প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য

রোগ নিরাময়ে পাথরকুচির অবিশ্বাস্য ঔষধি গুণ

36
রোগ নিরাময়ে পাথরকুচির অবিশ্বাস্য ঔষধি গুণ
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ৫০০০ বছরের পুরাতন। এ চিকিৎসা জ্ঞানের মাধ্যমে জীবের কল্যাণ সাধন হয়। গাছের পাতা, শেকড়, বাকল এসব দিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা হয়ে আসছে। তেমনই এক গাছের নাম পাথরকুচি।

গ্রামীণ চিকিৎসায় এটির উপকারিতা বেশ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদেন মতে, পাথরকুচি পাতা কিডনি রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষ উপকারে আসে। একটি পাতা ভেঙে কয়েক টুকরা করে মাটিতে লাগিয়ে দিলেই হয়। রোগ প্রতিরোধে পাথরকুচি অতুলনীয়।

পাথরকুচির পাতাকে বৈজ্ঞানিক জগতে ব্রায়োফিলাম পিন্যাটাম নামে ডাকা হয়। পাথরকুচির পাতা এতটাই ঔষধি গুণসম্পন্ন হওয়ায় একে “মিরাকল লিফ” ও বলা হয়। পাথরকুচির পাতায় প্রচুর পরিমাণে ওষধি গুণাগুণ রয়েছে। যা ব্যাধি নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন করে।

পুরনো সর্দিতে পাতার রস গরম করে খেলে উপকার হয়। ছোট বড় সবার মূত্র রোধে পাতার রস খাওয়ানো হয়। খাওয়ার মাত্রা বড়দের বেশি। মূত্রনালির যেকোনো সংক্রমণে, রক্তপিত্তে, পেট ফাঁপায়, শিশুদের পেট ব্যথায়, মৃগী রোগীদের পাথরকুচির রস খাওয়ানো হয়।

মূত্র পাথর সারিয়ে দিতে সক্ষম পাথরকুচি। এ ছাড়া ব্রণ, ক্ষত ও মাংসপেশী থেঁতলে গেলে, বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। জেনে নেই পাথরকুচি পাতার অবিশ্বাস্য ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে।

উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।

সর্দি

সর্দি পুরান হয়ে গেছে, সেই ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উপকারী। পাথরকুচি পাতা রস করে সেটাকে একটু গরম করতে হবে এবং গরম অবস্থায় তার সাথে একটু সোহাগার খৈ মেশাতে হবে। তিন চা-চামচের সাথে ২৫০ মিলিগ্রাম যেন হয়। তা থেকে দুই চা চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে দুবার খেলে পুরান সর্দি সেরে যাবে এবং সর্বদা কাশি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:  রোগ যখন হাঁপানি, পেঁয়াজ খান এখুনি

পাইলস

পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

জন্ডিস নিরাময়ে

লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।

কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয়

তিন মিলিলিটার পাথরকুচি পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়।

কিডনির পাথর অপসারণ

পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। দিনে দুবার দুই থেকে তিনটি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খান।

পেট ফাঁপা

অনেক সময় দেখা যায় পেটটা ফুলে গেছে, প্রসাব আটকে আছে, আধোবায়ু, সরছে না, সেই ক্ষেত্রে একটু চিনির সাথে এক বা দুই চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস গরম করে সিকি কাপ পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এর দ্বারা মূত্র তরল হবে, আধো বায়ুরও নিঃসরণ হবে, ফাঁপাটাও কমে যাবে।

মেহ

সর্দিজনিত কারণে শরীরের নানান স্থানে ফোঁড়া দেখা দেয়। যাকে মেহ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে পাথরকুচির পাতার রস এক চামুচ করে সকাল-বিকাল একসপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

রক্তপিত্ত

পিত্তজনিত ব্যথায় রক্তক্ষরণ হলে দু’বেলা এক চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস দুদিন খাওয়ালে সেরে যাবে।

মৃগী

মৃগী রোগাক্রান্ত সময়ে পাথর কুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে মুখে দিতে হবে। একটু পেটে গেলেই রোগের উপশম হবে।

আরও পড়ুন:  ব্যায়াম করতে মস্তিষ্ক যে কারণে সায় দেয় না

শিশুদের পেট ব্যথায়

শিশুর পেটব্যথা হলে, ৩০-৬০ ফোঁটা পাথর কুচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হয়। তবে পেট ব্যথা নিশ্চিত হতে হবে।

ত্বকের যত্ন পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সাথে সাথেই এর মধ্যে জ্বালাপোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্বন্ধে সচেতন, তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যাও দূর হয়ে যাবে।

কাটাছেঁড়ায়

টাটকা পাতা পরিমাণ মত হালকা তাপে গরম করে কাটা বা থেতলে যাওয়া স্থানে সেক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

শরীর জ্বালাপোড়া

দু-চামচ পাথর কুচি পাতার রস, আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা খেলে উপশম হয়।

পোকা কামড়

বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়া পাথরকুচি পাতাকে মিরাকল লিফ বলা হয়। কারণ পাথরকুচির পাতা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। পাথরকুচির পাতার রসে রয়েছে এসিডিক হাইড্রোজেন আয়ন। যা দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাতার রস হতে ১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ল্যাম্প জ্বালাতে সফল হয়। এই উদ্ভাবন নিবন্ধিত হওয়ার পর বড় আকারে গবেষণা করা হচ্ছে, যাতে অধিকপরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares