প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

ড্রাগন চাষ বদলে দিয়েছে আকরাম গাজীর জীবন

16
ড্রাগন চাষ বদলে দিয়েছে আকরাম গাজীর জীবন
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

মাহবুবুর রহমান মুন্না

বাড়ির আঙিনায় চারদিকে সবুজের সমারোহ। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ড্রাগন গাছ। সবুজ গাছে শোভা পাচ্ছে গোলাপি, লাল আর সবুজ ফল। স্বপ্নীল পরিপাটি এ বাগানটি গড়ে তুলেছেন খুলনার ফুলতলার আকরাম গাজী। নিজ ঘরের আঙিনায় বিদেশি ফলের চাষ করে সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। ফুলতলার গাড়াখোলা গ্রামের ড্রাগন ফলচাষি আকরাম। মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে ১০০ ড্রাগনের চারা লাগিয়ে তার যাত্রা শুরু। চার বছরের ব্যবধানে এবার তার ১৫ শতাংশ জমিতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ফল ও লক্ষাধিক টাকার ড্রাগন চারা বিক্রি করছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফলপ্রেমী ও সৌখিন ড্রাগন চাষিদের জন্য তিনি ফল ও চারা সরবরাহ করছেন। আর এই ড্রাগন চাষেই নিজে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নিজের উপজেলায় ড্রাগন চাষের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখছেন আকরাম। আকরাম বলেন, ১৯৮৩ সালে এসএসসি পাস করার পর আর লেখাপড়া করা হইনি। কম শিক্ষিত বলে সরকারি চাকরি হয়নি। জীবন-জীবিকার তাগিদে বেশ কয়েক বছর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হাড়ভাঙা খাটুনি অনুযায়ী পারিশ্রমিক কম থাকায় সেখানে নিজেকে খুব বেশি আবদ্ধ রাখতে পারেনি। পরে বাড়িতে এসে বাপ-দাদার পুরনো পেশা কৃষিকাজে মনোযোগ দেই। চার বছর আগে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষামূলক ড্রাগন চাষ শুরু করি। ক্রমান্বয়ে লাভের মুখ দেখায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করি। 

আরও পড়ুন:  দালালরা সক্রিয়: মহেশপুর সীমান্তে বেড়েছে অবৈধ অনুপ্রবেশ

.আকরাম জানান, তার ক্ষেতের এক একটি ড্রাগন ফল ৭/৮শ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের হয়। বাগান থেকে প্রতি কেজি ড্রাগন ৩শ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার বাগান থেকে ড্রাগন চারা কিনে নেন। গতবছর ফল ও চারা বিক্রি করে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন। এবছর তারচেয়ে অনেক বেশি হবে। বছরে কয়বার ফল পাওয়া যায় এমন প্রশ্নের জবাবে আকরাম বলেন, শীত মৌসুমে প্রায় চার মাস ছাড়া বছরের বাকি ৮ মাস ড্রাগনের ফলন অব্যাহত থাকে। ১৫ দিন পরপর ফল তোলা যায়। সফল এ ড্রাগন চাষি জানান, খুলনা বিভাগে তিনি প্রথম ড্রাগন চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি এখন অনেকেই এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ড্রাগন চাষের বদৌলতে তার একটি মাস্টার রোলে চাকরি হয়েছে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পে। মাসে এখন সব মিলিয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন। তিনি আরও বলেন, আমার দেখাদেখি এলাকার শিক্ষিত যুবকরা ড্রাগনের বাগান করেছে। তাদের বাগানেও লাভ হচ্ছে। তারা চাকরির পিছে না দৌড়ে অনেকে আমার কাছে আসছে বাগান তৈরির পরামর্শের জন্য। .ফুলতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিনা খাতুন বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় ড্রাগন চাষ লাভজনক। চারা লাগানোর এক বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। আকরাম গাজীর বাগানে ১৪ মাসে ফল আসে। তিনি এখানে প্রথম এই ড্রাগন চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি এখন অনেকেই ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হওয়ায় রোগ বালাইও কম। তাই চাষিরা সহজে এই ফল চাষ করতে পারে। ফুলতলায় আকরাম গাজীর মতো নিজ উদ্যোগে এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন।- বাংলানিউজ

আরও পড়ুন:  দেবহাটায় উপ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসাদুল হকের কর্মী সভা

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares