প্রচ্ছদ Featured News

গণমাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা ভুয়া রিপোর্ট করছে: প্রতিমন্ত্রী

9
মিড-ডে মিল নিয়ে নিউজ নয়, প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সাংবাদিকতায় ঢুকে পড়েছে, ভুয়া রিপোর্ট করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, আমরা এলাকায় দেখেছি সমস্ত বিএনপির, ছাত্রদলের, যুবদলের ছেলেরা এখন সাংবাদিকতা করে, ভুয়া রিপোর্ট করে। এই দিকে থেকে আপনারা একটু নজর রাখবেন। সরকারের যে বদনাম না হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মো. জাকির হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে এখানে আসছে। তাদের কোনো জ্ঞান-গরিমা নেই। হুট করে একটা লিখে দিলেই মনে হয় হয়ে গেল! সরকারের ভাবমূর্তি কোথায় গেল না গেল না গেল এরা তা দেখে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেশকিছু দিন আগে মিড-ডে মিল নীতিটা পাস হয়েছে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নিউজটি (খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর) একদিকে মন্ত্রণালয় এবং অন্যদিকে ভাবমূর্তি ক্ষু’ণ্নের মতো মনে হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য মানুষের কল্যাণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। আমাদের সন্বন্ধে নানা ধরনের কথা বলে মানুষকে নানাভাবে উ’স্কে দিচ্ছে বিএনপি। এটা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে, আর মানুষকে জানাতে হবে শেখ হাসিনা সরকার কখনও জনকল্যাণ ব্যতীত কোনো কাজ করে না।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবারের দেয়ার উদ্যোগটি ভালোর করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিড-ডে মিল কার্যক্রমটি আমরা ১৬ উপজেলায় পাইলটিং (পরীক্ষামূলকভাবে চালু) করেছি। আমরা বাচ্চাদের খিচুড়ি খাওয়াব। ৩ দিন বিস্কুট খাওয়াব, ৩ দিন রান্না করা খাবার খাওয়াব। ডিম, কলা ইত্যাদি ইত্যাদি আমরা চিন্তাভাবনা করছি, যাতে আমরা বাচ্চাদের কিছুটা হলেও পুষ্টি দিতে পারি।

আরও পড়ুন:  শিশুদের যেভাবে যৌন হয়রানির হাত থেকে বাঁচাবেন

এ সময় রান্না করা খাবার হিসেবে বাচ্চাদের খিচুড়ি দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব নিয়ে গণমাধ্যমে পরিবেশিত সংবাদের সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ‘খিচুড়ি রান্না করা শিখতে ১ হাজার সরকারি কর্মকর্তাকে বিদেশে পাঠাতে ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে’- গণমাধ্যমে এমন খবর প্রচারের পর গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, খিচুড়ি রান্না শিখতে নয়, ব্যবস্থা দেখতে, পুরো মিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে বিদেশে যাওয়ার জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আকরাম-আল-হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের কোনো অর্থ এখনো ছাড়া হয়নি। পরিকল্পনা কমিশন কিছু জিজ্ঞাসা পাঠিয়েছে। তার জবাব পাঠানো হবে। এরপর একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।

তিনি বলেন, স্কুল ফিডিং প্রকল্প ১০৪টি উপজেলায় চালু ছিল যা ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। আগামী বছর থেকে সারাদেশে নির্বাচনী ইস্তেহারমতে সব স্কুলগুলোতে দুপুরের খাবার দেয়া হবে। এটা বাস্তবায়ন সঠিকভাবে করার জন্য ভারতসহ যেসব দেশ মিড ডে মিল চালু করেছে, সেসব দেশ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ১ হাজার কর্মকর্তার এ প্রশিক্ষণের কম্পোনেন্ট রাখা হয়েছে।

সিনিয়র সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় স্কুল ফিডিং পলিসি অনুমোদিত হয়েছে। এই পলিসির ভিত্তিতে ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানের প্রকল্পটি ১০৪টি উপজেলায়, যা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যায়ক্রমে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হবে। সেই নির্বাচনী ইশতেহারকে সামনে রেখে আমরা ২০২৩ সাল পর্যন্ত একটা প্রকল্প প্রণয়ন করে দাখিল করেছি।

আরও পড়ুন:  নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বি’স্ফোরণের ঘটনায় ভারতের শোক

এই প্রকল্পে দুটি বিষয় আছে জানিয়ে সচিব বলেন, বাচ্চাদের আমরা দুপুর বেলা খাবার দেব। খাবারটা হবে ২ ধরনের। ৩ দিন বিস্কুট এবং ৩ দিন রান্না করা খাবার। বর্তমানে ৬ দিন বিস্কুট দেয়া হয়। রান্না করা খাবারের মধ্যে খিচুড়িটি সবচেয়ে প্রোটিন-সমৃদ্ধ।

এটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মিড ডে মিল চালু করতে হবে। কীভাবে ম্যানেজ করব, সেই ম্যানেজমেন্ট দেখার জন্য আসলে যে সমস্ত উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে এই ব্যবস্থা চালু আছে, সেই ব্যবস্থা দেখার জন্য এবং দেশে-বিদেশে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য কম্পোনেন্ট রেখেছি সক্ষমতা অর্জনের জন্য। খিচুড়ি রান্না করার জন্য আমরা কোন কর্মকর্কতা বা আমরা বিদেশে যাচ্ছি না।

সচিব বলেন, যেখানে রান্না করা খাবার দিচ্ছি সেখানে ঝরে পড়ার হার একদম কমে গেছে, ৩ শতাংশের নিচে চলে এসেছে। বাচ্চাদের পুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে, ভর্তির হার বেড়েছে। উপস্থিতির হার বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের একটি প্রভিশন আছে, কোনো প্রকল্পে এস্ট্যাবলিশমেন্ট কস্ট, ফরেন ট্রেনিং, অভ্যন্তরীণ ট্রেনিং কোনোভাবেই ৮ শতাংশের ওপরে হবে না। প্রশিক্ষণের জন্য মোট প্রকল্প ব্যয়ের ০.২ শতাংশ। দারিদ্র্য কবলিত ১০৪টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং পাইলট প্রকল্প, সেখানে আমরা বিস্কুট দিচ্ছি। ১৬টি উপজেলায় রান্না করা খাবার চালু আছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 11
    Shares