প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

শেখ হাসিনার নিজের হোমের চেয়ে সেকেন্ড হোম পার্শ্ববর্তী দেশের প্রতি টান বেশি : গয়েশ্বর

20
শেখ হাসিনার নিজের হোমের চেয়ে সেকেন্ড হোম পার্শ্ববর্তী দেশের প্রতি টান বেশি : গয়েশ্বর
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

‘যারা জোর করে ক্ষমতায় থাকে তাদের জোর করেই ক্ষমতা থেকে নামাতে হয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু নির্যাতিত সেহেতু এমনিতেই এ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। যারা জোর করে ক্ষমতায় থাকে তাদের জোর করেই ক্ষমতা থেকে নামাতে হয়। তারা কিন্তু মুখের কথায় যায় না। এটা ইতিহাসের সত্য কথা।’

‘আন্দোলন চাই, সময় মতো আমিই নাই’- এই মানসিকতা না বদলালে আন্দোলনে সফলতা আসবে না মন্তব্য করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আন্দোলন চাই, সময় মতো আমি নিজে নাই, টেলিফোন বন্ধ। রাজপথে রক্ত দিমু, কর্মীরে বলুম ‘সাবধানে থাইকো’- হয় না, হয় না….।’

তিনি বলেন, ‘ঈমান ঠিক করেন। যেদিন বলতে পারেন মরতে হয় মরবো, গণতন্ত্র আনবো- সেদিনই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, সেদিনই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে, সেদিনই দেশ মুক্তি পাবে, সেদিনই জাতীয়তাবাদী শক্তি গোলামির জিঞ্জির ছিঁড়ে নিজেদের মুক্ত করতে পারবে।’

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘২৬ মার্চ শহীদ জিয়াউর রহমান যখন রিভোল্ট করে কর্নেল জানজুয়াকে নিজ হাতে হত্যা করে বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ড তার নিজ হাতে নিয়ে নিলেন এবং জনসম্মুখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, তখন পরিচয় কি? মেজর জিয়া। কই, সেদিন তো এসব প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও বড় বড় নেতারা চ্যালেঞ্জ করেন নাই ‘হু ইজ জিয়া’। বলেননি তো- ‘সে কে, স্বাধীনতা যুদ্বের ঘোষণা দেয়ার?’ সেদিনতো আনন্দে উৎফুল্ল হয়েছিলো যে রাস্তা পেলাম, দিকনির্দেশনা পেলাম।’ 

এ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, ‘এর প্রমাণ এপ্রিলের ১৭ তারিখ মুজিবনগরে গঠিত অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেবকে বিদেশি সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করলেন তখন স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি বলেন, মেজর জিয়া ইতোমধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ চলছে, (we salute him) আমরা জনগণের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই। তাই বলবো, জিয়াউর রহমানকে ইতিহাসে রাখবেন কি রাখবেন না সেটা আপনাদের ব্যাপার। কিন্তু জিয়াউর রহমান তো ইতিহাস সৃষ্টিকারী।’

আরও পড়ুন:  ধর্মমন্ত্রী হতে আল্লামা শফীর দরবারে তদবির, কিন্তু নদভী মন্ত্রী হতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চিত

তিনি বলেন, ‘আদালতের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ১৯৭১ সালে আদালতে কোনও রায়ে বা ঘোষণায় স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ করে, লড়াই করে, রক্ত দিয়ে, সন্তান ও মা-বোনের ইজ্জত দিয়ে অর্জিত হয়েছে। এই স্বাধীনতা আমাদের প্রাপ্তি না, এই স্বাধীনতা আমাদের অর্জন। ইতিহাস সঠিক না বেঠিক সেটা কোনমতেই আদালতের বিষয় না।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘স্বাধীনতার পতাকা যার হাতে তিনি কখনও গৃহবন্দি, কখনও কারাবন্দি। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ এই ইতিহাস লিখতে গেলে জিয়াউর রহমানের নাম ছাড়া কখনই সেটা পূর্ণাঙ্গ হবে না এবং সেই ইতিহাস বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যও হবে না। এখন ইতিহাস-বিকৃত কথা যারা বলে তাদের মস্তিষ্ক বিকৃত।  আর বিকৃত মস্তিষ্ক বলেই তারা একজন স্বাধীনতার ঘোষক, যে ঘোষণা তৎকালীন সাড়ে ৭ কোটি মানুষ নিজের কানে শুনেছে, সেই ঘোষককে নিয়ে বিকৃত বক্তব্য দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজের হোমের চেয়ে সেকেন্ড হোম পার্শ্ববর্তী দেশের প্রতি টান বেশি। সে কারণে আজকে আমাদের জাতীয় জীবনে এত বিপর্যয়।’

নব্বইয়ের স্বৈরাচার এরশাদ ও ১/১১‘র সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে স্বৈরাচার ক্ষমতায় আসছে, গণতন্ত্র বিসর্জন দিয়ে বুটের তলায় চলে গেলো। আর শেখ হাসিনা বললেন, ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপি’। গণতন্ত্র চলে গেলে যিনি বলেন, আনহ্যাপি নন, গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী তাঁর জন্য সুখের। নাউ সি ইজ হ্যাপি। ‘উইথ আউট সাপোর্ট, উইথ আউট ভোট’ তিনি বার বার প্রধানমন্ত্রী আছেন।’

আরও পড়ুন:  ফ্রেশ নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

তিনি বলেন, ‘১/১১ তে কী হলো? জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ আসলো। কী কারণে আসলো? তারা (আওয়ামী লীগ) যদি ক্ষমতায় থাকতো তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারতো। তাহলে তারা কী কারণে আন্দোলন করলো, লগি-বৈঠা.. অনেক ঘটনা করে মঈন ইউ আহমদকে আনলো। তিনি (শেখ হাসিনা) বিদেশ যাওয়ার সময়ে এয়ারপোর্টে বললেন, তাদের সকল অপকর্ম আমি বৈধতা দেবো। সেদিনই চুক্তি ফাইনাল।’

তিনি বলেন, ‘সেকারণেই বলছি, মঈন ইউ আহমেদ এবং হোসেইন মুহম্মদ এরশাদ ‘একই বৃন্তের দুটি ফুল’। এদের রাজনৈতিক জন্ম-ভাবনা একই দেশে, যে দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা।’

‘ঠিকানা দুই রকম থাকে না। একটা হলো মাতৃভূমি আরেকটা সেকেন্ড হোম করে না। আজকের প্রধানমন্ত্রীর নিজের হোমের থেকে সেকেন্ড হোমের প্রতি বেশি দুর্বল। নিজের হোমের থেকে সেকেন্ড হোমের প্রতি বেশি দুবর্ল, এই দুর্বলতাই আমাদের জাতীয় জীবনে বড় বিপর্য্য়’- যোগ করেন তিনি। 

গয়েশ্বর চন্দ্র আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর দল জাতীয়তাবাদী দল। এ দল শুধু আপনার আমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনারা মাঠে না থাকলে জনগণ আপনাদের পাশে থাকবে।’

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 12
    Shares