প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

খালেদ ছিলেন ফ্রিডম পার্টির আর জি কে শামীম যুবদলের,এখন মাশুল দিচ্ছে আওয়ামী লীগ

1954
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

*একসময় যারা ফ্রিডম পার্টি, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ২০০৯ সা*লের পর তারা দল বদল করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু করেন। কে*উ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, এমপি-মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতার হাতে ফুলের মালা দিয়ে ‘লীগ’ নেতা যুক্ত করেন নামের সঙ্গে।

*আবার সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদ-পদবিও বাগিয়ে নেন কেউ কেউ। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষ*মতায় আসার পর সরকারি দলে ভিন্ন দলের নেতা-কর্মীর যো*গদান বেড়ে যায়। *বিশেষ করে ঠিকাদার, চাঁদাবাজসহ এখন সবাই ‘লীগ’-এর সঙ্গী। কেউ স*রাসরি দলের পদ-পদবিতে, কেউ কারও ছত্রচ্ছায়ায়। আর এসব অনুপ্রবেশকারীর মাশুল দিতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। গত শনিবার *আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের নাম *ব্যবহার করে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

*এরপর রাজধানীতে অ*ভিযান শুরু হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই আ*টক হন যুবলীগ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। গতকাল বিকালে আ*টক করা হয় যুবলীগের কে*ন্দ্রীয় সমবায় সম্পাদক এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে। তারা দুজনই দলে অ*নুপ্রবেশকারী। ফ্রিডম মানিক ও ফ্রিডম রাসুর হাত ধরে উত্থান হয় অ*স্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে আ*টক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার।

আরও পড়ুন:  ডিবি অফিসে জি*জ্ঞাসাবা*দের প্রথম দিনেই যুবলীগ নেতা খালেদ ফাঁ*স করে দিলেন রাঘববোয়ালদের নাম

ফ্রিডম পার্টির কর্মী খালেদ ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ২০১২ সালে যুবলীগের মহানগরী কমিটিতে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর সবার জানা। একই অবস্থা বিপুল অর্থসহ আ*টক জি কে শামীমের ক্ষেত্রেও। বিএনপি আমলে গণপূর্ত ভবনের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন তৎকালীন যুবদল নেতা শামীম। তিনি যুবদলের সহসম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষ*মতায় আসার পর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

দলের সমবায়বিষয়ক সম্পাদক পরিচয় দিতেন সব সময়। গতকাল আ*টক হওয়ার পর থেকে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী দাবি করেছেন, জি কে শামীম যুবলীগের কেউ নন। সম্প্রতি ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে হ*ত্যার ঘ*টনার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আগে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও হালে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছিলেন। জামায়াত নেতার অ*পকর্মের দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়েই পড়েছে।

*আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অনেকে বলেছেন, ক্ষমতার সুবিধা নিতে বিভিন্ন দল থেকে যো*গদানকারীর সংখ্যা উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। আওয়ামী লীগ যেহেতু টানা সরকারে রয়েছে, সে*জন্য সুবিধা নিতে বিভিন্ন দল থেকে লো*কজন ভিড় করছে তাদের দলে। এই নব্যদের অনেকের নানা অপরাধের কারণে দলের ভা*বমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগে এখন হাইব্রিডদের অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন:  এবার প্রভাবশালী ছয় মন্ত্রীর নাম জি কে শামীমের কল লিস্টে

কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, অনেকে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লোটে ব*দনাম করার জন্য, অনেকে চেহারা পাল্টে নব্য আওয়ামী লীগার হয়ে বিভিন্ন কাজ করে আওয়ামী লীগকে বে*কায়দায় ফেলছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতি করে যাচ্ছে, তারা অনেক ক্ষেত্রে এসব হাইব্রিডের কারণে কোণঠাসা হয়ে আছে। দলীয় সূত্রমতে, অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের ভিতরে বাইরে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

তাদের হাইব্রিড, কা*উয়াসহ নানা নামে অভিহিত করা হয়েছে। এদের দল থেকে বাদ দেওয়া হবে, বের করা হবে বলে নানান হু*মকি-ধ*মকিও দেওয়া হয়েছিল। দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদৌ কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, *সরাসরি কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হবে না কিন্তু ধী*রে ধীরে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হবে। তবে তা সময় ও পরিস্থিতিসাপেক্ষ। তবে এসব অ*নুপ্রবেশকারীর অ*পকর্মের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সে তালিকা অনুযায়ী এখন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 41.5K
    Shares