প্রচ্ছদ প্রবাস

চারটি মাস নবাবজাদা হয়ে ছিলাম সি’ঙ্গাপুরের বিভিন্ন জায়গায়।

13
চারটি মাস নবাবজাদা হয়ে ছিলাম সি’ঙ্গাপুরের বিভিন্ন জায়গায়।
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

চারটি মাস নবাবজাদা হয়ে ছিলাম সি’’ঙ্গাপুরের বিভিন্ন জায়গায়। ছিল নরম বিছানা,আসতো তিনবেলা সময় মত খাবার সহ

ফলফলাদি ও শুকনো খাবার। মোবাইল ব্যবহারের জন্য ছিল ফ্রী ওয়াইফাই সংযোগ। ছিল না কোন ডাটা কেনার টেনশন।

আর মুক্তি পাবার পর শরীরটা প্রচন্ড ব্যাথায় ভরে গেছে। কারণ চারটি মাস নরম বিছানায় শুয়ে অভস্ত্য।

আর এখন থাকি শুধুমাত্র প্লাইউডের উপর শূণ্য বিছানায়।( সেটারও কারণ ছারপোকা) যেদিকেই গড়াগড়ি করি শরীরে ব্যাথা অনুভব করি।

তিনতলার সিড়ি বেয়ে উঠানামা করতে করতে দফারফা।ইন্ডাস্ট্রিরিয়াল ডরমিটরিগু’’লো কিছুটা বেশিই উঁচু হয়ে থাকে।

তিনতলা পাঁচ তলার সমান উঁচু লাগে। আবার এখন শুরু হয়েছে যত টেনশন। প্রতিদিন কাজের উদ্দেশ্যে ভোরে বেলায় উঠা। সকালের নাস্তা,দুপুরের খাবার প্যাকেটিং করা,

গাড়ীর অ’পেক্ষায় রাস্তায় বসে থাকা, কাজে গিয়ে বসদের ঠ্যালা খাওয়া, এত দেরি হলো কেন? অনেক দুশ্চিন্তার মাঝে সারাদিন কাজ করা,

কাজ থেকে এসেই বাজার করা কি যে একটা ঝামেলা দোকানে। কি কিনবো, কি রান্না করবো, কি খাবো, রান্না করতে গিয়ে কুকিং পার্টনারের উপর মেজাজ গরম হওয়া।

আরও পড়ুন:  লেবাননে আটকেপড়া আরও ৪১২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছে

রান্নাবান্না শেষে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেশে প্রিয়জনদের কল করা।ততক্ষণে দেশের মানুষ ঘু’মিয়ে পরার মত। এসব নানান টেনশনে পরে থাকতে হচ্ছে সব সময়। বেশ ভালোই ছিলাম বিগত ক’মাস।

প্রবাস জীবন কি যে এক যন্ত্রণার, একটা কয়েদখানা। মাঝে মাঝে আমর’’া ভাবি চলে যাব’’ো দেশে।

কি করলাম এতদিন বিদেশ করে! কিন্তু যাব’’ো যাব’’ো করে এখনও যাওয়া হচ্ছে না। এই বছর না আগামী বছর এমন করতে করতে কত বছর যে পেরিয়ে যাচ্ছে তার খেয়াল নেই।

কিশোর থেকে মানুষ বুড়োতে পরিনত হচ্ছে। তবুও এই কয়েদখানা থেকে মুক্তি নেই। আবার ভাবি এতগু’’লো বছর প্রবাসের মাটিতে খেয়ে

না খেয়ে দেশের বাড়িতে যে টাকাগু’’লো পাঠাতাম সেগু’’লো আজ সব জলে ভেসে গেছে। নেই কোন ব্যালেন্স। কি করবো দেশে গিয়ে? মানুষের চাহিদার কোন শেষ নেই।

বড় ভুল করি আমর’’া নিজের কাছে কোন টাকা না রেখে। আমা’র মত হয়তো অনেকেই আছেন এমন। তারাও এখন হারে হারে টের পাচ্ছে।

সময় ফুরিয়ে এখন বুঝে কি ভুলটাই না করেছে। আমা’র মতে সকল প্রবাসীর উচিত প্রতিমাসের বেতন থেকে অন্তত কিছু কিছু টাকা নিজের একাউন্টে জমা করা।সেটা গো’পনেই হোক বা প্রকাশ্যে। যারা এমন বু’’দ্ধিতে চলছে তাদের স্যালুট জানাই। ভাই আপনারা অনেক বু’’দ্ধিমান। অন্তত দেশে ফিরে গেলেও কোন টেনশন করতে হবে না। হাত খরচের জন্য হাত পাততে হবে না বাবা,মা ভাইদের কাছে।

আরও পড়ুন:  ব‍্যবসা চাঙা করতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের অভিনব উদ্যোগ।

এখনও সময় আছে যারা আমা’র মত বোকাশোকা আছেন দয়া করে আর বোকামি করবেন না। এখন থেকে পরিবারের পাশাপাশি নিজের চিন্তা টুকুও করুন।

তাহলে হবে আপনার আমা’র প্রবাস জীবন স্বার্থক। দেশে ফিরে একটা কিছু করে চারটা ডাল ভাত খেতে পারবেন। না হলে কিন্তু আপনার আমও যাব’’ে ছালাও যাব’’ে। মাথা ঠুকে মর’’ে গেলেও কোন কাজে আসবে না। —কিরণ মাহমুদ মান্না সি’’ঙ্গাপুর প্রবাসী

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares