প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

ঝিনাইদহে শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ

21
ঝিনাইদহে শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিনের ক্ষমতার দাপটে জিম্মি হয়ে পড়েছে কতিপয় শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। মহিউদ্দিনের অনিয়ম দুর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ফুঁসে উঠেছে অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে তিনি শিক্ষক সমিতির নাম ভাঙিয়ে জেলার বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষকদের এমপিও ভুক্ত করার নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

একটি নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মধুপুর হাইস্কুলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিন অতিরিক্ত শাখা খোলার নামে ৭ জন শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের জাল সনদ তৈরী করে দিয়েছে। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বদিরুজ্জামান সাময়িক বরখাস্ত হন। কিন্তু মহিউদ্দিন ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে যান। এমন অভিযোগও শুধু নয় তার বিরুদ্ধে আরোও অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজেই সহকারি সুপার থেকে কোন নিয়ম নীতি না মেনে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। খোজ নিয়ে জানা যায়, মহিউদ্দিন মধুপুর দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালে সহকারি সুপার পদে ছিলেন। পরে ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ি কমপক্ষে একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ থেকে ১২ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু তিনি তা করেননি। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সদর উপজেলার তেতুলতলা এম কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়ে স্কুলটিতে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে জেলা স্কাউট ভবনে বসে শিক্ষক সমিতির মিটিংয়ের কথা বলে একের পর এক স্কুল ফাঁকি দিয়ে আসছেন।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা অফিসের কোন কর্মকর্তা তার অনৈতিক সুবিধা না দিলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বদলি করার হুমকি দেন। এছাড়াও প্রত্যেক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাকে শারীরিক ও মানষিকভাবে লাঞ্চিত করেন। তিনি জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে জেলার শিক্ষাঙ্গণে বারোটা বাজিয়েছেন।

আরও পড়ুন:  মাটি কাটতে গিয়ে ২৫ বছর পূর্বের অক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার!

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ স্কাউট এর জেলা সম্পাদক ও এম কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও ঝিনাইদহ সদরের শিশুকুঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন তার বিরুদ্ধে একটি মহল হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ফলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের স্বরনাপন্ন হন এবং যশোর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন।

শিক্ষা বোর্ড স্বপদে পূনর্বহালের জন্য শিশুকুঞ্জু স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ‘আপিল এন্ড আরবিট্রেশন’ কমিটির সদস্য এম কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনের সহযোগিতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা বোর্ড প্রেরিত যোগদানের পত্রটি বাতিল করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শিক্ষক নেতা মহিউদ্দন তার বাড়িতে গিয়ে চাকুরি ফিরিয়ে দেবার কথা বলে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। তিনি ওই টাকা দিতে অপরাগতা জানালে চাকরি থাকবে না বলে হুশিয়ারি দেন। এ ঘটনায় তিনি আইনগত অধিকার প্রাপ্তি ও সহায়তার জন্য শিক্ষক নেতা মহিউদ্দনের বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। আরও অভিযোগ উঠেছে অতি সম্প্রতি এমকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ শতক জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের পায়তারা করছেন। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এভাবে তিনি একের পর এক অনিয়ম দূর্ণীতি করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসকল ঘটনার সাথে আমি জড়িত নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। মাদ্রাসা থেকে যখন এমকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন হই তখন এই সুযোগটি ছিল। তাছাড়া মধুপুর স্কুলের অতিরিক্ত শাখা খোলার বিষয়ে তিনি বলেন আমি ওখানকার কেই নই। অহেতুক আমাকে জড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  নৌকাই এখন সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষের প্রধান বাহন!

এ ব্যপারে মধুপুর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালেহা বেগম বলেন, আমি শুনেছি ৭ জন শিক্ষকের অতিরিক্ত শাখা খোলার বিষয়ে শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিন তদবির করেছে। তখন আমি সাধারণ শিক্ষক ছিলাম। প্রধান শিক্ষক বদিরুজ্জামান কোন ঘটনায় বরখাস্ত হয়েছেন তা আমি জানি না।

এ ঘটনায় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম এ আরিফ সরকার বলেন, মধুপুর হাইস্কুলে অতিরিক্ত শাখা খোলার ব্যপারে শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিনের নাম শোনা গেছে । বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আমাকে জানিয়েছেন। এমন একটি ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সঠিক তদন্ত করলে মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শুসান্ত কুমার দেব বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে আমার দপ্তরে এসে বেশি একটা সুবিধা করতে পারেনি। তবে ইতিপূর্বে সে শিক্ষা বিভাগে একছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আমার কাছে অভিযোগ আসছে। অনেক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

এব্যাপারে সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, মোকছেদুল ইসলাম বলেন আমি দায়িত্বে থাকা কালীন সময় শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিন বিভিন্নভাবে অনৈতিক তদবির নিয়ে এসেছেন। আমি সেগুলো করতে না চাইলে আমাকে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে হেনেস্তা করেছে। এক পর্যায়ে আমি চাকুরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে উপ-পরিচালক হিসেবে বরিশাল বিভাগে বদলি হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করি। পরের ঘটনা গুলো আমার জানা নেই।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares