প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

মসজিদে বিস্ফোরণ: ‘উচ্চ পর্যায়ের’ বিশেষজ্ঞদের তদন্ত চায় বিএনপি(ভিডিও)

24
মসজিদে বিস্ফোরণ: ‘উচ্চ পর্যায়ের’ বিশেষজ্ঞদের তদন্ত চায় বিএনপি(ভিডিও)
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

নারায়নগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুলশানের দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘এটা কী আপনার শুধুমাত্র বিদ্যুতের জন্যে, গ্যাসের জন্যে, এসির জন্যে নাকি আপনার ইচ্ছাকৃত কোনো সাবটাজ এখানে করা হয়েছে কিনা বা নাশকতামূলক কাজ হয়েছে কিনা। এ ব্যাপারে কিন্তু জাতি জানতে পারছে না। আমরা মনে করি যে, এই ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি করা দরকার। এটার সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা দরকার এবং তাদের শাস্তির বিধান করার দরকার।’

সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিষয়টা (ঘটনা) খু্বই রহস্যজনক। আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, গভমেন্টের যে ভার্সন, সেই ভার্সনগুলো আপনার বিভিন্ন রকম হচ্ছে। তাদের যে মূল সংস্থা ফায়ার বিগ্রেড তারা প্রথমদিন একরকম কথা বলেছে, পরে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকেরা গিয়েছে তারা আরেক রকম কথা বলেছে, গ্যাসের লোকেরা গিয়ে তারা আরেক রকম কথা বলেছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ২৬ জনের প্রাণ চলে গেছে। বাকীদের শ্বাসনালীসহ পুরো শরীর দগ্ধ হয়েছে। আরো যে কত জন মারা যাবে তা বলা মুশকিল। দুর্ভাগ্যজনক যে, এই ঘটনাকে সেই রকম গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থাগুলো নেয়া হয়নি। এটা (মসজিদের বিস্ফোরণ ঘটনা) নিয়ে তাদের বেশ কিছু বক্তব্য শুনা গেছে, যে বক্তব্যগুলো বিভ্রান্তিকর। যে বেআইনিভাবে সরকারি জায়গার উপরে গ্যাস লাইনের উপরে মসজিদ করা হয়েছে। এটা তো এই মুহূর্তে বিবেচ্য বিষয় নয়। এই মুহুর্তের বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে যে, বিস্ফোরণ ঘটলো কিভাবে?এই বিস্ফোরণের প্রকৃতিটা কী, তার চরিত্রটা কী?’

আহতদের রাষ্ট্র থেকে ক্ষতিপুরুণের দাবিও জানান ফখরুল। 

স্থানীয় সরকারসহ উপ-নির্বাচনে যাবে বিএনপি- এমনটি জানিয়ে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের বরাবরই সিদ্ধান্ত ছিলো নির্বাচনে অংশ নেয়ার। শুধুমাত্র কোবিড-১৯ এর কারণে আমরা গত দুইটি উপনির্বাচনে (যশোর ও বগুড়া) যোগ দিয়েও পরবর্তিকালে আমরা প্রচারণায় যাইনি, আমরা সরে দাঁড়িয়েছি। আমরা উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে আমরা অংশগ্রহন করবো সেই সিদ্ধান্তই আছে। সে অনুযায়ী আমরা ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, নওগাঁ-৫ ও সিরাজগঞ্জ-১ উপনির্বাচনে অংশ নেবো। সে হিসেবে আগামী ১০ তারিখে নমিনেশন ফরম বিক্রি করা হবে। ১২ তারিখে পার্লামেন্টারি বোর্ড সাক্ষাতকারের জন্য বসবে প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্যে।’

মেজর সিনহা হত্যার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহার হত্যার বিষয়টা অত্যন্ত বিগ রুটেড। এখানে অনেকগুলো বিষয় সামনে চলে এসেছে। একটা হচ্ছে, স্পস্টে এক্সট্টা জুডিশিয়াল কিলিং। পুলিশকে এই অথোরেটি কে দিয়েছে? এখন পর্যন্ত আমাদের জানা নেই যে, পুলিশ মূহুর্তের মধ্যে কাউকে গুলি করে হত্যা করতে পারে। দুই নাম্বার হচ্ছে যে, হত্যার ইম্যুনিটি (দায়মুক্তি) দেয়া হয়েছে কিনা। আমরা জানি না এই ধরনের দায়মুক্তি পুলিশের আছে কিনা কাউকে গুলিকে হত্যা করতে পারে।’

আরও পড়ুন:  প্রশাসন দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করা হয়েছে: রিজভী

‘গণমাধ্যমে আপনারাই তুলে ধরেছেন যে, গত কয়েকবছরে পুলিশ কাস্টোডিওতে, বিচারবহির্ভুত হত্যা কতগুণ বেড়েছে এবং কিভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে গুম হয়েছে কতজন? এই বিষয়গুলো শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এজন্য যে, জাতিসংঘের সনদে এগুলো হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এই অপরাধের সাথে যারা জড়িত যেমন সার্বিয়া, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে তাদের অনেকেরই কিন্তু বিচার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মেজর সিনহার এই ঘটনা চোখ খুলে দিয়েছে, বিষয়টাকে একেবারে সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু বহু আগে থেকে ২০০৮ সালে এই আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর থেকে কিন্তু এসব ঘটনা ঘটছে। অত্যন্ত বেশি ঘটেছে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫-তে। সেগুলো সবই ছিলো রাজনৈতিক। এসব নিয়ে কিন্তু সেভাবে সারফেসে আসেনি। আমরা অনেক কথা বলেছি, মানববন্ধন করেছি, ভিকটিম ফ্যামিলিগুলোকে নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে, জাতির সামনে আসার চেষ্টা করেছি। আমাদের ভিকটিমরা জাতিসংঘের সদর দফতর জেনেভায় পর্যন্ত গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্টে প্রত্যেকবছরই এই বিষয়গুলো এসছে, ইউএন হিউম্যান রাইটস কমিশন, অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ডেমোক্রেসি ওয়াচ এবং বৃটিশ পার্লামেন্টেও এই বিষয়গুলো উত্থাপিত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সরকার সবসময় এগুলোকে এড়িয়ে গেছে।যার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থাগুলো এমন একটা ক্ষমতাশালী, রাষ্ট্রের মধ্যে তারা একটা রাষ্ট্র। যার ফলে যারা পলিটিক্যাল গভমেন্ট দাবি করে তাদেরকে তারা তোয়াক্কা করে না এবং তারা তাদের মতো করে কাজ করতে থাকে।’

সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামচাপা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেখুন এই সিনহার বিষয়টাকে কিভাবে ধামাচাপ দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে এবং এখনো হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কোনোভাবে এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমরা যে রিপোর্ট পড়লাম গণমাধ্যমের মাধ্যমে সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, প্রায় ২০০ লোক কিলিং হয়েছে কক্সবাজারে, সেগুলো বিচারবহির্ভুত হত্যা। এরপর দেখা গেলো যে, পুলিশ অফিসার যারা অভিযুক্ত তাদের যে সম্পদের বিবরণ আমরা পেলাম কোটি কোটি টাকার সম্পদ, বিভিন্ন জায়গায় সম্পদ। এ থেকে প্রমাণিত হয়, পুলিশের এই এজেন্সিরা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থারা তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই সমস্যা বিএনপির সমস্যা নয়, গোটা জাতির সমস্যা। যখন একটা ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার হদিস পাওয়া যায় না সেটা শুধু আওয়ামী লীগ-বিএনপি বলে নয়, যেকোনো মানুষের জন্য নিরাপত্তার ব্যাপার, তার পরিবারের ভবিষ্যতের ব্যাপার।’

অবিলম্বে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও যারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও পুনরুল্লেখ করেন ফখরুল।

