প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

পানি গিলে খেয়েছে ২০ কোটি টাকার সড়ক

14
পানি গিলে খেয়েছে ২০ কোটি টাকার সড়ক
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

আম্ফানে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হেনেছে নদীর তীব্র স্রোত। খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে গোটা এলাকা। পানিতে ভেসে গেছে ২০ কোটি টাকার সড়ক।

উপকূলীয় এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের চিত্র এটি। জনপ্রতিনিধিরা সড়কে মাটি কিংবা বালু ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে দেখা মেলেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের। সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শুরু হবে সড়কের কাজ।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বাঁধ ভেঙে পানির স্রোতে জেলার আট কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে দেড় কিলোমিটার সড়ক। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬.৫ কিলোমিটার সড়ক। টাকার হিসাবে সড়কের ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকা।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে ৩০ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছিল। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত দেড় কিলোমিটার। বাকি সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। টাকার হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি।

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, ২০ আগস্ট কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানির স্রোতে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় গোটা ইউনিয়ন। একদিকে ভারী বৃষ্টিপাত অন্যদিকে জোয়ারের পানি, সবমিলে আমাদের সর্বনাশ। পানির স্রোতে সড়কগুলোর পিচ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও পাকা সড়কের চিহ্ন নেই। প্রতাপনগর থেকে আশাশুনি উপজেলা ও সাতক্ষীরা সদরে যাওয়ার সড়কের প্রতাপনগর হাইস্কুলের পেছনের অংশে ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যেখান দিয়ে এখন নদীর স্রোত বইছে।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের মধ্য দিয়ে এখনও চলছে জোয়ার-ভাটা। বাঁধ সংস্কার করা হয়নি। ভাঙা স্থান ট্রলার দিয়ে পার হতে হয় মানুষকে। স্থানীয়রা পড়েছেন বিপাকে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকদের দেখা পাইনি আমরা।

আরও পড়ুন:  সাংবাদিক মুন্নাকে হুমকি: থানায় জিডি

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রভাষক ইদ্রিস আলী। তিনি প্রতাপনগর গ্রামের বাসিন্দা। ইদ্রিস আলী বলেন, শুধু প্রতাপনগর গ্রাম নয়; বাঁধ ভাঙার পর গোটা ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এখনও জোয়ার-ভাটা চলছে। প্রতাপনগর থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার প্রধান সড়কের ৫০ হাত পানিতে ভেসে গেছে। সেখান দিয়ে পানি ঢুকছে গ্রামে। গভীর হয়ে খালে পরিণত হয়েছে সড়ক। অন্য জায়গায় সামান্য কিছু অংশ ভাঙলেও সেগুলো স্থানীয়রা সংস্কার করেছে। তবে প্রতাপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনের অংশ ভাঙন বেশি হওয়ায় মেরামত করতে পারেনি। সড়কপথে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন বিচ্ছিন্ন।

প্রতাপনগর গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, এলাকায় পানি কমলেও দুর্ভোগ বেড়েছে। স্বাভাবিক চলাফেরার অবস্থা নেই। পাকা সড়কটি ভাঙা। কোথাও কোথাও কাঁচা সড়কের চিহ্ন নেই।

শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল বলেন, ইউনিয়নের সব পাকা সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখন ভাঙা সড়কে মাটি ও বালু ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো খোঁজ নেই।

তিনি জানান, ২০ আগস্ট হঠাৎ জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় গোটা ইউনিয়ন। এখনও ইউনিয়নজুড়ে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার-ভাটা চলছে। বাঁধ সংস্কার করা হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ সংস্কার করবে সেনাবাহিনী। মাড়িয়ালা, আশাশুনি থেকে ঘোলা পাকা সড়কটি পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত। সড়কের পিচ নেই। ইউনিয়নের মধ্যে ১২ কিলোমিটার পাকা সড়কের কোথাও আংশিক আবার কোথাও পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। আংশিক ভাঙা স্থানে সড়কে মাটি ও বালু ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

আরও পড়ুন:  বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, যুবক আটক

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, বাঁধ ভেঙে পানির স্রোতে জেলার আট কিলোমিটার পাকা সড়ক সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের। দুই ইউনিয়নের মধ্যে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে দেড় কিলোমিটার সড়ক। ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি টাকা। এসব সড়ক সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একটি টিম ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ৩০ কিলোমিটার সড়ক আংশিক ও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছিল। টাকার হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল তবে এখনও কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ পেলে সংস্কারকাজ শুরু হবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের-২ (আশাশুনি) নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু সরকার বলেন, বর্তমানে শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্ট দিয়ে নদীর জোয়ারের পানি গ্রামে ওঠানামা করছে। শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালি ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়া, চাকলা এলাকায় দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এজন্য জনপদের মধ্যেও নদীর পানি ওঠানামা করায় খাল হয়ে গেছে সড়ক। কাঁচা ও পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাঁধরক্ষার জন্য সেনাবাহিনী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করবে। ততদিন অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares