প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

ব*ঙ্গব*ন্ধুকে স*পরি*বারে হ*ত্যার জন্য গো*পনে ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছিল পাকিস্তান

394
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

খন্দকার আবদুর রশীদের মেয়ে মেহনাজ রশীদ শেখ ফজলে নূর তাপসের ওপর বো*মা হা*মলা মা*মলায় গ্রে*ফতারে*র সাত মাস পর জা*মিনে ছাড়া পান তিনি। আর জা*মিন পেয়েই গা ঢাকা দেন তিনি। গো*পনে তিনি দে*শত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি পাকিস্তান রয়েছেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন । পাকিস্তানে বসেই তিনি ফ্রীডম পার্টির জন্য কাজ করছেন।

অর্থনৈতিকসহ নানা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন ফ্রীডম পার্টির জন্য। তার বাবা খু*নি রশীদও রয়েছেন পাকিস্তানে। ব*ঙ্গ*বন্ধু হ*ত্যার অন্য দুই প*লাতক আ*সামি ডালিম আর মোসলেহ উদ্দিনও সেখানেই আছেন বলে খবর রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। কিন্তু পাকিস্তানের কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় তাদের ব্যাপারে সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ তাপসের ওপর বো*মা হা*মলা মা*মলায় মেহনাজ রশীদকে ২০০৯ সালের ২৪ অক্টোবর গ্রে*ফতার করা হয়। ২০১০ সালের ১০ মে গাজীপুরের কাশিমপুর কা*রাগা*র থেকে তিনি মু*ক্তি পান বলে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে ২ মে তাপসের মা*মলায় ছয় মাস বা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত হাই কোর্ট মেহনাজকে জা*মিন দেয়। কাশিমপুরের কা*রা সূত্র জানান, হাই কো*র্ট জা*মিন দিলেও এরপর ওই আদেশ ১৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। ৬ মে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র কা*রাগা*রে আসে। কিন্তু মেহনাজের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে ওই আদেশের বিপরীতে আ*পিল করার আবেদন (লিভ টু আপিল) করা হয়।

১৮ মে তার জা*মিন স্থগিতের আর কোনো আদেশ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, বলেন কা*রা কর্মকর্তারা। ব*ঙ্গবন্ধু হ*ত্যা মা*মলার আপিল শুনানি শুরু হওয়ার পর ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর রাতে মতিঝিলে ঢাকা-১২ আসনের এমপি তাপসের গাড়িতে বো*মা হা*মলা হয়। তিনি বেঁচে গেলেও আ*হত হন ১৩ জন। পরদিন তাপস মতিঝিল থা*নায় একটি মা*মলা করেন।

তাতে তিনি অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধু হ*ত্যা মা*মলার আ*সামিদের স্বজন ও তাদের সহযোগীরা ওই হা*মলা চালিয়েছে। এরপর মেহনাজকে তার গুলশানের বাড়ি থেকে গ্রে*ফতা*র করা হয়। বঙ্গবন্ধু হ*ত্যার ফাঁ*সির প*লাতক আ*সামি খন্দকার আবদুর রশীদ পাকিস্তানেই রয়েছেন বলে জানা গেছে। লিবিয়ায় গাদ্দাফির প*তনের পর রশীদের সাম্রাজ্যও ত*ছনছ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:  চলেছে ঈদের মোড়কে নির্বাচনী প্রচারণা

তখন তিনি নিরাপদ মনে করে পাকিস্তানেই অবস্থান নেন। বাবা-মেয়ে বর্তমানে পাকিস্তানেই রয়েছেন বলে খবর আছে গোয়েন্দাদের কাছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বহুল আলোচিত ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে অনেকটা কেন্দ্র দ*খল করেই এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন খন্দকার আবদুর রশীদ। ওই বিতর্কিত নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পথসভায় হাসতে হাসতেই তিনি ব*ঙ্গবন্ধুকে খু*নের কথা স্বীকার করতেন।

