প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

কেশবপুরে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে স্বাবলম্বি হয়েছেন শিক্ষিত যুবক ইমরান হোসেন

7
কেশবপুরে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে স্বাবলম্বি হয়েছেন শিক্ষিত যুবক ইমরান হোসেন
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

আলমগীর হোসেন,  কেশবপুর প্রতিনিধি:

কেশবপুরে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে স্বাবলম্বি  হয়েছেন শিক্ষিত যুবক ইমরান হোসেন। জানাগেছে, উপজেলার ঝিকরা গ্রামের সামাদ মোড়লের পূত্র বিবিএ ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ইমরান হোসেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল জাত সম্প্রসারণ, সুষম সার ব্যাবহার ও বালাই ব্যাবস্থাপনা আওতায় এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের দিক নির্দেশনায় পরীক্ষামূলকভাবে ২৬ শতক জমিতে ব্লাক বেবি জাতের তরমূজ চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। তার ক্ষেতের তরমূজের ফলন দেখে ঐ এলাকার অনেক যুবক তরমুজ চাষে ঝুঁকে পড়েছে। যার ফলে কেশবপুর উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষিত যুবক ইমরান হোসেন জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুরভাবের কারণে ৭ মাস পূর্বে তার কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে তার অলস সময় কাটানোর জন্য তিনি গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষের সিদ্ধান্ত নেন।  তার আগ্রহে উপজেলা কৃষি বিভাগ এগিয়ে আসেন। কৃষি বিভাগ তার ২৬ শতক জমির মধ্যে ১৫ শতক জমি প্লট প্রদর্শনীর মাধ্যমে কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল জাত সম্প্রসারণ, সুষম সার ব্যাবহার ও বালাই ব্যাবস্থাপনা আওতায় ব্লাক বেবি জাতের তরমূজ চাষের পরিকল্পনা নেয়। ইমরান তার অবশিষ্ট ১১ শতক জমিতেও তরমুজ আবাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষেত পরিচর্জা করে। গ্রীষ্মের শুরুতে তিনি বীজ রোপন করেন। ফসলের নিয়োমিত পরিচর্চা করায় ৩ মাসের মধ্যে ক্ষেতে তরমূজ ধরতে শুরু করে। তার ক্ষেতে ফল আসা পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। তরমুজ যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য তিনি নেট দিয়ে টোং তৈরি করেছেন। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে তিনি ফেরামোন ফাদ দিয়েছেন। তার ক্ষেতে ১ হাজারেরও বেশি তরমুজ ধরেছে বলে তিনি আশা করছেন। প্রতিটি তরমুজের ওজন এভারেজ ২ কেজি। অসমে তরমুজ হওয়ায় বাজারে দামও বেশি। বর্তমানে তরমুজ পাইকেরি দাম হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা। সে হিসাবে ২ হাজার কেজি তরমুজ বিক্রি হবে ৮০ হাজার টাকা। প্রায় ৫০ হাজার টাকা তার লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

আরও পড়ুন:  জঘন্য প্রকৃতির মানুষ দ্বারা স্বপ্ন ভাঙছে কৃষকের: কালীগঞ্জে ফসলহানী ঘটেই চলেছে

এদিকে অসময়ের তরমুজ ক্ষেত ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূসরাত জাহান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মনির হোসেন, উপজেলা শিশু বিষয়ক অফিসার বিমল কুমার কুন্ডু, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার পুলোক কুমার শিকদার, উপজেলা নির্বাচন অফিসার বজলুর রশীদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রিযিবুল ইসলাম, কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ, দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন সবুজ প্রমুখ। পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূসরাত জাহান উপজেলা ব্যাপী গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগকে অনুপ্রেরণা প্রদান করেন।

আরও পড়ুন:  শার্শায় গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি : রক্তক্ষরণরত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, এদেশের আবহাওয়া গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে খুবই উপযোগি। গ্রীষ্মকালীন তরমূজ খেতেও খুবই সুস্বাদু। লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের নতুন নতুন ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares