প্রচ্ছদ অপরাধ

খুলনায় থানা হাজতে গ*ণ ধ*র্ষণ,ধ*র্ষিতার পরিবারকে হু*মকি

39
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

খুলনা জিআরপি থানা হাজতে নি*র্যাতন ও গ*ণ ধ*র্ষণের অ*ভিযোগ তোলা গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তাদের অব্যাহত হু*মকি দেয়া হচ্ছে। বুধবার তারা এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পুলিশের দেয়া মা*দক মা*মলায় কা*রাগা*রে থাকা ওই নারীর জা*মিন আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছেন আইনজীবীরা। এদিকে ফরেনসিক প্রতিবেদনে বিলম্বের কারণে মানবাধিকারকর্মীরা গৃহবধূকে নি*র্যাতনের অ*ভিযোগ এনে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মা*মলা করার পরিকল্পনা করছেন।

জিআরপি থানায় গিয়ে দেখা যায়, বুধবার তদন্ত কমিটি পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জি*জ্ঞাসাবা*দ করছেন। এ সময় পুলিশ সুপার (পাকশী-রেলওয়ে জেলা) মো. নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানার হা*জতখা*নাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্র*ত্যাহারের পর থানার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেকেন্ড অফিসার এসআই অসীম কুমার দাসকে।

নি*র্যাতনের শি*কার ওই নারীর বড় বোন বলেন, মোবাইল ফোনে তাদের নানাভাবে হু*মকি দেয়া হচ্ছে। তদ*ন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করে তারা বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দোষীদের শা*স্তি হবে বলে ত*দন্ত কমিটি তাদের আশ্বস্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে যখন আমার বোনের মেডিকেল পরীক্ষা হয় সেখানেও ওই ওসি (ওসমান) উপস্থিত ছিলেন। আমার বোনের বিরুদ্ধে সাজানো মা*দক মা*মলার দারোগা গৌতম কুমারের সঙ্গে তার সারাক্ষণ যোগাযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা সু*বিচার কীভাবে পাবো জানি না।’

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ধ*র্ষণের বিষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না, এ কারণে আমরা মা*দকের মি*থ্যা মা*মলায় নি*র্যাতিতা ওই নারীর জা*মিনের আবেদন করছি। পাশাপাশি দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে নারী নি*র্যাতন দ*মন আ*ইনে মা*মলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মা*মলার আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।’

ভি*কটিমের পরিবারের অ*ভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা বুধবার ভি*কটিমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। বৃহস্পতিবার আরো বিস্তারিত কথা বলেছি। ইতিমধ্যে আমরা ওসি ও এক এসআইকে ক্লোজ করেছি। এখন কারা হু*মকি দিচ্ছে, তারা পুলিশের লোক নাকি বাইরের, তা জানার চেষ্টা করবো।’

উল্লেখ্য, গত ২রা আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহবধূকে মোবাইল ফোন চু*রির অভিযোগে আ*টক করে।  পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফে*নসি*ডিলসহ একটি মা*মলায় গ্রে*প্তার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জু*ডিশিয়াল ম্যা*জিস্ট্রেট আমলি আ*দালত ফুলতলায় পাঠানো হয়। ৪ঠা আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে বিচারককে ওই নারী জানান, জিআরপি থানায় গ*ণধ*র্ষণের শি*কার হয়েছেন তিনি।

থানা হাজতে ওসি ওসমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে ধ*র্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ই আগস্ট তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাকশী-রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ. ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...