প্রচ্ছদ Featured News আমি এই ছাত্রলীগ দেখতে চাই না,ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এসব করবে মেনে নেওয়া...

আমি এই ছাত্রলীগ দেখতে চাই না,ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এসব করবে মেনে নেওয়া যায় না।

537
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

ছাত্রলীগের শোভন-রাব্বানী কমিটির ওপর প্রচ- ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত শনিবারের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগ ইস্যুতে অনমনীয় মনোভাবেই রয়েছেন সংগঠনটির অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, শনিবার রাতের ঘটনার পর থেকে দলের সিনিয়র নেতাদের কয়েকজন বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মনোভাবের পরিবর্তন করতে।

advertisement

কিন্তু তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে আগাম সম্মেলন অথবা শোভন-রাব্বানীকে অব্যাহতি দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবার এমনও হতে পারে তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন তিনি। অর্থাৎ ছাত্রলীগের বিষয়ে যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এ বিষয়ে বলেন, রবিবার রাতে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন তারা। সংসদ থেকে ফেরার সময় সালাম দেন; কিন্তু কোনো কথা হয়নি।

গণভবন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালেও গণভবন যান শোভন ও রাব্বানী। এ সময়ও তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন হবে বলে মনে হয় না।

আরও পড়ুন:  ‘যদি তোমার কথা না শোনে আমি দেখবো।’

কারণ দলের নেতারা ছাত্রলীগকে রক্ষার মিশন নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। অনেকেই চাচ্ছেন, ছাত্রলীগের নেতারা তাদের বশংবদ হোক। আগে যেভাবে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল ছাত্রলীগ, সেভাবে নিয়ন্ত্রিত হোক। মূলত তারা ছাত্রলীগকে রক্ষা করার বিনিময়ে গডফাদার সাজতে চাচ্ছেন, যে গডফাদার প্রথা ভেঙে অনেক আশা নিয়ে শোভন ও রব্বানীকে দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি করেছিলেন শেখ হাসিনা। ফলে এ যাত্রায় পার পেতে পারেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মনোনয়ন বোর্ডের সভার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ‘লাল ফাইল’ খুলে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীর বিষয়ে একের পর এক অভিযোগ পড়তে শুরু করেন। তিনি জোরে জোরে পড়েন এবং নেতাদের বলেন, আমি পড়ি, আপনারা শোনেন।

এ সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর দেড় কোটি টাকা চাঁ*দা দা*বির বিষয়টি উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী পড়ে শোনান, টাকা না দেওয়া হলে ভিসি কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকেন সেটাও দেখে নেওয়ার হু*মকি দেয় রাব্বানী। এ সময় শোভনও রাব্বানীর পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এভাবে একের পর এক অভিযোগ পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:  অক্টোবরে মাঠ থাকবে আওয়ামী লীগের দখলে

পরে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদসহ অনেকেই ছাত্রলীগের বিষয়ে আরও অভিযোগ তোলেন। শোভন ও রাব্বানীর অনিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিজীবন, লাইফস্টাইল, বাড়িগাড়ির বিষয়টিও উঠে আসে আলোচনার টেবিলে। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, আমি এই ছাত্রলীগ দেখতে চাই না। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এসব করবে মেনে নেওয়া যায় না।

গণভবনের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে খবর বের হয় ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশের বিষয়টি আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেননি মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত একাধিক সূত্র। বৈঠকে উপস্থিত এমন চারজন নেতা আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, নেত্রীর বক্তব্যে যেটা বুঝিয়েছেন, সেটা আসলে ভিন্নভাবে এসেছে গণমাধ্যমে।

তিনি সামগ্রিকভাবে ছাত্রলীগের ওপর প্রচ- ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এখানে বর্তমান কমিটি বা কমিটির দুই শীর্ষ নেতা কোনো আলাদা বিষয় নয়। ছাত্রলীগের কর্মকা-ের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এমনটিও বলেছেন, এভাবে চললে ছাত্রলীগেরই দরকার নেই। বন্ধ করে দেওয়া হোক এসব।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1.5K
    Shares
advertisement