প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক আইন প্রণয়ন বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য

14
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক আইন প্রণয়ন বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন-রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন- ২০২০ প্রণয়ন, নির্বাচনী আইন (RPO) সংশোধনী প্রস্তাব এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইন-২০২০ প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগবিএনপি’র প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যান

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,আসসালামু আলাইকুম,সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মহামারী করোনা এই গ্রহের সকল মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। বাংলাদেশও যা থেকে মুক্ত নয়। দেশে স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা ফিরে আসেনি। বরঞ্চ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে পড়ছে। এমন পটভূমিকায় এ পর্যায়ে জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে অপ্রত্যাশিত। আর তা যদি হয়, দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কিংবা জনগণের ভোটাধিকার বা অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে জড়িত, তাহলে সে বিষয়ে নূন্যতম সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বর্তমান মহামারীকালীন সময় নিঃসন্দেহে অনুপযুক্ত।অথচ নির্বাচন কমিশন এই সময়টিকে বেছে নিয়েছে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরপিও এর অনেকগুলো মৌলিক সংশোধনী আনয়নের জন্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে অপ্রয়োজনীয়, হঠকারী ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই উদ্যোগ কোনো বিবেচনাতেই স্বাভাবিক কিংবা সময়োচিত নয় বরং অস্বাভাবিক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য এবং মহল বিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল বলে আমরা মনে করি।যেকোনো জনগুরুত্বসম্পন্ন নতুন আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণ, সংশ্লিষ্টজনদের অবারিত মত প্রদানের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং আইনের ভাষা ও শব্দচয়নে সর্তকতা গ্রহণ অতিশয় প্রয়োজনীয় পূর্বশর্ত। অথচ বিদ্যমান সময়ে এর কোনটাই সম্ভব নয় জানা সত্ত্বেও যে আইন পরিবর্তনের বা স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের জন্য কোনো জন দাবি নেই এবং যা এখনই করা আদৌ জরুরি নয় তেমন একটি কাজ হাতে নেওয়ার জন্য কমিশনের উদ্যোগ অসময়োচিত, সামর্থের অপব্যয় ও সন্দেহজনক। তাই দেশে বিদ্যমান সংকটময় সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্টজনদের সাথে সময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে মতামত গ্রহণ এবং জনমত সংগ্রহ করার মত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত করা উচিৎ হবে না বিধায় এহেন গুরুত্বপূর্ণ নতুন আইন প্রণয়ন/সংশোধনী কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবী জানিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করি।রকিবউদ্দিন কমিশন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নির্বাচনী আইনে যে পরিবর্তন হয়েছে সেটার দুইটা দিক আছে। একটা হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা, আরেকটা হচ্ছে কমিশনকে দুর্বল ও অকার্যকর করা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে ইতোমধ্যে বর্তমান কমিশন তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো, এ সময় যে কাজে তাদের একান্তভাবে নিবিষ্ট থাকা দরকার সেই আরপিওসহ বিদ্যমান নির্বাচনী আইনগুলোর সঠিক ও কঠোর প্রয়োগ না করে কমিশন অকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ইসিকে চিঠি দিয়ে বলেছে আরপিও সংশোধনের প্রয়োজন নেই। ইসি কারও সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়াই এ সংশোধন করছে। এ প্রস্তাবে যেসব বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে তার অন্যতম হলো কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক ভোট গ্রহণ বন্ধ করা, সর্বোপরি আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের(৯১ই ধারা) ক্ষমতা রোধ। এসব ক্ষমতা রোধ করলে কমিশন একটি ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হবে, যার মাধ্যমে কার স্বার্থসিদ্ধি হবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে তাদের সবচেয়ে ভয়ানক অপচেষ্টা হলো আমাদের নির্বাচনব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া। তা করেই বর্তমান কমিশন ক্ষান্ত হচ্ছে না, তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করার জন্যও যেন উঠে-পড়ে লেগেছে। ভবিষ্যতে একটি ভাল নির্বাচন কমিশন পাওয়ার পথ রুদ্ধ করতে চায় নির্বাচন কমিশন।বর্তমান নির্বাচন কমিশন বিস্ময়কর কর্মকাণ্ডের জন্য ইতোমধ্যেই কুখ্যাতি অর্জন করেছে। গত সাড়ে তিন বছরে তাদের মেয়াদকালে অনেক অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের জনস্বার্থবিরোধী মানসিকতারই প্রকাশ পায়নি, তাদের অসততা ও অযোগ্যতারও বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ভবিষ্যতে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু করার কোন ইচ্ছা তাদের নেই। ২০১৪ সালে নির্বাচন করেছে রাজনৈতিক দলবিহীন নির্বাচন। ২০১৮ সালে করেছে ভোটারবিহীন ‘নৈশ’ নির্বাচন। আর প্রস্তাবিত আরপিও’র মাধ্যমে আগামীতে করতে চায় নির্বাচন কমিশনবিহীন প্রহসনের নির্বাচন। ২০১৪ সালে এক অদ্ভুত নির্বাচন আয়োজন করে বসেছিল রকিবউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তখনকার নির্বাচন কমিশন। নজিরবিহীন এ কাণ্ড করার জন্য শতাধিক আসনে নির্বাচন কমিশন নিজেই একজন বাদে অন্য প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করে দেয়। সেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে একাধিক প্রার্থী নাই ঘোষণা করে ভোট গ্রহণ ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়, নির্বাচনের দিনের আগেই সরকারি দল নির্বাচনে জিতেছে তা নিশ্চিত করা হয়। এই নির্বাচনে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা হয়। অর্থাৎ নির্বাচনের দিন ভোট প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলেও সরকার গঠনে তাদের যেন কোন সমস্যা না হয় তা আগেই নিশ্চিত করে নেয়া হয়। মানুষ নির্বাচনটির নাম দিয়েছে প্রার্থীবিহীন নির্বাচন।২০১৮ সালে নূরুল হুদার নির্বাচন কমিশন আরেক ধাপ এগিয়ে যায়। এবার আর প্রার্থী নয়, তিন’শ আসনে নির্বাচন আয়োজিত হয় প্রায় ভোটারবিহীনভাবে। বিরোধী দলগুলোর প্রার্থিতা বাতিল, প্রার্থী-কর্মী-এজেন্ট গ্রেপ্তার বা এলাকাছাড়া হওয়ার পর এ নির্বাচনে ভোটারদেরও কষ্ট করতে দেয়নি কমিশন। নির্বাচনের আগের রাতে ভোট বাক্স ভরে ফেলার ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রকৃত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বহু কেন্দ্রে। ভোটারবিহীন নির্বাচনে সৃষ্টি হয় ভোটের নতুন নতুন রেকর্ড। এমন নির্বাচন আয়োজন করে বুক ফুলিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। সারা বিশ্ব এ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে। এবার নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নেয় পরবর্তী নির্বাচনটিকে নির্বাচন কমিশনবিহীন নির্বাচন করতে। এ জন্য তারা নিজেরাই কমিশনের বহু ক্ষমতাকে বাতিল করার প্রস্তাব করে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধনীর জন্য তাদের প্রণীত খসড়ায়।প্রার্থী, এজেন্ট, পর্যবেক্ষক, ভোটার কারও নিরাপত্তা দিতে আগ্রহী নয় কমিশন, এটি দেখা গেছে আগের নির্বাচনে। যথেষ্ট ক্ষমতাবান হয়েও তারা প্রশাসন আর পুলিশকে তাদের অন্যায় কাজে বাধা দেয়নি। সরকারি দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগের পরও তাদের প্রার্থিতা বাতিল বা মৃদু কোনো শাস্তিরও ব্যবস্থা নেয়নি। কাজেই অযথা ক্ষমতার বাতাবরণ রেখে প্রয়োজন কী? সামনের নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবেন, সেটি নির্ধারণের ক্ষমতাও মনে হয় সরকারকে দিয়ে দিতে চায়।অপরদিকে নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানো বা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশনকে তৎপর দেখা যায়। প্রয়োজনে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু কোনো দিন কোনো কমিশন (বা সরকারি প্রতিষ্ঠান) নিজের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এটি কোথাও হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করেছে নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন(ইসি)। এর আগে রকিবউদ্দিন কমিশনও একই কাজ করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু সফল হননি। আইন হচ্ছে একটি রক্ষাকবচ। আইন পরিবর্তনের কাজে কমিশন হাত দিতে পারে না। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন সরকারকে আইন করার ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু স্বপ্রণোদিত হয়ে কমিশনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। আইন পরিবর্তন করে নিজেদের ক্ষমতা খর্ব করা অনেকটা আত্মহত্যার শামিল। বর্তমান কমিশনের অকার্যকারিতা সম্পর্কে সবাই জানে, আইন পরিবর্তন করার মাধ্যমে তারা জনগণের কাছে আরো ঘৃণ্য হিসাবে গণ্য হবে। বর্তমান আইনে মনোনয়ন পত্র বাতিলের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। কমিশন এই ক্ষমতা নিজেদের কাছে রাখতে চায় না। ফলে কমিশন বিড়ালে পরিণত হবে মর্মে একজন নির্বাচন কমিশনার মন্তব্য করেছেন।বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন এখন আর স্বাধীন নেই। তারা সরকারের হুকুম তামিলের জন্য আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কমিশন সরকার নির্দেশিত প্রক্রিয়ায় সকল কাজ করছে। এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রকল্প কমিশন সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব। এটা হলে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা সরকারের কাছে চলে যাবে। ফলে সরকার নিজের ইচ্ছামতো ভোটার তালিকা প্রণয়নের সুযোগ পাবে। সেই ভোটার তালিকায় প্রকৃত ভোটার নয়, সরকারী দলের পছন্দের লোকজনকে স্থান করে দেয়া হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এটা জাতীর জন্য একটি অশনিসঙ্কেত ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি সঠিক ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকার অপরিহার্যতা সকলেরই জানা। আর একারণে সংবিধানের ১১৯(১)(২) অণুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান ও অন্য কোন নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন, তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনকে প্রদান করা হয়েছে। সংবিধানের ১১৯(১)(২) অণুচ্ছেদ নিম্নরূপঃ“নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব-১১৯। [(১) রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাচন কমিশন এই সংবিধান ও আইনানুযায়ী(ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন;(খ) সংসদ-সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন;(গ) সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন; এবং(ঘ) রাষ্ট্রপতির পদের এবং সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করিবেন।](২) উপরি-উক্ত দফাসমূহে নির্ধারিত দায়িত্বসমূহের অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন”।কমিশনের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে কমিশন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দায়মুক্তি নিতে চাচ্ছে। কমিশনের দায়দায়িত্ব পালনের যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে আইন পরিবর্তন করে সেটি থেকে তারা মুক্তি পেতে চাচ্ছে। অথচ কোন আইন করে সাংবিধানিক দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কেননা সংবিধান হচ্ছে Supreme law of the country. ভাবটা এমন যেহেতু আমরা কিছু করতে পারছি না, সেহেতু আমাদের দায়দায়িত্ব থাকারও দরকার নেই। একটি প্রতিষ্ঠান তখনই নিজেকে ধ্বংস করতে চায় যখন সে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করতে চায়। মনে হচ্ছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে কমিশন এক ধরনের স্বস্তির জায়গায় চলে যেতে চাচ্ছে। এসব সংশোধনের প্রস্তাব আসলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সময়ক্ষেপণের একটি চাল বা অপকৌশল বলে অনেকে মনে করেন।জাতীয় সংসদ নির্বাচন–সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২–এর নাম গণপ্রতিনিধিত্ব আইন–২০২০ করা এবং এই আইন থেকে প্রার্থিতা বাতিলে ইসির ক্ষমতা বাদ দিয়ে আইন সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করেছিল ইসি। তা আইন মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছিল। প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা বিধিতে রাখার ইসি’র প্রস্তাবের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় তা ফেরত পাঠায়। ইসির এই উদ্যোগ ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারও এর বিরোধিতা করেন। ইসি সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বীকার করেন যে, নিজের ক্ষমতা নিজে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।জানা গেছে যে, নানা সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের(আরপিও) নাম পরিবর্তন এবং প্রার্থিতা বাতিলে ইসির ক্ষমতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবনা থেকে পিছু হটেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও পদের নাম বাংলায় রূপান্তরের উদ্যোগ থেকেও পিছু হটেছে কমিশন। তবে বিষয়টি এখনো খুব স্পষ্ট নয়। কমিশনের সচিব দাবি করেছেন তাঁরা ‘ভুল করে’ বা ‘বোঝাপড়ার মাধ্যমে’ প্রস্তাবগুলো করেছিলেন। যেভাবেই করা হোক না কেন, এটি বিস্ময়কর, বিশেষকরে নির্বাচন কমিশনের ন্যায় একটি সাংবিধানিক কমিশনের জন্য। কিন্তু উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। কারণ এই কমিশনের কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নাই। তারা কি কারসাজিতে যুক্ত তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তাদের অতীত কর্মকাণ্ডে বরং এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচন কমিশন সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নেই তৎপর রয়েছে।সম্প্রতি ইসির এক সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আইন–২০২০–এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার উপস্থিত ছিলেন না। এই আইন নিয়ে এর আগের বৈঠকে আইন সংস্কারের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে লিখিত বক্তব্য(নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছিলেন তিনি।নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের নাম পরিবর্তন করে ‘পল্লি পরিষদ’, পৌরসভার নাম পরিবর্তন করে ‘নগর সভা’ আর সিটি করপোরেশনের পরিবর্তে ‘মহানগর সভা’ করার প্রস্তাব করে একটি খসড়া করেছিল। এই আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব করার এখতিয়ার ইসির নাই। এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। যাহা হোক, ইসি সচিব বলেছেন যে, আইন বাংলায় রূপান্তর করা হলেও প্রতিষ্ঠান ও পদের নাম একই থাকছে।

আরও পড়ুন:  আমি এ এলাকার সন্তান, আ’লীগ প্রার্থী বহিরাগত: বিএনপি প্রার্থী

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 7
    Shares