প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

ফুলতলা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ঘুষ কেলেংকারী : শান্তনামূলক বদলি

19
ফুলতলা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ঘুষ কেলেংকারী : শান্তনামূলক বদলি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

স্টাফ রিপোর্টার

সাম্প্রতিক গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে খুলনার ফুলতলা কৃষি ব্যাংকের আইও আমিনুল ইসলামের ঘুষ গ্রহণের চিত্র। বিষয়টি নিয়ে খুলনা কৃষি ব্যাংকের মহা ব্যবস্থাপক শফিউল আজমকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষনিক তদন্তে মাঠে নামেন। এছাড়া অভিযুক্ত আমিনুল ও শাখা ব্যাংক ম্যানেজার মুস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। তবে ঘটনার ৭২ ঘন্টা পার হলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ঘোলাটে পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষি ব্যাংকের খুলনা বিভাগীয় মহা ব্যবস্থাপক আমিনুলকে তরিঘরি করে সাতক্ষীরা জেলায় বদলি। যেখানে সরকারি বিধি মোতাবেক ঘুষের শাস্তি দন্ডবিধি ১৬১ ধারা মোতাবেক ৩ বছরের কারা দন্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে। সেখানে জনগনের আইওয়াশ করতে খুলনার পাশ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়েছে ঘুষ কেলেংকারীর সাথে জড়িত আমিনুল ইসলামকে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় , কৃষি ব্যাংক খুলনা বিভাগের মহা ব্যবস্থাপক শফিউল আজমের সাথে। তিনি জানান, আমিনুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমানের বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, তদন্ত শেষ না হলে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মানবাধিকার কর্মী শেখ ইউনুস আলী জানান, ঘুষ লেনদেনের ভিডিওতে আমিনুলের নিজের স্বীকারক্তি রয়েছে সে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন, এর পরেও কি এমন তদন্ত প্রয়োজন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
শাহরিয়া খান শান্ত নামে এক ভুক্তভোগি জানান, লোন নিতে গেলে আমিনুলকে ঘুষ দেওয়া লাগে যার সম্মূখীন আমরা সহ গ্রামের অনেক লোক হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকালে ফুলতলা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মশিয়ালী গ্রাম থেকে আসা লোন গ্রহীতা মোফাজ্জেল গাজীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় সে ভিডিও ধারন হয়। বিষিয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ফুলতলা এলাকার মানুষ কৃষি ব্যাংকের এ শাখার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের ভোগান্তির বিষয় তুলে ধরেন।
জানাযায়, ফুলতলা শাখার কৃষি ব্যাংকের জন্মলগ্ন থেকেই লোন নিতে গেলেই ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তাদের গুনতে হয় পার্সেন্টেজ। যদি কেউ ১ লাখ টাকার লোন নিতে আসে তাকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে। অর্থাৎ ১০ % হারে ঘুষ দেওয়ার চিরচারিত রেওয়াজ মেনে আসছেন এখানকার কতিপয় দূর্নীতি পরায়ন ব্যাংক কর্মকর্তা । ঘুষ কেলেংকারির সাথে জড়িত সেই সব ব্যাংক কর্মকর্তাদের নামও ইতিমধ্যে উঠে আসছে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ।
তথ্যমতে, বর্তমান ফুলতলা কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান ২০১৮ সালে যোগদানের পর থেকেই এ ব্যাংকের অনিয়মের চিত্র বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদের সাথে অশোভনীয় আচারন, সেবা প্রত্যাশীরা ব্যাংকে সকালে আসলে বিকাল পর্যন্ত বসিয়ে রাখে। এমন বিভিন্ন অভিযোগের পাহাড় জমে আছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, আমিনুল ইসলাম ও ব্যাংক ম্যানেজার মুস্তাফিজুরের সাথে যোগসাজস করে ব্যাংকে এই অনিয়মের চাকা সচল রেখেছেন। গিলাতলা থেকে ফরহাদ নামে এক ব্যক্তি ম্যানেজারের সাথে লোনের বিষয় নিয়ে কথা বললে তাকে অপমান করে রুম থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয় ফুলতলা শাখার ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে (01914——94) কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
শুধু ফরহাদ নয় , হাজারও গ্রাহকরা সব কাগজপত্র ঠিক থাকা স্বত্তে লোনের মুখ দেখতে পারছে না। আর যারা গোপনে বাধ্য হচ্ছেন ঘুষের টাকা দিতে, শুধু তাদেরই লোন পাশ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি না পাল্টালে সাধারন গ্রাহকদের আস্থা হারিয়ে ফেলবে এ ব্যাংকের প্রতি। তাই মুস্তাফিজুর বা আমিনুল ইসলামের মত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর শাস্তির দাবি জানান ফুলতলাবাসি।

আরও পড়ুন:  খুলনার বড়বাজারে ট্রাস্টি সম্পত্তি দখলের পায়তারা

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares