প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে হাঁটায় গুরুত্বারোপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

20
ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে হাঁটায় গুরুত্বারোপ পরিকল্পনামন্ত্রীর
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বর্তমানের আধুনিক শহরগুলো একসময় অপরিকল্পিত শহরের তালিকায় ছিল জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আমরা শহরগুলো আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছি। 

অর্থবান হলেও উন্নত দেশের অনেকেই গাড়ি কেনার প্রতি আগ্রহী হন না। আমাদেরও অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার পরিহার করে হাঁটা এবং সাইকেলবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী হতে হবে, যোগ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী (৯-১০ সেপ্টেম্বর) ‘ইকোসিটি স্যাটেলাইট কনফারেন্স ঢাকা-২০২০’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোভিড-১৯ আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে ভাবনার নতুন পথ দেখিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এবং আমাদের প্রাণ-প্রকৃতির অস্তিত্ব রক্ষার লক্ষ্যে জলাভূমি-জলাধার রক্ষায় উদ্যোগী হতে হবে। শুধু তাই নয়, আমাদের সবুজ উদ্যান-উন্মুক্ত গণপরিসর রক্ষা ও এগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিদিন বিভিন্ন মাধ্যমে যাতায়াত করতে হয়, এর মধ্যে ৪২ শতাংশ ট্রিপ দুই কিলোমিটারের মধ্যে হয়। যার অধিকাংশ হাঁটার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। কিন্তু সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

আরও পড়ুন:  ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে আজও বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

তিনি আরও বলেন, স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে আমরা যদি হেঁটে, সাইকেলে চলাচল করি এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি; তাহলে একদিকে যেমন গাড়িনির্ভরতা কমিয়ে যানজট নিরসন করতে পারব। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হবে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারি বলেন, আমাদের এ কনফারেন্সের সাথে দেশের ৫০টি শহর সম্পৃক্ত হয়েছে। ইকোসিটি বলতে এমন শহরকে বোঝায় যেখানে স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ একই সঙ্গে প্রাধান্য পায়। ইকোসিটি ওয়ার্ল্ড সামিটের লক্ষ্য হলো- স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে টেকসই এবং আর্থসামাজিক ন্যায়বিচারসম্পন্ন শহর তথা ইকোসিটি গড়ে তোলা।

বিশেষ অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেলথব্রিজ কানাডার আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, নগর পরিকল্পনায় পরিবেশের যে অনুপস্থিতি ছিল কোভিড-১৯ এর সময় আমরা তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পেরেছি। স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের অগ্রসর হতে হবে।

আরও পড়ুন:  ৯ দফা না মানলে ১৬ অক্টোবর শাহবাগ থেকে বেগমগঞ্জ পর্যন্ত লংমার্চ

সম্মেলনে পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তি, সমতা, সহমর্মিতা, মানবতার বিষয় অনুপস্থিত। আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গবেষণা, ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে সব শ্রেণির মানুষ উন্নয়নের সুফল উপভোগ করতে পারছে না।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে সহ-আয়োজক হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, খুলনা সিটি করপোরেশন, রংপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, মেহেরপুর পৌরসভা, মানিকগঞ্জ পৌরসভা এবং গাংনী পৌরসভা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক পার্টনার হিসেবে আছে- ইকোসিটি বিল্ডার্স, হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডা এবং ওয়ার্ল্ড বাইসাইকেল ফোরাম। সম্মেলনের প্রথম দিনে একটি বিশেষ অধিবেশনসহ মোট ছয়টি সমান্তরাল অধিবেশনে ১৬টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।