প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

শরিকদের পাত্তা দিচ্ছে না বিএনপি

14
শরিকদের পাত্তা দিচ্ছে না বিএনপি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

নিজেদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আর কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভোটকেন্দ্রিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন পার করে বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দুই জোটের সঙ্গেই দলটির ঘনিষ্ঠতা ছিলো। তবে নির্বাচনের পর ধীরে ধীরে জোটের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়ে এসেছে বিএনপির।

বিশেষ করে গত মার্চে পাঁচ আসনের উপনির্বাচনে সামনে আসে জোটের শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব। কারণ তখন এককভাবেই প্রার্থী দিয়েছিল বিএনপি। সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আরো পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির কাছে কোনো পাত্তাই পাচ্ছে না শরিকরা। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে হতে যাওয়া এসব আসনের ভোট নিয়ে ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নূন্যতম আলোচনাও করেনি বিএনপি।

বিষয়টি নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বিএনপির মিত্রদের মধ্যে। অবশ্য কেউ কেউ নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই এমন দাবি করছেন। কেউ আবার জোট আছে কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন। যদিও বিএনপি নেতাদের দাবি, বিএনপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও জোটের শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। নির্বাচনে সবাই বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে।

২০ দলীয় জোটের একটি শরিক দলের মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নূন্যতম যোগাযোগটুকুও রাখছে না বিএনপি। মাঠের কোনো কর্মসূচি নেই তাই বলে সবাইকে বাদ দিয়ে চলতে হবে এটা শোভনীয় না।’ জোট আসলে আছে কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন এই নেতা।

বিএনপির শরিক ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি সে কথা জানি, কিন্তু কারা প্রার্থী হবেন, কিভাবে কি করা যায় সে নিয়ে কোনো ধরণের যোগাযোগ বিএনপি করেনি। এটা দুঃখজনক। আসলে বিএনপির রাজনীতিতে উদারতার সংকট রয়েছে।’

আরও পড়ুন:  জামায়াত নিয়ে যা বললেন অলি

কেন এমন পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন নেই, কর্মসূচি নেই এখন তো জোট লুজ হয়ে গেছে। তাই হয়তো কারো সঙ্গে আলাপ করারও প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি।’

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। ওই নির্বাচনে ৫৭ আসনে জোটের শরিকদের ছাড় দেয় বিএনপি। এর মধ্যে ২০-দলীয় জোটের শরিকদের ৩৮ আর ঐক্যফ্রন্টের শরিদের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়ে ১৯টি আসন। বাকী ২৪৩ টি আসন নিজেদের হাতে রাখে দলটি। যদিও নির্বাচনে বিএনপির ৬ জন ও গণফোরামের দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এদিকে মৃত্যুজনিত কারণে গতমার্চে শূন্য হওয়া বগুড়া-১, গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪, ঢাকা-১০, যশোর-৬ আসনে উপনির্বাচন হয়। ওই আসনগুলোতেও বিএনপি এককভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। যদিও কোনো আসনে তারা বিজয়ী হতে পারেনি। সামনে আরও ৫টি আসনের উপ-নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এগুলো হলো- ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, সিরাজগঞ্জ-১, নওগাঁ-৬ ও পাবনা-৪। এই আসনগুলোতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন›িদ্বতা করতে যাচ্ছে বিএনপি।

ইতিমধ্যে পাবনা-৪ আসনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও নওগাঁ-৬ আসনে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী দেবে দলটি। ওই দুটি আসনেও ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি-জমা ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে এককভাবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে বিএনপি।

আরও পড়ুন:  কোভিড লড়াইয়ে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও জোরদার হবে

জানা গেছে, এই পাঁচ আসনের মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে জেএসডির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন মনোনয়ন চাইতে পারেন এমন কথা শোনা গেলেও তিনি নির্বাচন করছেন না। বাকি আসনগুলোতে সেইভাবে শরিকদের মধ্যে প্রার্থী হতে কারো আগ্রহের কথা জানা যায়নি।

প্রার্থীতা নিয়ে আপত্তি না করলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় না ডাকায় শরিকরা যখন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করছে। এখানে শরিকদের নিয়ে আলোচনা মূখ্য বিষয় না।

জোটের শরিকদের ক্ষোভের বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ২০দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তাদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। করোনার মধ্যেও ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে। কিন্তু আগের মত পরিবেশ তো নেই সেটাও বুঝতে হবে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 7
    Shares