের জাতীয় উপদেষ্টা এম কে নারায়ণের মাধ্যমে আমা’র হস্তক্ষেপে আমি সব রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি এবং দেশটির স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেছিলাম।’

এভাবে স্বাধীনতা থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের মানুষের পরমাত্মীয় এবং অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন ভা’রতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares