প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

ইউএনও ওয়াহিদাকে বিদেশে পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

16
ইউএনও ওয়াহিদাকে বিদেশে পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় খোঁজখবর রাখেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। 

তিনি বলেন, ‘রোগী এখন যে পর্যায়ে আছে তাতে করে দেশের বাইরে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয় তখন সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

‘ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার প্রয়োজনে যা যা দরকার, তার সবই দেয়া হবে’- বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউএনও ওয়াহিদা আমার সঙ্গে কথা বললো। আমার কাছে মনে হয়েছে উনি এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছেন। উনার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে  ৮ জন ডাক্তার আড়াই ঘণ্টা ধরে সফলতার সঙ্গে অপারেশন করেছেন। এখন রোগী অনেকাংশে ভালো আছেন।’

তিনি বলেন, ‘উনার ডান দিকের অংশটা এখনও অবশ আছে। ডাক্তারা বলেছেন, ফিজিক্যাল থেরাপি দিলে আস্তে আস্তে এটা ভালো হয়ে যাবে। এরকম একটা জটিল রোগীকে সফলতার সঙ্গে নিউরো সায়েন্স চিকিৎসা দেয়ায় আমরা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও রোগীর সম্পর্কে সবসময় খোঁজখবর রাখছেন।’

আরও পড়ুন:  জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক রাহাত খানের জানাজা সম্পন্ন

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আগামীকাল সকালে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণ শেষ হবে। এখনও ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়নি। দোয়া করি, ইনফেকশন যেন না হয়। আমি নিজ চোখে দেখে আসছি। রোগী সুন্দর ব্যবস্থাপনায় আছেন এবং সবকিছু ভালোভাবে চলছে।’

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তরা মই বেয়ে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসায় ঢুকে এবং ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনওর রুমে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত শুরু করে। একসময় ইউএনও’র চিৎকার শুনে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা পাশের রুম থেকে ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে পাশের কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। 

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই রাতেই প্রথমে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরদিন সকালে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বাবা-মেয়েকে ঢাকায় আনা হয়। ভর্তি করা হয় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে হাসপাতালে। 

আরও পড়ুন:  অবশেষে বাংলাদেশিদের ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ইতালি

ওইদিন রাতেই প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় ৬ সদস্যের চিকিৎসক দল ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর ইউএনও ওয়াহিদাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তবে তার সেরে উঠার বিষয়ে আশা দেখছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ওই হাসপাতালেই ওয়াহিদার মুক্তিযোদ্ধা বাবাও চিকিৎসাধীন আছেন। 

হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ইউএনও ওয়াহিদার বড়ভাই ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 32
    Shares