প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

হলুদ তরমুজে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

15
হলুদ তরমুজে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

শাহ তানভীর আহমেদ সাদ

কৃষি উদ্যোক্তা রেহেনা বেগম। তিনি ডুমরিয়া উপজেলায় প্রথম রঙিন হলুদ তরমুজের চাষ করে স্বাবলম্বী হতে চলেছেন। কৃষি খামারে মাচায় চাষ করেন বিদেশি তৃপ্তি জাতের হলুদ তরমুজ। কিন্তু করোনা সংকটের কারণে তার রঙিন স্বপ্ন ধূসর হয়ে উঠেছে।

গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। এই গরমে তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজের কোনো জুড়ি নেই। আছে অনেক স্বাস্থ্যগুণও। বিদেশি তৃপ্তি জাতের এই রসালো ফলটি বারোমাসই চাষ করা যায়। তরমুজতবে রং বদলালেও এই তরমুজের স্বাদ কিন্তু বদলায়নি। বরং এ তরমুজ আরও মিষ্টি। আরও সুস্বাদু। যারা তরমুজ পছন্দ করেন তাদের কাছে নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। বাণিজ্যিকভাবে এখানে বারোমাসি তরমুজ চাষ হয়।

এই দুই জাতের একটি তরমুজের ভেতরে হলুদ বাইরের রং সবুজ। আর একটির ভেতরের রং লাল বাইরে দেখতে হলুদ। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের পাচপোতা গ্রামে ইলিয়াস শেখের স্তী রেহেনা বেগম। তিনি এ বছর প্রথম ‌বারোমাসি তরমুজ চাষ করেছেন।

ডুমুরিয়া স্বপ্নবাজ তরুণী কৃষাণী রেহেনা বেগম এবার তার মোট ১০০ শতক ‌জমিতে ব্যতিক্রমী এই তরমুজের চাষ করেছেন। হলুদ তরমুজটার আকর্ষণ বেশি। কদিন আগে এই তরমুজ কেটেছেন। বর্তমানে হলুদ ও লাল দুই রঙের তরমুজই পরিপক্ব হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে কিছু তরমুজ কেটে বাজারে বিক্রির জন্য দিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই লাল তরমুজগুলো কেটে ফেলবেন। আর হলদু তরমুজটা আরও ১০/১২ দিন পর কাটতে শুরু করবেন। এই তরমুজ ৭৫ দিনের ফসল। তাই বছরে তিন থেকে চারবার চাষ করা যায়। গত জানুয়ারি মাসে এই তরমুজের বীজ লাগিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:  খুলনায় কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার আসামি রাজ্জাক ও তুহিনের আদালতে স্বীকারোক্তি

এক প্রশ্নের জবাবে রেহেনা বেগম বলেন, মাল্চিং পদ্ধতিতে এই তরমুজ চাষ করা হয়। বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করতে মাচাঙ তৈরি করতে হয়। এক বিঘা জমিতে এ তরমুজ চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় দেড় লাখ টাকা। এক বিঘায় এই তরমুজের ফলন হয় ৬৫-৭০ মণ। আর পাইকারি বাজারে মণ প্রতি বিক্রি হয় দুই থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।

তরমুজ বাজারজাতের এই সময়ে পড়েছে করোনার অশুভ ছায়া। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন দিয়েও উপযুক্ত দাম উঠছে না। খুলনা বাজারেই বিক্রি হচ্ছে রেহেনা বেগমের রঙিন স্বপ্ন। পরিবহন সংকপে পাঠানো যাচ্ছে না রাজধানীতে। তাই খুলনা ও ডুমুরিয়ায় বাজারজাত করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাদে পুঁজি উঠলেও আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না। ইতোমধ্যে কিছু তরমুজ কেটে বাজারে দিয়েছেন। এতেই বাজারের লাভ-ক্ষতির অবস্থা আঁচ করতে পারছেন।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজারে এখন ভেতরে লাল তরমুজ ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ এবং হলুদ তরমুজ ২ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। ফলে পাইকারি বিক্রি করলেও প্রতিমণ তরমুজে ৪শ থেকে ৫শ টাকা করে কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে ফলন খরচ বাদ দিয়ে পু্ঁজি উঠে আসলেও আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি না থাকলে আর বাজার মন্দা না চললে আকর্ষণীয় দাম পেতেন।

আরও পড়ুন:  ৫ মাস ধরে আটা-ময়দা গোলা পানি, কলাপাতা খায় যমজ শিশু

ডুমুরিয়া উপজেলার পাচপোতা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলাম মোল্লা বলেন, মাল্চিং পদ্ধতিতে এই তরমুজ চাষ করা হয়। বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করতে মাচাঙ্গো তৈরি করতে হয়। আর শীতকাল বা অন্য সময়ে মাটিতেই তরমুজ চাষ করা যায়। প্রথমবার মাচা তৈরি করলে সেই মাচা এক বছর ব্যবহার করা যাবে। দ্বিতীয়বারের উৎপাদন খরচ কম হবে। খুলনার ডুমুরিয়া রেহেনা বেগম প্রথম তরমুজের চাষ শুরু করেছে। অন্যরাও ধীরে ধীরে এই তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এবারও তার জমিতে ফলন ভালো হয়েছে। সারা বছরই বিশেষ এই জাতের তরমুজ চাষ করা যায়। তাই বাণিজ্যিকভাবে চাষের ব্যাপকতা সৃষ্টি হলে বারোমাসি তরমুজ কৃষকের জন্য লাভজনক হবে। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে লাভ কম হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন উপ-সহকারী এই কৃষি কর্মকর্তা।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেনে জানান, ‌কৃষানী রেহেনা বেগম ডুমরিয়া উপজেলায় প্রথম রঙিন হলুদ তরমুজের চাষ করেন। ফলে স্বাবলম্বী হতে চলেছেন।শীতকাল বা অন্য সময়ে মাটিতেই তরমুজ চাষ করা যায়। দ্বী‌বার মাচা তৈরি করলে সেই মাচা এক বছর ব্যবহার করা যাবে। দ্বিতীয়বারের উৎপাদন খরচ কম হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 9
    Shares