প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ বিএনপি’র !

14
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ বিএনপি’র !
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার১ সেপ্টেম্বর তেতাল্লিশ বছরে পদার্পন করেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে এ চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু, কিভাবে ? কোন পথে এ চ্যালেঞ্জ জিতবে বা জিততে চায় বিএনপি তার কোন ব্যাখ্যা ছিল না তার বক্তব্যে। কয়েকবার বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা দলটি এবার টানা কয়েক দফা ক্ষমতার বাইরে। এ অবস্থায় দলটির ভবিষ্যতই যেখানে চ্যালেঞ্জের মুখে,সেখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মতো বিশাল চ্যালেঞ্জ জেতার স্বপ্নের রহস্য সমর্থক আর কর্মীদের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ-রহস্যপূর্ণ। এমন এক সময় তারা চ্যালেঞ্জটি দিয়েছে যখন দেশে আলোচনার অন্যতম বিষয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা।

করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহে ও সিদ্ধান্তেই বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত দেশের রাজনীতিতে নতুন ঘটনা। নানা শর্তে মুক্তির পর এখন মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পরিবার থেকে সরকারের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে তার ভিত্তিতে মুক্তির মেয়াদ পূর্বের ন্যায় শর্তস্বাপেক্ষে আরো ছযমাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসময়ও বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন না চিকিৎসার জন্য। এসব কিছুই এখন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইলেও সরকার এখনই হয়তো সে সুযোগ দিচ্ছেন না। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে নানা গুঞ্জন-গুজব, আলোচনা-সমালোচনা, মূল্যায়নের ধুম যাচ্ছে। নানা ঘটনাপ্রবাহ শেষে গত ২৫শে মার্চ খালেদা জিয়া যখন মুক্ত হন তখনও সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া শর্তানুযায়ী কোনো সুযোগ ছিল না তার বিদেশ যাওয়ার। এবার আবেদনে ওই শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানানো হলেও তা করা হয়েছে বলে কেউ জানেন না।

গত ২৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি পেলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের হাসপাতালেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি তার। এর আগে, যুক্তরাজ্য এবং সৌদি আরবে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন তার সেই চিকিৎসার ফলো আপ হচ্ছে না। বাস্তবতা হচ্ছে,বিএনপির রাজনীতির মূল পুজি দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা এবং সাড়ে তিন বছরের শাসনে দেশকে একটা স্থিতাবস্থা, কিছু সংস্কার ও উন্নয়নের নতুন যাত্রা শুরু করা। সেই পুজি এখন আর খুব বেশী কাজে লাগছে না। অবশিষ্ট পুঁজি হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া।

আরও পড়ুন:  প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় অবহেলার কথা স্বীকার করে নিলো চীন

গৃহবধু থেকে দলের নেতৃত্বে এসে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপোসহীন বৈশিষ্ট্য এবং এরশাদ পতনের পর ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-২০০৬ দলকে ক্ষমতায় আনা। সেই বিবেচনায় তিনি এখনও দলের প্রাণভোমরা। দলের বর্তমান-ভবিষ্যতও তিনিই। স্বাভাবিকভাবেই তার সুস্থতা-অসুস্থতার সঙ্গে বিএনপির রাজনীতির অস্বিত্বও বিদ্যমান। এটাও বিএনপির রাজনীতির জন্য আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ।

মূলত ওয়ান ইলেভেনের পর থেকেই চ্যালেঞ্জের পর চ্যালেঞ্জে ক্ষতবিক্ষত বিএনপি। আন্দোলনের চ্যালেঞ্জে মার খেয়েছে বিরতিহীনভাবে। পরিণামে টানা তিন দফায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারেনি তারা। সাংগঠনিক প্রচন্ড দুর্বলতার পাশাপাশি রয়েছে মামলা ও গ্রেফতারসহ সরকারের নিপীড়ন। যার ফলে নাজেহাল দশা নেতাকর্মীদের। মুক্ত হয়েও নানা কারণে সক্রিয় হতে পারছেন না দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশান্তরি। আন্তর্জাতিক ভাবে তারেক রহমানের রয়েছে ইমেজ সঙ্কট। গণতন্ত্র ফেরানোর চ্যালেঞ্জের চেয়ে দলের এই করুণ সংকট কাটানো বিএনপির জন্য আরো জরুরি চ্যালেঞ্জ।

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়া নিহত হলেও বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হয়নি। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার বেশ কিছু সময় পড়ই রাজনীতিতে নেমেই দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদ নেন তার গৃহবধু স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তখন বিএনপির চেয়ারম্যান জিয়া পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

জিয়ার বিশ্বস্ত সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ ১৯৮২ সালে বিএনপি হটিয়ে ক্ষমতা দখল করলে সাত্তারের অসুস্থতার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের পদ নিয়ে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া। তারপর ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। সেই থেকে বেগম জিয়া এই পদে আসীন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার পর দুই বার তার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের পর থেকে টানা ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। দফায় দফায় আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা ও চেষ্টা করেও বার বার বিফল হয় দলটি। বরং এই সকল অপরিকল্পিত আন্দোলনের ফলে খাদেই পড়তে থাকে দলটি।

আরও পড়ুন:  *করোনা মোকাবেলায় কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা না মানলে জরিমানার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর*

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ মামলার সাজায় কারাগারে যেতে হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় এক যুগ ধরে লন্ডন অবস্থানকারী ছেলে তারেক রহমানকে। এর মধ্যে দেশে তিনটি মামলায় তাঁর সাজার রায় এসেছে । খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি । গত ২৫ মার্চ ২০২০ সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি পাওয়ার পর থেকে নিজের বাসাতেই আছেন খালেদা জিয়া।

এর মাঝেই তাঁর দন্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। কিছুটা মিরাকল হচ্ছে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ না থাকা এবং অসংগঠিত নেতৃত্বের মধ্যেও নেতাকর্মীরা নেতিয়ে পড়লেও একবারে হাল ছাড়েনি। প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে বিপর্যয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে ধলটি। কিন্তু, এবার কিভাবে কখন ঘুরে দাঁড়াবে তা প্রশ্ন হয়েই থাকছে। বিদ্যমান রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ কতোটা আছে, কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা আসবে ? – এ প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়েই চ্যালেঞ্জ জয়ের কাজটা অন্তত শুরু করার পরামর্শ বিএনপির শুভাকাঙ্খিদের।

লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আপন আলো, বিশেষ প্রতিবেদক শ্যামল বাংলা ডটনেট ও সাবেক কাউন্সিলর, বিএফইউজে ও সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ( ডিইউজে)

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares