প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষনেতার দুদফা গোপন বৈঠক

4811
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

*আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন অবস্থানকালে দলের একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনের গোপন যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে। *আওয়ামী লীগ এবং সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার তথ্যমতে এই নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছেন। দেশ পরিচালনায় একক নির্ভরতার ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি কার্যক্রম স্থবির হয়েছে এই বিষয়ে তারা নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

*ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রবীণ কয়েকজন নেতার অন্তত দুদফা বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। তবে এগুলো নিতান্তই সৌজন্য বৈঠক ছিল নাকি এই বৈঠকের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র তৈরি হয়েছে সে ব্যাপারে ভিন্নমত পাওয়া গেছে। *একটি অংশ মনে করছে যে ওয়ান ইলেভেনে যারা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন, যারা শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাদেরই আরেকটি প্রয়াস। তারাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তৃতীয় শক্তির মেরুকরণের জন্য এই বৈঠকের সূত্রপাত করেছেন এবং এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা করা হতে পারে।

*অন্য একটি সূত্র বলছে এটা স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। ড. কামাল হোসেনের শারীরিক অবস্থা জানতেই কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সাক্ষাৎকালে অনিবার্যভাবেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু আলাপ আলোচনা হয়েছে। *কিন্তু যারা এ মতের সঙ্গে একমত নন তাদের প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে, তাঁর অগোচরে আওয়ামী লীগের নেতারা কেন এরকম বৈঠক করবেন।

*ড. কামাল হোসেনের শারীরিক পরিস্থিতির কি এমন অবনতি হয়েছে যে তার খোঁজ নিতে যেতে হবে। তারা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে গত ২০০৭ সাল থেকেই রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি আনার পায়তারা *করছে এবং আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম গড়ে তোলার চেষ্টপা করা হচ্ছে। সেই প্লাটফরম গড়ার পিছনে আন্তর্জাতিক মহলেরও ইন্ধন রয়েছে বলে জানা গেছে।

*আন্তর্জাতিক মহলের ইন্ধনেই ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের মতো ঘটনা ঘটেছিল। সাম্প্রতিক সময়, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। শুধু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা নয়, ১৪ দলের অনেক *শীর্ষ নেতাও হতাশ হয়ে আওয়ামী লীগের বাইরে স্বতন্ত্র অবস্থান বা ভিন্ন অবস্থান নেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা যোগাযোগ করেছেন বলেও খবর রয়েছে।

*এই প্রেক্ষিতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র মনে করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতে গুজব সন্ত্রাস, ডেঙ্গু এবং ব্ন্যা পরিস্থিতি নিয়ে যখন সরকারের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল ঠিক সেই সময়ে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের কয়েকজন নেতার পৃথক বৈঠকটির খবরটি নানা রকম গুঞ্জন তৈরী করেছে।

ত*বে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি যতবার সম্প্রসারিত হয়েছে ডালপালা মেলেছে ততবারই ব্যর্থতায় পর্যবষিত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি তৈরী উঠে আসতে পারে না। সেটা জনগনের মধ্য থেকে উঠে আসতে হবে। কিন্তু যারা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বাইরে রাজনৈতিক সূচনা করতে চাইছেন তারা মূলত সুশীল সমাজের একটি জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী। যারা জনগনের আশা আকাঙ্খাকে ধারণ করে। এরা বিভিন্ন সময় সুযোগ সন্ধানীর ভূমিকায় অবতীর্ন হয়।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে যে এই নড়াচড়া বা রাজনৈতিক অঙ্গনে যে এই আলাপ আলোচনা সেটাকে অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও অনেকেই মনে করছে যে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাই এই পথ থেকে সরে আসবেন। কারণ তারাও অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন যে রাজনীতিতে মূলধারা থেকে সরে পড়লে তাদের অস্তীত্ব বিপন্ন হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 3.7K
    Shares