প্রচ্ছদ অপরাধ পুলিশের ড্রয়ারও নিরাপদ না

পুলিশের ড্রয়ারও নিরাপদ না

ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে সহকারী কমিশনারের ড্রয়ারের তালা ভেঙে ৫ হাজার ইয়াবা চুরি, কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

51
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন সহকারী কমিশনারের (এসি) অফিসের ড্র*য়ারের তা*লা ভে*ঙে ৫ হা*জার পি*ছ ই*য়াবা চু*রির অ*ভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঢাকার ডিবি অফিসে কর্মরত একজন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মা*মলা করেছে পুলিশ। মা*মলার পর ওই পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রে*প্তার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে । প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে,

advertisement

অ*ভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলের নাম সোহেল রানা। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার কাকনা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম জিন্নাত আলী। সোহেল রানাকে বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে কা*রাগা*রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। সোহেল এখন কা*রাগা*রে আছেন।

প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মা*মলার বা*দী ও পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন খলিফা। ডিবির অ*বৈধ অ*স্ত্র উ*দ্ধার ও পেশাদার খু*নি দ*মন টিমে (পশ্চিম বিভাগ) কর্মরত আছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ এবং মা*মলার কাগজপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এক ব্যক্তি মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে আসেন। এরপর ওই ব্যক্তি অ*বৈধ অ*স্ত্র উ*দ্ধার ও পেশাদার খু*নি দ*মন টিমের (ডি*বি পশ্চিম) অফিস কক্ষের সামনে আসেন।

রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে ই*য়াবা ট্যা*বলেট ভ*র্তি ব্যা*গ নিয়ে ডি*বি অফিসের প্রধান ফটকে যান সেই ব্যক্তি। এরপর লোকটি রিকশায় করে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণির দিকে চলে যান। পরদিন শনিবার সকাল ৭টার সময় ডিবির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবু সুফিয়ান প্রধান গেটে দায়িত্ব পালনের জন্য আসেন।

অফিস থেকে ডিবির জ্যাকেট নেওয়ার জন্য সহকর্মী ফারুকের কাছ থেকে চাবি নেন তিনি। পরে অফিসে গিয়ে আবু সুফিয়ান দেখেন, দরজার সামনের বারান্দার সিলিং এবং ভেতরের দক্ষিণ কোণের সিলিং খো*লা। এমন অবস্থা দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ডি*বির সহকারী কমিশনার মজিবর রহমানকে মুঠোফোনে এই ঘটনা জানান। পরে কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, মজিবর রহমানের কক্ষের থাই অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি দরজা ও তিনটি ড্রয়ারের তালা ভা*ঙা।

মা*মলার কাগজপত্র সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ড্রয়ারে একটি মা*দক মা*মলার আ*লাম*ত হিসেবে ৫ হা*জার পি*স ই*য়াবা রা*খা ছিল। যার দাম আনুমানিক ১০ লাখ টাকা। পলিথিনের ব্যাগে রাখা ওই ই*য়াবা চু*রি হয়। তখন বিষয়টি ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। এরপর ই*য়াবা চো*র ধ*রার জন্য ডিবি অফিসের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

ডিবিতে কর্মরত সদস্যদের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলে, ঘটনার দিন রাতে ঢোকা ওই ব্যক্তি কনস্টেবল সোহেল রানা বলে শনাক্ত হয়। পরে পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানাকে ডেকে আনা হয়। দেখানো হয় ডিবি অফিসের ভিডিও ফুটেজ।

ই*য়াবা চু*রির মা*মলার ত*দন্ত ক*র্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ আজ বুধবার আদালতকে এক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। পুলিশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনস্টেবল সোহেল রানা জি*জ্ঞাসাবা*দে স্বীকার করেন যে, তিনিই সেদিন রাতে ডিবি অফিসে ঢোকেন এবং সহকারী কমিশনারের অফিসের ড্র*য়ারের তা*লা ভে*ঙে ৫ হা*জার পি*স ই*য়াবা চু*রি করেন। চু*রি করা এসব ই*য়াবা গেন্ডারিয়া থা*নার একটি মা*দক মা*মলার আ*লামত। পরে ওই ই*য়াবাগু*লো সোহেল রানার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। সোহেলের বাসায় খাটের জাজিমের নিচে ওই ই*য়াবা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চু*রির কাজে ব্যবহৃত একটি স্*ক্রু ড্রাইভারও সোহেলের বাসায় পাওয়া যায়।

এই মা*মলার বা*দী ও পুলিশ কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন খলিফা বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা ডিবি অফিসের সহকারী কমিশনারের ড্রয়ারের তা*লা ভেঙে ৫ হা*জার পি*স ই*য়াবা চু*রি করেন। ওই ই*য়াবাগু*লো ছিল গেন্ডারিয়া থা*নার একটি মা*দক মা*মলার আ*লামত।’

ওই মা*দক মা*মলার ত*দন্ত কর্মকর্তা হলেন শাহাবুদ্দিন খলিফা। তিনি বলছেন, গত ৩০ জুলাই গেন্ডারিয়া থানায় ওই মা*দক মা*মলা হয়। চারজন আ*সামির কাছ থেকে ওই ৫ হা*জার পি*স ই*য়াবা জ*ব্দ করা হয়। আ*দালতে আ*লাম*ত ধ্বং*সের আবেদন করা হয়েছে। অ*নুমতি পেলে ই*য়াবাগু*লো আ*দালতে পাঠানো হবে।

শাহাবুদ্দিন খলিফা আরও বলেন, পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা ডিবি অফিসে কয়েক বছর ধরে কর্মরত আছেন। জি*জ্ঞাসাবা*দের প্রথম দিকে তিনি ই*য়াবা চু*রির কথা স্বীকার করছিলেন না। একপর্যায়ে ই*য়াবা চু*রির করার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ীই পরে চু*রি করা ই*য়াবা উ*দ্ধার করা হয়েছে। ১৮ বছর ধরে সোহেল রানা কনস্টেবল হিসেবে চাকরি করছিলেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 77
    Shares
advertisement