প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বার্ন ইউনিটে আশা-আশঙ্কার অপেক্ষায় স্বজনরা

14
বার্ন ইউনিটে আশা-আশঙ্কার অপেক্ষায় স্বজনরা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লার বায়তুল সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে একটি শয্যার পাশে ফ্লোরে বসে একমনে ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম আলাদা করে বাটিতে রাখছেন খোদেজা বেগম। নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ ছেলে শেখ ফরিদকে খাওয়াবেন বলে। ডাক্তার বলেছেন, ডিমের সাদা অংশ খাওয়াতে হবে, কুসুম বাদ৷

দুর্ঘটনায় ছেলের আহত হওয়ার কথা শুনে সাড়ে সাত হাজার টাকায় পালা ছাগল বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় চলে এসেছেন খোদেজা। আদরের ছেলেকে যেকোনো মূল্যে সুস্থ দেখতে চান তিনি।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে চোখের পানি মুছতে মুছতে খোদেজা  বলেন, ‘ডাক্তার সাব কইছেন ডিম খাওয়াইলে ভালা অইব আমার পোলার। বেশি কইরা ডিম খাক, তাও আমার পোলাডা সুস্থ হোক।’

২১ বছর বয়সী সন্তান শেখ ফরিদের অবস্থা ভালো না। পুড়েছে শরীরের ৯৩ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মী ফরিদ। গফরগাঁও সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। ফতুল্লার মসজিদে বিস্ফোরণে জীবনটা হয়ে গেছে দুর্বিসহ।

ছেলের বাঁচা-মরার সন্ধিক্ষণে। মায়ের আশা, তার কোলে ফিরবে পরম যত্নে বড় করা দায়িত্বশীল সন্তান।  

আরও পড়ুন:  ‘আমার ভালো আব্বাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে ওরা’

পরিবারে পাঁচ ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড় ফরিদ। বাড়ি কিশোরগঞ্জ। বাবা কাঁচামালের ব্যবসায়ী। এর মধ্যে চাকরি নিয়ে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টায় ফরিদ। দুই বোনকে বিয়ে দিয়েছেন। বাকি এক বোনকে বিয়ে দিয়ে নিজের সংসার গড়ার সিদ্ধান্ত ছিল তার।

খোদেজা বেগম বলেন, ‘দুই বইনরে বিয়া দিয়া ছোডডার লাইগা টেহা জমাইতাছিল আমার পোলাডা। কত কইছি বাপজান তুই একটা বিয়া কর। একটা বউ আন বাইত (বাড়িতে)। আর অহন আমার পোলাডার চানমুখটায় পুইড়া গেছে।’

মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে থাকা ৩০ বছর বয়সী ইমরানের পুড়েছে ৯৬ শতাংশ। পাশে দাঁড়িয়ে ফুপু ফেরদৌসি বেগম। নিশব্দে কাঁদছেন আর আঁচলে চোখ মুছছেন।

ইমরান পোশাক শ্রমিক। স্ত্রী আর সাত বছর বয়সী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মসজিদের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

তিনি বলেন, আমার এই ভাতিজা আছিল আমার আব্বার মতো৷ একইরকম চেহারা। খাড়া নাক। আল্লাহ এমন গজব দিল, চেহারায় কোনোটা নাক কোনটা মুখ বুঝা যাইতাছে না- বাবার মতো চেহারাটা আর দেখতে পারবেন না বলে আরও বেশি কাঁদছিলেন ফেরদৌসী।

আরও পড়ুন:  দুর্গাপূজার আগেই শরণংকর ভিক্ষুর গ্রেফতার দাবি

ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের পর পর যে ৩৭ জনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে আনা হয়, তাদের মধ্যে ২৪ জন মারা গেছেন রবিবার বিকাল পর্যন্ত। কিছুক্ষণ পর পর আসছে মৃত্যুর খবর।

চিকিৎসাধীনদের স্বজনরা উৎকণ্ঠিত। কেউ ইউনিটের ভেতরে, কেউ বাইরে বারান্দায় অপেক্ষায়; একটি ভালো খবর চান সবাই। তবে, চিকিৎসাধীন ১৩ জনের কেউ শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দগ্ধ ১৩ জনের মধ্যে ৬ জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন ১৩ জন হলেন- ইমরান (৩০), মামুন (২৩), আমজাদ (৩৭), আ. সাত্তার (৪০), হান্নান (৫০), আ. আজিজ (৪০), রিফাত (১৮), নজরুল ইসলাম (৫০), মো. কেনান (২৪), আবুল বাসার মোল্লা (৫১), মনির ফরাজী (৩০), শেখ ফরিদ (২১) ও মো. ফরিদ (৫৫)। তাদের মধ্যে ফরিদ, মনির ফরাজী, কেনান, আজিজ, আমজাদ ও আবুল বাশারকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 12
    Shares