প্রচ্ছদ অপরাধ

প্রতি রা*তে স্বামী ক*নড*ম গুনে গুনে হা*তে ধ*রিয়ে দেয়

651
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

প্রতি রা*তে স্বামী ক*নড*ম গুনে গুনে হা*তে ধরিয়ে দেয়। স্বামীর দেয়া ক*নড*ম নিয়েই রা*স্তায় দাঁ*ড়াই। তার হিসাব এখানেই। এক ক*নড*ম, এক খ*দ্দের। আর এক খ*দ্দের একশ টাকা। ভোরে যখন বাসায় যাই, তখন ফের ক*ডমে*র হিসাব নেয়। রা*তে দশটি ক*নডমে*র ব্যবহার হলে স্বামীকে এক হাজার টাকা গুনে দিতে হয়। এক টাকা কম হলে রক্ষা নেই।’

যৌ*নক*র্মী সীমার জী*বন খাতার হিসাব এটি। বয়স ৩৩ -এর ঘরে। তবে নিজ হিসাব মেলাতে পারিনি একটি দিনের জন্যও। রাতের বেলায় প্রায় প্রকাশ্যে যৌ*ন পে*শায় লি*প্ত হয়ে গ*তর খা*টা আয়েও অধিকার নেই সীমার। যেন জীবনের ঘা*নি টানতেই তার জন্ম। আর সে জীবনের স্বাদ তার কাছে বরাবরই ফ্*যাকাশে।

ফার্মগেট, চন্দ্রিমা উদ্যান আর বিজয় সরণি এলাকায় রাতে যেসব ভা*সমান যৌ*নক*র্মীদে*র দেখা মেলে, সীমা তাদের মধ্যে অতিপরিচিত। সি*গারে*টে আ*সক্তি থাকলেও অন্য নে*শায় টা*ন নেই এই নারীর। মূলত খ*দ্দের টা*নতেই নে*শার ঘো*রে শ*রীরের গাঁ*থুনি ন*ষ্ট করতে চাননি তিনি। ঝটপটে, চঞ্চল, ঠিক যেন হরিণের মতো। এ পাড়ায় সকল খ*দ্দের তার চেনা প্রায়। সীমা দাঁড়ালে অন্যের ভাগে খ*দ্দের মেলা ভার।

এ দিনেও কথা বলার সময় ছিল না তার। গাছের গোড়ায় কাপড় টেনে ঘর বানিয়ে একের পর এক খ*দ্দের টা*নছেন সেখানে। কিন্তু অবেলায় বৃষ্টি বাগড়া বাধায়। মধ্যরাতে খানিক বৃষ্টি হয়ে ছুট দেয় বটে, তবে খ*দ্দেরের আনাগোনা কমে গেছে ওটুকু বৃষ্টিতেই। বৃষ্টির কারণেই অলস সময় কাটছিল রনি, তানিয়া আর সীমার।

খুলনার তালুকদার বংশের মেয়ে সীমার শৈশব কেটেছে সুখের আদলে। কিন্তু ডানপিটে স্বভাবের হওয়ায় সে সুখে স্থির হওয়া হয়নি। পড়ালেখায় ইতি টেনে মনের খেয়ালে শৈশবে একবার চলে যায় সিলেট হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে। সেখানে কয়েক দিন কাটিয়ে ট্রেনে করে চলে আসে কমলাপুর স্টেশনে। ২০০১ সালের কথা। আর এখানেই নি*ভতে শুরু করে জীবনের স্বপ্নময় আ*লো। স্টেশনেই পরিচয় হয় এক ভাসমান যৌ*নক*র্মীর সঙ্গে। সে সীমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। জো*র করে ওই নারী তার স্বামীর বি*ছানায় শু*ইতে দে*য় সীমাকে। কিশোরী সীমার সঙ্গে রা*তভ*র চলে ধ*স্তাধ*স্তি। তবুও যৌ*ন কাজে বা*ধ্য করাতে পারে না- বলছিলেন সীমা।

পরের দিন এক দা*লালে*র কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। দা*লাল নিয়ে যায় পল্টনের এক আ*বাসিক হোটেলে। বা*ধ্য করায় যৌ*ন পে*শায়। এরপর আবারও বিক্রি। বাড়ির সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ সময়। এরপর আরেক হোটেলে বিক্রি। অ*ন্ধকার জী*বনের এ গলি থেকে ও গলি। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হয় না। হোটেলেই এক খ*দ্দেরে*র সঙ্গে পরিচয়। পরিচয় থেকেই দিনে দিনে প্রেম জমে ওঠে। প্রেমিকের হাত ধরেই হোটেল থেকে মুক্তি। কিন্তু নি*ষিদ্ধ পাড়া থেকে আর মু*ক্তি মেলে না। স্ত্রী হিসেবে ঘরে এনে দে*হ ব্য*বসা*য় বাধ্য করেন। দে*হ ব্য*বসা*র জন্যই নারায়ণগঞ্জ বাসা নেয়া বিয়ের মাস খানিক পর। সে বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়িও অবস্থান করতেন। তারাও বাধ্য করত এ পেশায়।

বছর দুই পর ভাটা পড়ে নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে সীমার দে*হ ব্য*বসায়। স্বামী নিয়ে আসে ঢাকার তেজগাঁওয়ে। ঘটনার সময় আর স্থান বদলায় বারবার, কিন্তু সীমার জীবনের রঙ বদলায় না আর। তবে এবার আর ঘরে নয়, সীমার দে*হ ব্য*বসার জন্য ঠাঁই হয় উন্মুক্ত জায়গা। আর আবাসিক হোটেলে ঠাঁ*ই মে*লেনি তার। ১৭ বছরের যৌ*ন পে*শার ১৪ বছরই কেটেছে ফার্মগেট পার্ক, বিজয় সরণি আর চন্দ্রিমা উদ্যানে। বিয়ের পর খুলনায় বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন দু’বার। কিন্তু স্বামী নিজেই গিয়ে ব*দনা*ম ছড়িয়ে দিয়েছে সীমার গ্রামে। আর থাকা হয়নি বাবার বাড়ি। ঢাকায় ফিরে ফের স্বামীর হাত ধরেই যৌ*ন পে*শায়। এরমধ্যে এক ছেলে এক মেয়েও জন্ম নেয় তার ঘরে। নে*শায় আ*সক্ত স্বামীর আয়ের উৎস স্ত্রী সীমার দে*হটিই।

এখন দিনের আলো খুব কম দেখা মেলে সীমার। সারারাত গ*তর খে*টে ঘু*মান দিনভর। ছেলেমেয়ে জানে, তাদের মা একটি হাসপাতালে কাজ করেন। সন্তানদের পড়ালেখা, বাড়ি ভাড়া, সংসার আর স্বামীর নে*শার টাকার সবই আসে সীমার দে*হব্য*বসা থেকে। রাতে রাস্তার পাশেই এক খ*দ্দেরের হাত থেকে আরেক খ*দ্দেরের হাত পড়ে সীমা। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে স্বামীর হাতেই।

সীমা বলেন, ‘অনেকবার চেষ্টা করেছি স্বামীকে ছেড়ে দেয়ার। ও আমার জীবনের অ*ভিশাপ। বাবা-মায়ের মুখও দেখতে পারি না। ভোরে গিয়ে টাকা হাতে না দিতে পারলে মা*রপি*ট করে। পা*লিয়ে থেকেও র*ক্ষা পাইনি। সব নে*শাই করে। এখন সে ম*রলে*ই বাঁচি। সন্তান নিয়ে দেশে চইলা যামু।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 151
    Shares