প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট

যে কারণে স্ত্রীকে তালাক দিলেন ক্রিকেটার মোসাদ্দেক

876
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

মায়ের গায়ে স্ত্রী সামিয়া শারমিনের হাত তোলাটা সহ্য করতে পারেনি ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার ওপর স্ত্রীর আলাদা সংসার গড়া বা পাতার চাপ ছিল।

একপর্যায়ে স্ত্রীকে তালাক বা ডিভোর্স দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন জাতীয় দলের এ অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, আমার বাবা নেই। যে মায়ের কারণে আমি আজ ক্রিকেটার।

সেই মাকে ছেড়ে কিভাবে আলাদা থাকি? এটা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি ওকে (স্ত্রী) এটা নিয়ে অনেক বুঝিয়েছি। সৈকত আরও বলেন, আমি যখন খেলার কারণে সফরে থাকতাম তখন ও আমার মার সঙ্গে ঝগড়া করত।

মাকে একাধিকবার মেরেছেও। বিয়ের পর থেকেই ও আমাকে আলাদা সংসার পাতার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এসব কারণে আমি গত ১৬ আগস্ট (শুক্রবার) তাকে কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দেই।

সৈকতের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন তার স্ত্রী সামিয়া শারমিন। ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন ৩ ও ৪ ধারায় অভিযোগ করেন তিনি।

সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। স্ত্রীর যৌতুকের অভিযোগ প্রসঙ্গে মোসাদ্দেক বলেন, ‘দেখেন ওকে আমি গত ১৬ আগস্ট তালাক দিয়েছি। তার আগে ও কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেনি।’

৬ বছর আগে খালাতো বোন সামিয়া শারমিনের সঙ্গে বিয়ে হয় জাতীয় দলের বর্তমান তারকা ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। বিয়ের পর থেকেই সৈকতকে তার পরিবার ছেড়ে আলাদা সংসার করতে চাপ দিতে থাকে শারমিন।

সৈকতের স্ত্রীর বড় ভাই মোজাম্মেল কবির জানান, ‘সৈকত আমার খালাতো ভাই। তাদের পারিবারিক অবস্থা একসময় খুবই খারাপ ছিল। সে আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো।

তখন আমার বোনের সাথে তার প্রেম হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা বোনের বিয়ের জন্য পাত্র ঠিক করি, সৈকত তখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়। সে সময় সৈকত আত্মহত্যার হুমকি দেয়। ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে সে। এক সময় আমরা তাদের বিয়ে দেই।

সৈকতের স্ত্রী সামিয়া শারমিন বলেন, সৈকতের দুর্দিনে আমি তার পাশে ছিলাম। তার অর্থ-খ্যাতি হওয়ার পর সে আমার সাথে বাজে ব্যবহার শুরু করে। মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও করে।

এপ্রিলে আমি কনসিভ করি। রোজার ঈদের আগে আমার বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যায়। ঈদে সৈকত বাড়ি আসে। আমি তাদের বাসায় ছিলাম। তার মা আমাকে বললো, বাপের বাড়ি চলে যেতে। কারণ আমার সেভাবে যত্ন হচ্ছিল না সেখানে। দু’মাস ধরে আমি বাসায়। তারা আমার সাথে কোনও ধরনের যোগাযোগ করেনি।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 512
    Shares