প্রচ্ছদ অর্থ ও বাণিজ্য

করোনায় ইউরোপ আমেরিকা থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে

11
করোনায় ইউরোপ আমেরিকা থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

21

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলমান করোনা পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছেন সৌদি প্রবাসীরা। সৌদি আরবের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। কিন্তু করোনা মহামারীতে সে স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপ থেকেও বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে রেমিট্যান্স কমেছে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো থেকে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিকে দেশের জন্য সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, মাতৃভূমির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশীদের শিকড় কিছুটা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। ওই সব দেশে বসবাসকারী দ্বিতীয় প্রজন্ম ভুলতে বসেছিল দেশে থাকা স্বজনদের কথা। কিন্তু করোনা মহামারীতে প্রবাসীদের হূদয়ে মাতৃভূমির প্রতি নতুন করে ভালোবাসার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই দেশে বাড়িঘর নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছেন।

দেশে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অসংখ্য বাংলাদেশী। এর প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৫৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও আধুনিক জীবনের জন্য অভিবাসী বাংলাদেশীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো। এসব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা উপার্জিত অর্থের বড় অংশই নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করেন। আবার দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের সঙ্গে দেশে থাকা স্বজনের সম্পর্কেও ছেদ পড়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি নতুন আশার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা ২৪৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। সে হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গড়ে প্রতি মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২০ কোটি ডলার। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গড়ে ২৮ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

আরও পড়ুন:  লাজ ফার্মায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুর পর নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক আকারে আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলারের কম, এমন প্রত্যেক নাগরিকের ব্যাংক হিসাবে মাসে ১ হাজার ২০০ ডলার করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে ৬০০ ডলার করে কর্মহীন নাগরিকদের ভাতা দেয়া হয়। সব মিলিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা হিসেবে যে সহযোগিতা নাগরিকরা পেয়েছেন, তা পুরো মাস কাজ করেও অনেকের পক্ষে আয় করা সম্ভব হতো না। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের বড় অংশই গত কয়েক মাসের আয়কৃত অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। দেশে থাকা স্বজনদের উপার্জন কমে যাওয়ায় অনেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে বাধ্যও হয়েছেন।

আরও পড়ুন:  আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

প্রবাসীরা বৈধ পন্থায় দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ প্রণোদনা পাচ্ছেন সরকার থেকে। প্রণোদনার এ নীতি গ্রহণের পর রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা ফিরে আসে। একই সঙ্গে কমে আসে অবৈধ হুন্ডির তত্পরতা। করোনায় বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে দেশে মানুষের আয় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা সঞ্চিত অর্থ, ব্যবসার পুঁজি থেকে শুরু করে যেকোনো উপায়ে দেশে স্বজনদের জন্য অর্থ পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। তবে রেমিট্যান্সের বিদ্যমান প্রবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে হয় না। কারণ এরই মধ্যে বাংলাদেশীদের বিদেশযাত্রা প্রায় বন্ধ রয়েছে। শ্রমবাজারগুলোতে নতুন করে ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না।

 

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares