প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

মামলা প্রত্যহারে আসামী পক্ষের হুমকি: পরকীয়ায় বাঁধা জীবন গেল শরণখোলার মারুফার

25
মামলা প্রত্যহারে আসামী পক্ষের হুমকি: পরকীয়ায় বাঁধা জীবন গেল শরণখোলার মারুফার
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

মোহম্মদ আলী খান (৫৫), বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজারের কাঠ পট্রি এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি তিনি। রায়েন্দা বাজারের ডাক-বাংলার সামনে চা-বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাই অভাব অনটনের কারণে ছেলে মেয়েদের খুব বেশি পড়া-লেখা শেখাতে পারেননি। ছোট মেয়ে মারুফা আক্তারের মেধা শক্তি ভালো হওয়ায় স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে বহু কষ্টে এস.এস.সি পাস করান। আর্থিক ধন্যতার কারনে তার পক্ষে মারুফাকে আর উচ্চ শিক্ষা করানো সম্ভব হয়নি। যার ফলে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে শরণখোলা উপজেলার ভাড়ানীপাড় এলাকার বাসিন্দা মৃত. মোঃ খোকন হাওলাদার (ওরফে) খোকন দালালের একমাত্র ছেলে মোঃ হাসিব হাওলাদার (২৪)’র সাথে সামাজিকভাবে লাখ টাকা দেন মোহরে বিয়ে দেন আদরের মারুফাকে। ওই সময় তিনি মেয়ের সুখের জন্য ধার-দেনা করে ২/৩ লাখ টাকা খরচ করে স্বর্নলংকার সহ প্রয়োজনীয় সকল মালামাল দিয়ে দেন জামাই বাড়ীতে। কিন্তু বিয়ের পর ৫/৬ মাস অতিবাহিত না হতেই মারুফাকে যৌতুকের জন্য চাপ দেন তার স্বামী হাসিব ও শাশুড়ী হাফিজা বেগম।

পিতার আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় স্বামী ও শাশুড়ীর চাপের মুখে চট্টগ্রামের গামেন্টেসে যেতে বাধ্য হন মারুফা। হাসিবকে সাথে নিয়ে চট্রগ্রাম গিয়ে সেখানে বন্দর থানাধীন হারুন কন্ট্রাকটারের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী -স্ত্রী উভয় পৃথক দুইটি গার্মেন্টসে চাকুরী করতে শুরু করেন। মারুফা তার স্বামী ও শাশুড়ীর কাছে ভালো থাকার জন্য বছর ধরে গার্মেন্টেসে চাকুরী করলেও তার বেতনের সম্পূর্ন টাকা করে নিয়ে যেত স্বামী হাসিব। তার পরেও বিভিন্ন সময় মারুফাকে মারধর করতো সে। এক পর্যায়ে হাসিব তার মামাতো বোনের সাথে পরকীয় জড়িয়ে পড়ে। চরিত্রহীন হাসিব ও তার প্রেমিকের মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাড়ানোর কারণে হাসিবের চক্ষুশূল হয়ে ওঠে মারুফা। যার ফলে চলতি বছরের ২ জুলাই সু-পরিকল্পিত ভাবে মারুফাকে হত্যা করে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায় হাসিব এমন অভিযোগ মারুফার বাবা মোহম্মদ আলীর। বিষয়টি বাড়ীর দাড়োয়ানের নজরে পড়লে তাৎক্ষনিক মারুফাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেড়িকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত. ঘোষনা করেন। মেয়ের মৃত্যুর খবর মোবাইল ফোনে শোনার পর মোহম্মদ আলীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। পরে ছোট ভাই মোঃ মাসুম খানকে সাথে নিয়ে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তিনি। পরবর্তীতে মারুফার লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার মৃতদেহ শরণখোলায় নিয়ে আসেন এবং তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন। এ ঘটনায় হাসিবকে অভিযুক্ত করে গত ৩জুলাই চট্রগ্রামের বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মোহম্মদ আলী। পরে বন্দর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক হাসিবকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। কিন্তু হাসিবের মা সহ তার পক্ষের লোকেরা এখন উক্ত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অসহায় মোহম্মদ আলী। তিনি প্রসাশনের কাছে হাসিবের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করেন। তবে, হাসিবের মা হাফিজা বেগম বলেন, আমার ছেলে অপরাধ করে থাকলে আইনে তার বিচার হবে। এছাড়া অন্য জায়গায় হাসিবের কোন সম্পর্ক ছিল কি না তা আমি জানি নাই এবং মারুফাও এ বিষয়ে আমাকে কিছু বলেননি। আর স্বামীর সাথে কারো পরকীয়া থাকলেই মরে যাওয়া কোন সমাধান নয়। তবে, অন্যায়ভাবে মারুফার বাবা আমার ছেলের নামে মামলা করেছেন। এছাড়া হুমকি ধামকি দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা দাবী করেন তিনি ।

আরও পড়ুন:  সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিহত

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।