প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের ঢাকায় বাড়ি আর বাড়ি,মায়ের নামেই ১৪০কোটি টাকা

যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের ঢাকায় বাড়ি আর বাড়ি,মায়ের নামেই ১৪০কোটি টাকা

2019
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জিকে শামীমকে আ*টক করেছে র‌্যাব। আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় জিকে বিল্ডার্স থেকে শামীমকে আ*টক করা হয়। এর আগে বেলা ১২টা থেকে তার কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন র‌্যাব সদস্যরা। এর পর ভেতরে অভিযান চালান তারা। অভিযানের পর অ*বৈধ অ*স্ত্রসহ শামীমকে আ*টক করে র‌্যাব। এ সময় জিকে বিল্ডার্স থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা ও মা*দক জ*ব্দ করা হয়।

advertisement

রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজই জি কে শামীম নিয়ন্ত্রণ করেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গণপূর্তে এ শামীম ছিলেন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি।

রাজধানীর বাসাবো এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং একাধিক প্লট রয়েছে শমীমের। বাসাবোর কদমতলায় ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়িটি জি কে শামীমের। বাড়িটির ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সর্দার।

শামীম কয়েক বছর বাসাবোর ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন থাকছেন বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসে নিজের ফ্ল্যাটে। নিজের কার্যালয় বানিয়ে বসেন নিকেতন এলাকায় একটি ভবনে। বাসাবোতে আরও রয়েছে তিনটি ভবন এবং ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েকশ’ বিঘা জমি কিনেছেন যুবলীগের এই নেতা।

আরও পড়ুন:  ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলে সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে বসানো হবে না

অভিযান শেষে র‍্যাবের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেছেন, অভিযান ১০ কোটি নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ২০০ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর পেয়েছি। এর মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে। এ ছাড়া তার কাছ থেকে মার্কিন ডলার, মা*দক ও আ*গ্নেয়া*স্ত্র পাওয়া গেছে। এগুলোর লাইসেন্সের সত্যতা আমরা যাচাই করব। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আটজনকে গ্রে*প্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় চাঁ*দাবা*জি ও টে*ন্ডারবা*জির ক্ষেত্রে তার নাম এসেছে। তার কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। এগুলো কীভাবে এসেছে আমরা তদন্ত করে বের করব।

অভিযানে অংশ নেয়া র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেছেন, তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে, যদিও তার মা বড় কোনো ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। বাকি টাকা উনার নামে। ব্যবসায়ী হিসেবে নগদ টাকা থাকতেও পারে। তবে তার বিরুদ্ধে মা*নি ল*ন্ডারিংয়ের অভিযোগ ছিল। তার দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে অ*স্ত্র প্র*দর্শন করে চাঁ*দাবাজি ও টে*ন্ডারবা*জির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে, মা*দক পাওয়া গেছে, যেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন:  এবার ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজকে খু’নে শামীমের সম্পৃক্ততা

তিনি আরও বলেছেন, যদি তিনি নির্দোষ হন, তাহলে কোর্টে এগুলোর ব্যাখ্যা দেবেন। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছি, কোর্টে তার বক্তব্য সঠিক হলে তিনি ছাড়া পাবেন। আমরা তথ্য পেয়েছি তার নগদ টাকা অ*বৈধ উৎস থেকে এসেছে। কিন্তু এটা সত্য-মিথ্যা প্রমাণ করার দায়িত্ব তার। এটা তিনি কোর্টের সামনে প্রমাণ করবেন।

শামীম গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর এজিবি কলোনি, হাসপাতাল জোন এবং মধ্য বাসাবোতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন শামীম। ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের মাধ্যমেই তার রাজনীতি শুরু। পরবর্তী সময়ে মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা কালু ও মির্জা খোকনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় এবং তাদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে গণপূর্ত ভবনের ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন।

ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদকের পদও বাগিয়ে নেন। বিএনপি আমলে গণপূর্ত ভবন ছিল তার দখলে। একসময় মির্জা আব্বাস আর খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবিসহ সবুজবাগ-বাসাবো এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শোভা পেত জি কে শামীমের ব্যানার-পোস্টার। এখন শোভা পায় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবিসহ পোস্টার-ব্যানার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 35.1K
    Shares
advertisement