দিনাজপুরের ইউএনও‘র ওপর হামলার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দিনাজপুরের ঘোড়ারঘাটে ইউএনওকে রাতে তাকে হত্যার জন্য এভাবে আহত করা হলো, তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। আর দেখা গেলো অল অন এ সাডেন র‌্যাব একটা প্রেস কনফারেন্স করে বলে দিলো যে, এটা চুরির জন্য এই  আক্রমন করা হয়েছে। যেটা আমরা মনে করি যে, একেবারেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক প্রতিচ্ছবি। দুইটি দিক থেকে। একটা হচ্ছে ‘ল লেস নেস। বাড়িতে ঢুকে যে কাউকে মেরে দেয়া যায়, কাউকে আঘাত করা যায়। আরেকটা হচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থাগুলোকে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না বলেই চট করে একটা সংবাদ সম্মেলন করে বলে দেয় যে, চুরির জন্য ঘটনা ঘটছে। গোটা বিষয়টা ডাইভার্ট হয়ে গেলো।’

আরও পড়ুন:  সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ এর ৫০ বছর পূর্তিতে সাবেক ভিপি/জিএস মাসুম আশরাফীর শুভেচ্ছা। 

‘আমরা পরে কী দেখতে পারছি? দেখতে পারছি বলা হচ্ছে যে, সরকারি জমি জোর করে দখল করছে অথবা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে সরকারি দলের লোকেরা, এই উপজেলা কর্মকর্তা তিনি বাধা দিয়েছেন বা দেননি যে কারণে তার ওপরে এই আক্রমণ হয়েছে। এই অভিযোগ অনেক এসেছে এবং  সরকারি দলের লোকজনকে গ্রেপ্তার করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে- যেটা খুবই বিপদজনক। আজকে এদেশে আসলেও কোনো সরকার নেই। যে সরকার আছে তাদের একমাত্র নিজেদের দলীয়করণ করা, নিজেদের বিত্ত তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো আগ্রহ নেই। তদন্ত এখন আর নিরপেক্ষ থাকছে না। যেকারণে আমরা বলি যে, আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তদন্ত হওয়া উচিত যাতে করে সঠিক চিত্র বেরিয়ে আসে, প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যায়।’

কোভিড টেস্টিং সরকার কমিয়ে দিয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার নির্দেশ দিয়ে কোভিড টেস্টিং কমিয়ে দিয়েছে। আজকে সকালে আমি আমার এলাকা ঠাকুরগাঁয়ে ফোন করেছি। আমার এক কাজিন, আমাদের দলেরই সে একজন ইম্পুটেন্ট লোক তার কোভিড হয়েছিলো টেস্ট করে। তার প্রায় ১৪দিন পার হয়ে গেছে। এখন তো টেস্ট করবে পজেটিভ আছে না নেগেটিভ আছে। কিন্তু এখন টেস্ট বন্ধ। দিনাজপুর থেকে বলছে যে, আপাতত বন্ধ রাখো। দিস এমাজিন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোন জায়গায় চলে গেছে। আজকে লক্ষ্য করে দেখেন প্রতিদিনের ব্রিফিং বাদ দিয়েছে। কারণ আর কত মিথ্যা কথা বলবে। এখন একটা প্রেস রিলিজ দিয়ে দেয় অনলাইনে। সংক্রামণ তথ্য লুকিয়ে লাভ কী? সরকারের ব্যর্থতার কারণে, তাদের উদাসীনতার কারণে কোবিড ছড়িয়ে গেছে। এই অবস্থা হলে সরকারের প্রয়োজনটা কী?’

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় জনগনকে ‘ঘুরে দাঁড়ানো’ উচিত উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘মানুষের এ্খন এই সরকারের কাছে জবাব চাওয়া উচিত। সরকারকে বলা উচিত-এনাফ ইজ এনাফ। দয়া করে বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষমা দাও, তোমরা চলে যাও এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবার ব্যবস্থা করো।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 12
    Shares