প্রচ্ছদ আইন-আদালত

তুমি যদি রিফাত শরীফকে মা*রতে পার, তাহলে বুঝবো তোমারে তোমার বাপেই জন্ম দিছে

229
পড়া যাবে: 7 মিনিটে

চলতি সপ্তাহে না হলেও আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন রিফাত হ*ত্যা কা*ণ্ডের ত*দন্ত প্রতিবেদন আ*দালতে দাখিল করবে পুলিশ। এদিকে হ*ত্যা কা*ণ্ডের আগে ও পরে নয়ন বন্ডের সাথে মিন্নির কথোপকথনসহ ম্যাসেজ আদান-প্রদান তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মূলত প্রযুক্তির কারণেই রিফাত হ*ত্যা কা*ণ্ডে দা*য়ের করা মা*মলার প্রধান সা*ক্ষী থেকে আ*সামি হয়েছেন মিন্নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা জেলা পুলিশের এক সদস্য জানান, নয়ন বন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বরটি গোপনে ব্যবহার করতেন মিন্নি। নয়ন বন্ডই এই সিমটি মিন্নিকে দিয়েছিলেন। মূলত রিফাত শরীফের সাথে বিয়ের পরও নয়নের সাথে যোগাযোগ রাখাসহ নানা কারণে গোপনীয়তা বজায় রাখতে ওই সিমটি মিন্নি গোপনে ব্যবহার করতেন। এছাড়া আরও কয়েকটি নম্বর দিয়েও নয়নের সাথে কথা বলতেন মিন্নি।

তিনি আরও বলেন, হ*ত্যা কা*ণ্ডের দিন সকাল ৯টা আট মিনিটের সময় এ নম্বর দিয়ে নয়ন বন্ডকে কল দিয়ে ছয় সেকেন্ড কথা বলেন মিন্নি। এরপর আবার সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটে নয়ন বন্ডের দেয়া ওই নম্বরটি দিয়েই আবারও নয়ন বন্ডকে কল দেন মিন্নি। এ সময় নয়ন বন্ডের সঙ্গে ৩৫ সেকেন্ড কথা বলেন তিনি। এরপর ৯টা ৫৮ মিনিটের সময় নয়ন বন্ড মিন্নির কাছে থাকা ওই নম্বরটিতে কল দেন। এ সময় মিন্নি ও নয়ন বন্ডের কথোপকথন হয় ৪০ সেকেন্ড।

এরপর সকাল সোয়া ১০টার দিকে কলেজের সামনেই রিফাত শরীফের ওপর হা*মলা করে বন্ড বাহিনী। হা*মলা*র পর বেলা ১১টা ৩১ মিনিটের সময় নয়ন বন্ড মিন্নিকে একটি এসএমএস পাঠান। এরপর আবার বিকেল ৩টায় মিন্নিকে কল দিয়ে মিন্নির সাথে এক মিনিট ২০ সেকেন্ড কথা বলেন নয়ন বন্ড।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা জেলা পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘ত*দন্*তের জন্য মিন্নি ও নয়ন বন্ডের ব্যবহৃত নম্বরের কললিস্ট এবং এসএমএস কনটেন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে উ*দ্ধার করে পুলিশ। এরপর এগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, রিফাত শরীফ মা*রা যাওয়ার পর নয়ন বন্ড মিন্নির কাছে একটি এসএমএস পাঠান। বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে পাঠানো ওই এসএমএসটিতে লেখা ছিল, ‘আমারে আমার বাপেই জন্ম দেছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিন্নিকে জি*জ্ঞাসাবা*দে অংশ নেয়া এক পুলিশ সদস্য বলেন, নয়ন বন্ডের এমন এসএমএস পাঠানোর রহস্য উদঘাটনে রি*মান্ডে থাকা অবস্থায় আমরা মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছি। তখন মিন্নি এ বিষয়ে আমাদের বলেছেন, রিফাত শরীফকে মা*রার প*রিকল্পনার সময় মিন্নি নয়ন বন্ডকে বলেছিলেন, তুমি যদি রিফাত শরীফকে মা*রতে পার, তাহলে বুঝবো তোমারে তোমার বাপেই জন্ম দিছে।

মূলত মিন্নির এমন কথার উত্তর দিতেই রিফাতের মৃ*ত্যুর পর নয়ন বন্ড মিন্নিকে ওই এসএমএসটি পাঠান। এ বিষয়টি আ*দালতে মিন্নি বলবেন বলে পুলিশকে জানালেও আ*দালতে স্বী*কারো*ক্তি দেয়ার সময় এই কথা মিন্নি আদালতে বলেননি বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের এক সা*ক্ষী বলেন, নয়ন বন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা নম্বরটি একসময় নয়ন বন্ড নিজেও ব্যবহার করতেন। পরে ওই নম্বরটি পরিবর্তন করেন নয়ন বন্ড।

তিনি আরও বলেন, মিন্নি মা*দ কাস*ক্ত ছিল। এ কারণেই সে নয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখত। এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতো নয়ন বন্ড। রিফাত শরীফের মাধ্যমেই মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের পরিচয় হয়। নয়ন বন্ড ও মিন্নি উভয়ই মা*দ কসে*বী হওয়ায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হতে সময় লাগেনি।

এদিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ*দালত, বরগুনা জেলা ও দা*য়রা জ*জ আ*দালত এবং হাইকোর্টেও মিন্নির জা*মিন আবেদনের পর শু*নানি হয়েছে। কিন্তু কোনো আদালতই জা*মিন ম*ঞ্জুর করেননি মিন্নির। মিন্নির প্রতিটি জা*মিন শু*নানিতেই বা*দী ও রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করেছেন মিন্নি ও নয়ন বন্ডের কথোপকথন ও ম্যাসেজ আদান-প্রদান-সংক্রান্ত কললিস্ট এবং হ*ত্যাকা*ণ্ডের সময় সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ।

এছাড়া এ হ*ত্যা মা*মলার দুই নম্বর আ*সামি রিফাত ফ*জি, তিন নম্বর আ*সামি রিশান ফ*জি, ছয় নম্বর আ*সামি রাব্বি আকন এবং ১২ নম্বর আ*সামি টিকটক হৃদয় হ*ত্যা কা*ণ্ডে মিন্নির স*ম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করে আ*দালতে স্বী*কারো*ক্তিমূ*লক জ*বানব*ন্দি দিয়েছেন। এছাড়া মিন্নি নিজেও রিফাত হ*ত্যা কা*ণ্ডে জ*ড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বী*কারো*ক্তিমূ*লক জ*বানব*ন্দি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বরগুনার আদালতে মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তাফা কাদের বলেন, গত ৩০ জুলাই বরগুনা জেলা ও দা*য়রা জ*জ আ*দালতে মিন্নির জা*মিন শু*নানির সময় বা*দী এবং রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ মিন্নি ও নয়ন বন্ডের কথোপকথন এবং ম্যাসেজ আদান-প্রদান-সংক্রান্ত কললিস্ট উপস্থাপন করেছিল এবং আ*দালত তা আ*মলেও নিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম বলেন, হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চেও বা*দী ও রাষ্ট্রপক্ষ সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ মিন্নি ও নয়ন বন্ডের কথোপকথন ও ম্যাসেজ আদান-প্রদান সংক্রান্ত কললিস্ট উপস্থাপন করেছিল। শু*নানির সময় যেসব গ্রাউন্ডে আ*সামিপ*ক্ষ মিন্নির জা*মিন মঞ্*জুরের জন্য আ*দালতে বক্তব্য উপস্থাপন করে সেসব গ্রাউন্ডের বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ বিষয়ে রিফাত হ*ত্যা মা*মলার ত*দন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, রিফাত হ*ত্যা মা*মলার ত*দন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। ত*দন্ত প্রতিবেদন দা*খিলের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

তিনি আরও বলেনে, মা*মলার আ*লামত হিসেবে নয়ন বন্ডের বাসা থেকে মিন্নির ব্যবহৃত একটি জামা, একটি চিরুনি, খোদাই করে নয়ন ও মিন্নির নাম লেখা একটি শামুক এবং নয়ন বন্ডের রুমের দেয়ালে বাধাই করে টাঙানো মিন্নির একটি ছবি জ*ব্দ করেছে পুলিশ। এছাড়াও অন্যান্য তথ্য উপাত্ত তো রয়েছেই।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 278
    Shares