প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

দেশের সব জেলায় বার্ন ইউনিট চান ডা. জাফরুল্লাহ

16
দেশের সব জেলায় বার্ন ইউনিট চান ডা. জাফরুল্লাহ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দেশের প্রতিটি জেলায় বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘আইসিইউয়ের চেয়েও বার্ন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় সবাইকে ঢাকামুখী হতে হয়। এতে পথেই অনেক রোগী মারা যায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা হাসপাতালে মরফিন থাকবে না; যেটার দাম মাত্র ৩৫ টাকা। চিকিৎসকদের বেসিক ট্রেনিং থাকবে না, এটা হয় না। আজকে রাস্তায় যে কোনও সময় এক্সিডেন্ট হতে পারে, এক্সিডেন্ট হলে আগুন লাগতে পারে। এজন্য প্রত্যেকটা ডাক্তারের বার্নের চিকিৎসার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।’

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে আহত রোগীদের দেখতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এর আগে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন ও বার্ন ইউনিটের ডিরেক্টর প্রফেসর ডা. আবদুল কালামের সঙ্গে দেখা করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় দগ্ধ বা দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের ব্যবস্থা করতে হবে, নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকা মসজিদে বিস্ফোরণে আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে অনেকেই বেঁচে যেতো।’

আরও পড়ুন:  সাহেদের বিরুদ্ধে আরও ২০ মামলার খোঁজ, পাসপোর্ট জব্দ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবস্থাপনার একটা ভুল আছে। আমি যেটা দেখেছি, আমি সন্তুষ্ট। চিকিৎসকরা অনেক যত্ন নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একটা দুর্ভাগ্য হলো, এটা বাংলাদেশের একমাত্র হাসপাতাল, কিন্তু এখানে আসার আগেই ৫০ পার্সেন্ট চিকিৎসা যেখান থেকে রোগীরা আসছে সেখানে পাওয়া দরকার ছিলো। আমার বয়স যখন অনেক কম ছিলো, যখন আমি বিলেতে প্র্যাকটিস করতাম আমাদের কাজ ছিলো; বার্ন রোগী যারা আসতো, সঙ্গে সঙ্গে একটা মরফিন ইনজেকশন দিয়ে দেয়া। কিন্তু এখানে যেটা হয়, ডাক্তার সাহেব রোগীর সঙ্গে আসা কাউকে লিখে দেন মরফিন নিয়ে আসতে। ওষুধটার (মরফিন) দাম ৩৫ টাকা, এটা ৩০০/৩৫০ টাকাতেও পাওয়া যায়। এটার দাম ৩৫ টাকাও হওয়া উচিত না। এটার দাম ৩৫০ টাকা হওয়া উচিত না, ইনফ্যাক্ট গণস্বাস্থ্য এটা বানায়।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সবাই দাম বাড়িয়েছে গণস্বাস্থ্যও দাম বাড়িয়েছে। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। সরকারে ওষুধ নীতিতে এসবের দাম নির্ধারণ করা থাকলে এই একটা ইনজেকশনের দাম হতো ২০-২৫ টাকা। ২০-২৫ টাকা হওয়ার মানেই হলো গণস্বাস্থ্যের ৫ থেকে ১০ টাকা প্রফিট হওয়া। সেটা না করে এটা এখন ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তারপর আরেকটা ড্র ব্যাক আমি লক্ষ্য করলাম, ইনাদের লাইসেন্স অনেক কম। একটা ৫০০ বেডের হাসপাতালে মিনিমাম ৩০ হাজার ইনজেকশনের পারমিশন থাকা উচিত। কারণ বার্ন রোগী আসার সাথে সাথে ইনজেকশনটা দিতে হয়। মরফিনে হার্টটাকে বাঁচায়। নারায়ণগঞ্জেই রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া উচিৎ ছিলো।’

আরও পড়ুন:  করোনা জয় করে বাসায় ফিরলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘রোগীদের চিকিৎসাটা যদি নারায়ণগঞ্জেই করা যেতো তাহলে হয়তো অনেক রোগী বেঁচে যেতো। এই রোগীদের খুবই দ্রুত চিকিৎসা করার ব্যবস্থা দরকার ছিলো। চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, আমি সামন্ত লালকে বললাম, তোমরা কয়জনকে ঢাকায় আনবা। প্রত্যেক জেলা শহরে এমন রোগীদের জন্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 8
    Shares