প্রচ্ছদ প্রবাস

সৌদিতে গৃহকর্মী কুসুম এর মৃত্যু, বয়স জালিয়াতির দায় কার ?

25
সৌদিতে গৃহকর্মী কুসুম এর মৃত্যু, বয়স জালিয়াতির দায় কার ?
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

প্রাথমিক শিক্ষা সনদ অনুযায়ী ১৪ বছরের শিশু উন্মে কুলসুম (১৪)। অথচ পাসপোর্টে বয়স বানানো হয়েছে ২৫। এরপর তাকে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল সৌদি আরবে। কিন্তু দুই বছরের মাথায় লাশ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরেছে মেয়েটি। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের কিং ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১২সেপ্টেম্বর তার লাশ দেশে আসে। পরিবারের দাবি, যে বাড়িতে কাজ করতেন সেই বাড়ির নিয়োগকর্তা ও তার ছেলে মারধর করে তাঁর দুই পা, হাত ও কোমর ভেঙ্গে দিয়েছে। এরপর একটি চোখ নষ্ট অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে গেছে। এরপর সৌদি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কুলসুম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম ও নাসিমা বেগমের মেয়ে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলো মেয়েটি।কুলসুমকে নিযার্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে নাসিরনগর থানায় একটি মামলা করেছে পরিবার। বিএমইটিতে লিখিত দিয়েছেন তার পরিবার। অবশ্য এমন শত কুলসুমের মৃত্যুতেও টনক নড়ে কী আমাদের? যে এজেন্সি কুলসুমকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিল গত বছর নারী পাচারের অভিযোগে সেই এজেন্সির মালিককে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।

দেশে থাকতে ২০১৭ সালে প্রাথমিক নূরপুর লাহাজুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় কুলসুম। সনদপত্র অনুযায়ী সেখানে তাঁর জন্মতারিখ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর। পরিবারও বলছে ২০০৬ সালেই জন্ম মেয়েটির। কিন্তু তাঁর পাসপোর্টে জন্মতারিখ উল্লেখ করা ১৩মার্চ ১৯৯৩। পরিবার জানাল, বিদেশে পাঠানোর জন্য এজেন্সি ও দালাল মিলে পাসপোর্ট বানায়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে যে জন্মসনদ দেওয়া হয় তাতে তাঁর জন্মসাল দেখানো হয় ১৯৯৩। এটাকে ভিত্তি করেই তার পাসপোর্ট করা হয়। অথচ মেয়েটির বড় বোনের বয়স এখনো ১৫।

আরও পড়ুন:  পাঁচ বাংলাদেশিকে খুঁজছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন

পরিবার বলছে, গত ২৪ জুন মেয়েটিকে অত্যাচারের অভিযোগ এনে নাসিরনগর থানায় তারা স্থানীয় দালাল আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশী দালাল রাজ্জাকের কথায় ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার ফকিরাপুলের মেসার্স এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ দিয়ে কিশোরী কুলসুমকে সৌদিআরবের রিয়াদে পাঠান। বেতন কম দেওয়াসহ রিয়াদের মালিকপক্ষ কিশোরী কুলসুমকে শারিরীক নির্যাতন করে। ওই কিশোরীকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে ১০হাজার টাকাও নেন রাজ্জাক। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কুলসুমের কোনো সন্ধ্যান দিবে না বলে হুমকি দেন রাজ্জাক। পুলিশের কাছে বার বার গিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি তার পরিবার। নির্যাতনের ভিডিও লাইভে দেখালেও তারা বিশ্বাস করেননি।

এ বছরের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালকের কাছে একটি অভিযোগ দেন। তাতে বলেন, এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশলের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান কুলসুম। কিন্তু ঠিকমতো বেতন পাননি। এরপর শারিরীক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হতে থাকেন। মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য বারবার যোগাযোগ করা হলেও এজেন্সি সাড়া দেননি। এরপর তারা জানতে পারেন যে বাড়িতে কাজ করতেন সেই বাড়ির নিয়োগকর্তা ও তার ছেলে এপ্রিল মাসে মারধর করে তাঁর দুই পা, হাত ও কোমর ভেঙ্গে, একটি চোখ নষ্ট অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে গেছে। এরপর সৌদি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিন মাস পর গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের কিং ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুলসুমের মৃত্যু হয়। এরপর লাশ ফিরিয়ে আনার অনুরোধ ও বিচারের দাবি করে পরিবার। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম আরিচুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো কাগজ স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা আছে। আর সৌদি চিকিৎসকও মৃত্যুর কারণটি এটি লিখেছেন। তবে পুলিশ স্থানীয় দালালদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

আরও পড়ুন:  আমিরাতের মানবসম্পদ মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

১২ সেপ্টেম্বর মেয়ের লাশ ফিরে পেয়েছে কুলসুমের পরিবার। কিন্তু কুলসুম তো আর কোনদিন ফিরে আসবে না। কাজেই পরিবারের কান্নাও থামছে না। কুলসুমের মা নাসিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রমজান মাসের শেষ রোজার দিন দুপুর ফোন করে তাদের জানানো হয় মেয়ে হাসপাতালে আছে। তারা তখন জানতে পারেন মালিকের খারাপ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মারধর করে ফেলা রাখা হয়। এরপর কোরবানি ঈদের পরদিন মেয়ের সঙ্গে হাসপাতালে শেষ কথা হয়। তখন পরিবারের কাউকে চিনতে পারেনি কুলসুম। কারও কথারও উত্তর দিতে পারেনি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares