প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

হামলার অভ্যাস নতুন নয় যুবলীগের আসাদুল-জাহাঙ্গীরের

30
হামলার অভ্যাস নতুন নয় যুবলীগের আসাদুল-জাহাঙ্গীরের
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার মুক্তিযোদ্ধা বাবার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামি আসাদুল ইসলাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ দল। 

গ্রেফতার জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। আর আসাদুল ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের সদস্য। সে উপজেলার ওসমানপুরের আমজাদ হোসেনের ছেলে। আসাদুলই ইউএনও ওয়াহিদার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই দুই যুবলীগ নেতা অতীতেও একাধিকবার এ ধরনের হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি ত্রাণ বিতরণ নিয়ে স্থানীয় পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলনের ওপর হামলা চালায় তারা। হামলা, চাঁদাবাজি, মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের ছাড়াও অতীতে যুবলীগের এই দুজনের নামে একাধিক অভিযোগেরও তথ্য মিলেছে। 

সূত্রের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, আসাদুল ও জাহাঙ্গীর দুজনেই মাদকাসক্ত। এছাড়া চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অভিযোগ এনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা যুবলীগের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তাদের দুজনেরই বাড়ি ঘোড়াঘাট উপজেলায়। আসাদুলকে হিলি ও জাহাঙ্গীরকে ঘোড়াঘাট থেকে গ্রেফতারের পর দুজনকেই রংপুর র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

এদিকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসায় নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশকেও আটক করা হয়েছে। তার বাড়িও ঘোড়াঘাট উপজেলায়। 

আরও পড়ুন:  মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ঝুঁকিমুক্ত হলো শহীদের বিদেশ গমন

সেখানকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আসাদুলের বাবা একজন জুতার দোকানি। তবে আসাদুল ওসমানপুরে সিএনজি অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করতো। 

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ ফেরদৌস জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে হাকিমপুর উপজেলাস্থ হিলির কালিগঞ্জ এলাকা থেকে আসাদুলকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-পুলিশের একই টিম ঘোড়াঘাট থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে বলে জানান ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম।

ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নিরুপ সাহা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে জেলা যুবলীগের কাছে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। 

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তরা মই বেয়ে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসায় ঢুকে এবং ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনওর রুমে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত শুরু করে। একসময় ইউএনও’র চিৎকার শুনে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা পাশের রুম থেকে ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে পাশের কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। 

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই প্রথমে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরদিন সকালে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বাবা-মেয়েকে ঢাকায় আনা হয়। ভর্তি করা হয় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালে। 

আরও পড়ুন:  সিলেটে ঈদের জামাত কখন কোথায়

প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় ৬ সদস্যের চিকিৎসক দল বৃহস্পতিবার রাতে ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর ইউএনও ওয়াহিদাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তবে তার সেরে উঠার বিষয়ে আশা দেখছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ওই হাসপাতালেই ওয়াহিদার মুক্তিযোদ্ধা বাবাও চিকিৎসাধীন আছেন। 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ইউএনও ওয়াহিদার বড়ভাই ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁ থেকে মাঝেমধ্যেই মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী শেখ। ওয়াহিদার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। 

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares