প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

‘আপনার কোরবানীর পশুর চামড়া নিকটস্থ সিন্ডিকেট ও এতিমের হক নষ্টকারীদের দান করুন’

17
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সারাদেশে তৈরী হয়েছে সিন্ডিকেট। সারাদেশ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া দাম একেবারেই কম হওয়ার অভিযোগ করেছে বিক্রেতা ও ছোট ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও এলাকা ভিত্তিক এক শ্রেণীর যুবক নিজেদের এলাকার লোক দাবি করে সামান্য টাকা দিয়ে জোর করে চামড়া নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার রাজীব নামে একজন অভিযোগ করে  বলেন, ‘আমার গরুর চামড়া আমি মাদরাসায় দান করতে চেয়েছিলাম কিন্তু এলাকার কিছু ছেলে এসে মাদরাসার ছাত্রদের তাড়িয়ে দিয়েছে। আর আমার হাতে ৩০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে আমার গরুর চামড়া নিয়ে গেছে।’

এদিকে কুমিল্লায় গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়ার ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না। নূরনবী বাবু নামে একজন  বলেন, চামড়া বিক্রি করে এতিমখানায় টাকা দেব ভেবেছিলাম কিন্তু বাজারে এসে পড়লাম বেকায়দায়। ছাগলের চামড়ার কোনো ক্রেতাই নেই। উল্টো চামড়া রাখার জায়গা পরিষ্কারের জন্য টাকা চাওয়া হচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চামড়ার টাকা গরীবরা পায়। অথচ এ চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গরীবকেই বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা মেনে নেয়া যায় না।

শাহ আলম নামের একজন চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ৩০০ টাকা দিয়ে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে চামড়া কিনে আনলেও সে চামড়ার দাম উঠেছে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। চামড়ার এ নজিরবিহীন মূল্যহ্রাস দেখে আমি খুবই হতাশ।

এছাড়া রাজশাহীর বাঘায় ১০ টাকা দরে প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে। এ বিষয়ে আড়ানী গোচর গ্রামের ফড়িয়ার চামড়া ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, চাহিদা না থাকায় বকরি ছাগলের একটি চামড়া ১০ টাকা দরে ক্রয় করছি। এ দামে কিনে নিয়ে স্থানীয় আড়তে বিক্রি করব। পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে একটি ছাগলের চামড়ায় দুই টাকা লাভের আশা করছি।

আড়ানী গোচর গ্রামের সমাজ প্রধান আকরাম আলী বলেন, চামড়ার কোনো চাহিদা নেই। কোরবানির পশুর চামড়া কেউ কিনতে চাচ্ছিল না। অবশেষে স্থানীয় একজন ফড়িয়ার এসে খাসি ছাগলের চামড়া প্রতিটি ৫০ টাকা আর বকরি ছাগলের চামড়া ১০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। গত বছর যে দাম ছিল তার চেয়ে দ্বিগুন দাম কমে চামড়া বিক্রি করেছি।

আড়ানীর চামড়া আড়তদার ইলিয়াস হোসেন বলেন, চাহিদা না থাকায় চামড়া কম দামে নিতে হচ্ছে। এ চামড়া কিনেও লাভ হবে কিনা জানা নেই। তারপরও কিনছি। ফড়িয়ারদের কাছে দুই/এক টাকা বেশি দিয়ে চামড়া কিনছি। এছাড়াও সমাজ প্রধানের প্রতিনিধিরা চামড়া নিয়ে আসছেন। তাদেরও কাছে থেকে ফড়িয়ারদের মতো দাম দিয়ে কিনছি।

এসব সিন্ডিকেট তৈরী হওয়ায় আজ সোমবার (১২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. তুহিন মালিক। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আপনার কোরবানীর পশুর চামড়া নিকটস্থ সিন্ডিকেট ও এতিমের হক নষ্টকারীদের দান করুন’ !!!

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 23
    Shares
Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...