প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

কুষ্টিয়া পুলিশ বর্তমানে জনগণের পুলি , কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কারনেই পরিবর্তন হয়েছে পুলিশি সেবা

18
কুষ্টিয়া পুলিশ বর্তমানে জনগণের পুলি , কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কারনেই পরিবর্তন হয়েছে পুলিশি সেবা
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

কুষ্টিয়ার জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত প্রায় দুই বছর যাবত এই জেলার মানুষকে পুলিশি সেবা ১০০% ভাগ নিশ্চিত করেছেন। জেলা জুড়ে প্রতিদিন কঠোর থেকে কঠোরতর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত।
বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলনে বিশ্বাস করে আসছিল এবং সেটি হরহামেশাই নিয়মে পরিণত হয়েছিল, যে পুলিশকে টাকা না দিলে পুলিশ কোন কাজ করেনা, খুব বেশি দিন আগের কথা নয় হয়তোবা বছর দুয়েক আগে কথা, এই জেলার বেশির ভাগ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ছিল ব্যাপক অভিযোগ, অনেক বার সংবাদের হেডলাইন হয়েছে নিরপরাধকে থানায় এনে নির্যাতনের অভিযোগ পরে অর্থের বিনিময়ে মুক্তি,থানায় অভিযোগ দিতে গেলে টাকা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এ টাকা, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন টাকা, ট্রাফিকে টাকা। যেমন নীল চাষের যুগে মানুষকে শায়েস্তা করার জন্য বাহিনীকে ব্যবহার করা হত, বর্তমান যুগে এমন একটি বাহিনী নিয়োজিত করা হয়েছিল এই জেলায়। আমার বেশ ভালো মনে আছে এই জেলায় এমন এক সময়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন নতুন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত শহরজুড়ে জেলাজুড়ে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সকলের মনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি চারিদিকে কেমন হবে এই পুলিশ সুপার, তিনি কি পারবে অপরাধপ্রবণতা এলাকা হিসেবে সুখ্যাতি আছে কুষ্টিয়া জেলার এবং বাইরের জেলার অনেক বন্ধুরা বলে এই এলাকায় সন্ত্রাসী চাষ হয়, তাদের কথাটা একেবারেই মিথ্যা না। নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্বগ্রহণের দুই একদিন পরেই এই জেলার সকল পর্যায়ের সাংবাদিকদের কথা শুনবে নতুন পুলিশ সুপার, সকলের কাছে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম মনে হয়েছিলো,সকলে অনেকটাই অবাক হয়েছিলো নতুন পুলিশ সুপারকে দেখে, কনফারেন্স রুমে উপস্থিত অনেকের কাছে মনে হয়েছিল না মানুষটা হয়তোবা ভালো হলেও হতে পারে, তার কথায় মনে হয়েছিল সে তার সামাজিক মূল্যবোধ এবং তার এই মহান পবিত্র পেশা ও দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য নিজে দায়বদ্ধতা নিয়েই কথা বলছেন, তার কথায় বহিঃপ্রকাশে ছিল অত্যন্ত মেধা সম্পূর্ণ একজন পুলিশ অফিসার আন্তরিক, মিষ্টভাষী, বিনয়ী তাকে সকলেই বেশ পছন্দ করেছিল।
পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত এই জেলায় কতটুকু সফলতা কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরে তিনি তার নিজ বাহিনীর ভিতরেই শুদ্ধি অভিযান চালায়। অনিয়ম ও দুর্নীতি বিরুদ্ধে ১০০% সফল। কুষ্টিয়া জেলা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের সাথে একেবারে সেঁটে আছে দৌলতপুর উপজেলা ,প্রায় ৪৩ কিলোমিটারের মতো কাঁটাতারের বেড়া বিহীন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, এরই ফলে এই অঞ্চল দিয়ে অবাধে মাদক চোরাকারবারীরা মাদক পরিবহনের একটি নিরাপদ রুট হিসেবে বেশ সুখ্যাতি আছে।
এইবার শুরু হল পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাতের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং যুদ্ধ ঘোষণা একের পর এক অভিযানে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের ধরাশায়ী করে ফেললেন পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত,তার কাছে মাদক ব্যবসায়ীরা স্যালেন্ডার করতে বাধ্য হল, এবং পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাতের কাছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী আবেদন জানালেন মাদক ব্যবসা ছেড়ে সমাজে মানুষ হয়ে ফিরতে চাই। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত শতাধিক ব্যক্তিকে পুর্নবাসনের ব্যবস্থাসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের হাত ফুল দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের পুনরায় সমাজের প্রকৃত মানুষ হিসেবে বাঁচার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত। যা কখনোই এই জেলার মানুষ তার ঋণ শোধ দিতে পারবে না । যুগ যুগ ধরে ফিটনেসবিহীন অবৈধযান নসিমন করিমনের জন্মস্থান কুষ্টিয়া, এই অবৈধ যান তৈরীর কারখানা বন্ধের জন্য অনেকেই চেষ্টা করেছিল কিন্তু সফল হয়নি অসম্ভবকে সম্ভব করে পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।
সড়ক-মহাসড়কের চাঁদাবাজি বন্ধে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত, এই সফলতা অর্জনের জন্য অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে নারী সহকারী পুলিশ সুপার এবং প্রতিটা থানায় একজন নারী সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োজিত করা ছিল তারা শুধু সাংসারিক কোলাহল মিটিয়ে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে দেওয়ার জন্য তার এমন উদ্যোগ জেলা জুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়। এই জেলার অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী টাকার অভাবে ঢাকা রাজশাহীসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারছে না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সেই পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
এই জেলায় ১০৩ টাকায় শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি সুযোগ করে দেন। পৃথিবীজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এমন ভয়াবহ পরিবেশের সৃষ্টি হবে এমনটি কেউ কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। এই দুঃসময়ে অসহায় মানুষের পাশে সর্বদাই নিজেকে নিয়ে যেতে রেখেছিল তানভীর আরাফাত প্রতিদিন দুই বেলা রান্না করা খাবার, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন, এই মহামারিতে কারোর প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছিল পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত, এই জেলার মানুষ পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাতকে “মানবতার ফেরিওয়ালা” উপাধি দিয়ে আখ্যায়িত করেছিলো।
পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) রেঞ্জ সেরা পুলিশ সুপারের পদক লাভ করেন।

আরও পড়ুন:  অসাড় শরীর নিয়েই প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা আয় ফাহিমের

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 11
    Shares