প্রচ্ছদ অপরাধ বাবাকে বাইরে পাঠিয়ে শিশুর হাত বেঁ*ধে এবং মু*খে স্কচটেপ লাগিয়ে ধ*র্ষণ করলেন...

বাবাকে বাইরে পাঠিয়ে শিশুর হাত বেঁ*ধে এবং মু*খে স্কচটেপ লাগিয়ে ধ*র্ষণ করলেন ইমাম

182
পড়া যাবে: 2 মিনিটে
advertisement

ঝাড়ফুঁক দেওয়ার জন্য বাবাকে মোম ও আগরবাতি আনতে পাঠিয়ে এক শিশুকে (৮) ধ*র্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ইমামের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় গত ২ আগস্ট ঘটনাটি ঘটলেও ফজলুর রহমান নামের ওই ইমামের অনুসারীদের ভ*য়ে এতদিন অ*ভিযোগ দিতে পারেননি ভু*ক্তভো*গী শিশুটির পরিবার।

advertisement

গতকাল মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা র‌্যাব-১১ এর কার্যালয়ে গিয়ে অ*ভিযোগ জানিয়ে সহায়তা কামনা করলে ইমাম ফজলুর রহমানসহ তার আরও পাঁচ সহযোগীকেও গ্রে*প্তার করা হয়। গ্রে*প্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রমজান আলী, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী, মোতাহার হোসেন ও শরিফ হোসেন।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটির বাবা একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজ করে। মা গার্মেন্টস শ্রমিক। ধ*র্ষণের শিকার শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিশুটি রাতে ঘুমের মধ্যে প্রায়ই কেঁ*দে উঠত। নিম্ন আয়ের পরিবারটি শিশুটির এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন কবিরাজের কাছে ঝা*ড়ফুঁ*ক চিকিৎসা করায়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় তারা জানতে পারে চাঁদমারি বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের ইমাম ফজলুর রহমান ঝা*ড়ফুঁ*কের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করেন। তারা ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দুই থেকে তিন বার শিশুটিকে ঝা*ড়ফুঁ*ক করেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।’

আরও পড়ুন:  থানার ভেতরেই বাদীকে পেটালেন যুবলীগ নেতা মীর সোহেল!!

আলেপ উদ্দিন বলেন, ‘এরপর তিনি “বাড়ি বন্ধ” করতে মেয়েটির বাড়িতে যান। এরপরেও অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় মেয়েটির বাবা ফজলুর রহমানের সঙ্গে গত ১ আগস্ট মাগরিবের নামাজের পর যোগাযোগ করলে তিনি পরদিন ফজরের নামাজের পর মেয়েটিকে নিয়ে মসজিদের আসতে বলেন।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘পরে ২ আগস্ট ফজরের নামাজের পর শিশুটিকে মসজিদে নিয়ে গেলে ইমাম ফজলুর রহমান বাবা-মেয়েকে মসজিদের তৃতীয় তলায় ইমামের শয়ন কক্ষে নিয়ে যায়। এরপর মেয়েটির বাবাকে মোম ও আগরবাতি আনতে বাইরে পাঠিয়ে দেয় সে। কিন্তু এত ভোরে কোনো দোকান খোলা না থাকায় মেয়েটির বাবা বাইরে দোকান খোলার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মধ্যে ফজলুর রহমান মেয়ের বাবাকে ফোন করে তার জন্য একটি পানও নিয়ে আসতে বলেন। আর মসজিদের মুয়াজ্জিনকে নিচের কলাপসিবল গেটে তালা লাগাতে বলে। এরপর ফজলুর রহমান শিশুটির হা*ত বেঁ*ধে এবং মুখে স্ক*চটে*প লাগিয়ে ধ*র্ষণ করে। পরে শিশুটির গ*লায় চা*কু ধরে এ কথা কাউকে না বলতে শা*সিয়ে দেয়। এ কথা কাউকে জানালে জ*বাই করে হ*ত্যারও হু*মকি দেওয়া হয় মেয়েটিকে।’

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এদিকে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর মেয়েটির বাবা মোম ও আগরবাতি নিয়ে মসজিদে ফিরে গেলে ফজলুর রহমান তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়। মেয়েটি বাড়ি ফিরে সব ঘটনা তার বাবা মাকে খুলে বলে।’

আরও পড়ুন:  আমি যদি ধমক দেই তাহলে নারায়ণগঞ্জে কোনো বিএনপি থাকবে না

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনা জানার পর মেয়েটিকে নিয়ে তার বাবা ঘটনার দিনেই মসজিদে এসে মসজিদ কমিটির কাছে এর বিচার দাবি করলে মসজিদ কমিটির কিছু সংখ্যক লোক ও আশেপাশে থাকা ধ*র্ষকের কিছু ভক্ত মিলে শিশু ও তার পরিবারটিকে চ*রমভাবে হে*নস্তা করে। ধ*র্ষক ফজলুর রহমান তার অনুসারীদের দিয়ে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেন, ভু*ক্তভো*গী পরিবারটি থানা বা হাসপাপতালে যেতে না পারে।

এরপর শিশুটির অবস্থা আরও খারাপ হলে শিশুটিকে নিয়ে শিশুটির পরিবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গোপনে ভর্তি করে। ধ*র্ষক ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হ*ত্যা ও অ*পহর*ণ করার উদ্দেশ্যে হাসপাতালেও কয়েক দফায় চেষ্টা চালায়। হাসপাতালের ধ*র্ষকের অনুসারীরা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে, শিশুটিকে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখে শিশুটির বাবা মাকে দীর্ঘসময় ধরে হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। পরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা হাসপাতালের এক নার্সের কাছ থেকে একটি বোরকা চেয়ে নিয়ে র‌্যাব-১১ এর অফিসে এসে অ*ভিযোগ দেয়।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

advertisement