ভোটের দিন উপজেলার ৫১টি কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে তার ফ্রীডম পার্টি। ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নামে মাত্র থাকলেও রশীদের ‘তারা’ মার্কায় প্রকাশ্যেই সিল মারে তার ক্যা*ডাররা। তখন প্রশাসন ছিল নী*রব দর্শকমাত্র। ফলাফলে ৬০ হাজার ৯৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন রশীদ। নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে এলডিপি মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেদোয়ান আহমেদ পান মাত্র ৩ হাজার ৩৪১ ভোট। অন্যদিকে আবদুল কাদের জিলানী ৪৮৩ ও সহিদ উল্লাহ সরকার ৪৯৪ ভোট পান।

তবে ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে অবস্থা বেগতিক দেখে দেশ ছেড়ে পা*লিয়ে যান রশীদ। তবে মেয়ে মেহনাজের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। রশীদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছয়গড়িয়ায়। বর্তমানে নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে ওই পরিবারের গো*পনে কিছু যোগাযোগ থাকলেও এলাকার কেউই এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

গ্রামবাসীরা জানান, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সময় কর্নেল রশীদ জমির বিনিময়ে এবং লিবিয়া পাঠানোর নামে লোকজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লো*পাট করে নির্বাচনের দিন রাতেই এলাকা ছেড়ে পা*লিয়ে যান। বিতর্কিত ওই নির্বাচন বাতিল হওয়ার পর ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আলী আশরাফ বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় রশীদের মেয়ে মেহনাজ এলাকায় এলে স্থানীয় প্রতারিত লোকজনের তো*পের মুখে পড়েন।

আরও পড়ুন:  বড় জয় পাবে আওয়ামী লীগ , শেখ হাসিনা দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেতা

সে সময় মোবাইল ফোনে মেহনাজ অজ্ঞাত স্থানে অবস্থানরত কর্নেল রশীদের সঙ্গে প্র*তারি*ত লোকদের আলাপ করিয়ে দিয়ে নির্বাচনের পর টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। বাবার নির্দেশে সেই নির্বাচনে হাতি মার্কা নিয়ে মেহনাজ দাঁড়ালে ১৩৫ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর একই গ্রামের রুকু মিয়া ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তির ১৬ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ায় ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল মেহনাজ গ্রামের বাড়িতে এসে লা*ঞ্ছিত হন। এরপর তাকে আর সেখানে দেখা যায়নি।

পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে অবস্থান করছেন ডালিম আর মোসলেহউদ্দিনও। ডালিমের ব্যবসা কেনিয়ার নাইরোবিতে রয়েছে। ডালিম কেনিয়া আর পাকিস্তানে যাতায়াত করছেন। ডালিমের সঙ্গে পাকিস্তানি আ*ইএ*সআ*ইর রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তবে মোসলেহউদ্দিনের বিষয়ে আরেকটি সূত্র বলেছে, তিনি রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

সূত্র জানায়, ব*ঙ্গবন্ধুর প*লাত*ক খু*নিদে*র প্রত্যেকেই পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করেই তারা বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন। পাকিস্তানকে নিরাপদ দেশ মনে করেই তারা সেখানে অবস্থান করছেন। ব*ঙ্গবন্ধুকে হ*ত্যার পরই পাকিস্তান থেকে ফারুক-রশীদ ৫০০ কোটি টাকার একটি বিরাট বাজেট পেয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। আর এই বিরাট অঙ্কের টাকা নিয়েও তাদের মধ্যে দ্ব*ন্দ্ব শুরু হয়েছিল একটি পর্যায়ে।

প্রসঙ্গত, ব*ঙ্গবন্ধু হ*ত্যা মা*মলায় উচ্চ আ*দালতে রা*য় ঘো*ষণার পর প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদেশে প*লাতক খু*নীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রা*য় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ২০০৯ সালের ১৯ নবেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে সারাবিশ্বের আলোচিত এই হ*ত্যা মা*মলার চূড়ান্ত রা*য় ঘোষণা করা হয়। মৃ*ত্যু দ*ন্ডপ্রা*প্ত ১২ আ*সামির মধ্যে কা*রাগারে থাকা পাঁচ খু*নীর ফাঁ*সির আদেশ কা*র্যকর এবং একজন বিদেশে মা*রা গেলেও, বাকি ছয়জন দশ বছর ধরে বিভিন্ন দেশে পা*লিয়ে বেড়াচ্ছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 768
    Shares