প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

শামীমের অ*বৈধ লেনদেনের খাতায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও প্রভাবশালী অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম

158
পড়া যাবে: 8 মিনিটে

শামীমের অ*বৈধ লে*নদেনের খাতায় (বিশেষ লেজারবুক) যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও প্রভাবশালী অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম পাওয়া গেছে । ‘টে*ন্ডার কিং’খ্যাত গণপূর্তের ঠিকাদার জি কে শামীম অ*বৈধ লেনদেন সংক্রান্ত হি*সাব রে*খেছেন তার অ*ফিসিয়াল খাতায় (বিশেষ লেজারবুক)। কখন কাকে কত টাকা ঘু*ষ বা ক*মিশন দিয়েছেন- তা লিখে রেখেছেন এ খাতায়। এতে নাম রয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেক রাজনৈতিক নেতার।

*যারা তার কাছ থেকে নি*য়মিত মো*টা অঙ্কের ক*মিশন নিতেন। খাতায় লেখা আছে- মেগা প্রকল্পের বেশ কয়েকটি কাজ পেতে টেন্ডার মূল্যের ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ক*মিশন হিসেবে যাদের ‘হার্ড ক্যাশ’ (নগদ) দেয়া হয়েছে, তাদের নামের তালিকা। এছাড়া টে*ন্ডার হলেই জি কে শামীমের কাছ থেকে যুবলীগের কমিশন হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকার ভাগ পেতেন যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট।

গ্রে*ফতা*রের পর জি কে শামীমের অফিস কক্ষ থেকে উদ্ধারকৃত খাতাপত্র ও টেলিফোনের ভয়েস রেকর্ড থেকে ক*মিশনপ্রাপ্তদের নামের তালিকাসহ এসব তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

*র‌্যাব বলছে, জি কে শামীমের সঙ্গে স*মাজের প্র*ভাবশালী অনেকের হট কা*নেকশন ছিল। রাজনৈতিক পদ-পদবীধারী নেতা ছাড়াও ৫-৬ জন মন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট। বি*শেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনৈক জি*য়াউদ্দিন ও জি*য়া রহমান নামের দু’জন ব্যক্তির নাম জানতে পারে। *যাদের সঙ্গে জি কে শামীম মোটা অঙ্কের অ*বৈধ লে*নদেন করতেন।

*আবার অনেকের সঙ্গে গো*পনীয় ক*থাবার্তা তিনি নিজের মোবাইল ফোনে রে*কর্ডও করে রাখেন। তার ৩টি মোবাইল ফোনে অ*নেক গুরুত্বপূর্ণ ত*থ্যপ্রমাণ পা*ওয়া গেছে। *কাজ পেতে রাজনৈতিক প্র*ভাবশালীদে*র পা*শাপাশি সচিব থে*কে শুরু ক*রে প্রকৌশলীদের কাউকেই প্রা*প্য ক*মিশন থেকে ব*ঞ্চিত করতেন না তিনি।

*র‌্যাব বল*ছে, বেশ ক*য়েকদিন আগ থেকেই জি কে শামীমের টে*ন্ডারবা*জি ও অ*র্থপাচারে*র বিষয়ে সু*নির্দিষ্ট তথ্য পাওয় যায়। এসব ত*থ্য যাচাইয়ের পর শামীমকে গ্রে*ফতারে*র সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আ*টকে ফেলা হয় প্র*ভাবশালী এই ঠিকাদারকে র‌্যাবের জা*লে। শুক্রবার ভোর ৭টায় র‌্যাবের একটি গোয়েন্দা টিম ছ*দ্মবেশে শামীমের বাড়িতে হা*জির হয়।

কিন্তু বা*ড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দরজা খুলতে বলায় ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। এ সময় র‌্যাব কর্মকর্তারা কৌশলগত কারণে পরিচয় গোপন করে ভিন্ন পরিচয়ে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব সদস্যরা ভেতরে ঢুকে পড়েন। প্রথমেই তার অ*স্ত্রধা*রী ব*ডিগার্ডদের আ*টক করা হয়। এরপর দোতলায় জি কে শামীমের কক্ষে ঢুকে পড়েন র‌্যা*ব সদস্যরা।

নিজের অফিস কক্ষে হঠাৎ র‌্যা*বের টিম দেখে হ*তভম্ব হন তিনি। বিচলিত হয়ে প্র*ভাবশালীদের ফো*ন করতে শুরু করেন। জি কে শামীমের ফোনে বেশির ভাগ প্র*ভাবশালী সাড়া না দিলেও কেউ কেউ শামীমকে ছেড়ে দেয়ার জন্য র‌্যাব কর্মকর্তাদের অ*নুরোধ করেন। কিন্তু উ*চ্চ প*র্যায়ের নি*র্দেশ থাকায় কোনো অনুরোধই কাজে আসেনি।

সকাল ৯টার দিকে শামীমের হাতে হা*তকড়া পরিয়ে দেন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর তার বাসায় তল্লাশি শুরু হয়। তার অফিস কক্ষসহ বাসার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা, ৮টি ব্যাংকের চেকবই, ২শ’ কোটি টাকার এফডিআর, অ*স্ত্র, গু*লি ও ম*দের বো*তল উ*দ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:  জি কে শামীমের লেনদেনের খাতায় তিন বিএনপি নেতার নাম,তারা মাসোহারা নিতেন নিয়ম করে

*হাতে হ্যা*ন্ডকা*ফ লাগানোর পর জি কে শামীম ত*দবিরের হা*ল ছেড়ে দেন। এবার তিনি অভিযানে উপস্থিত র‌্যাব কর্মকর্তাদের ম্যা*নেজের কৌ*শল নেন। এ*কজন র‌্যাব ক*র্মকর্তাকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১০ কোটি টাকার অফার দেন। জি কে শামীম বলেন, ‘আমাকে ছেড়ে দেন। এখনই ১০ কোটি টাকা দিচ্ছি। চাইলে আরও দেব।

*যেখানে যে*ভাবে বলবেন সেখানে টাকা পৌঁছে দেব। শুধু আমাকে এ*বারের মতো ছেড়ে দিন।’ কিন্তু মোটা অঙ্কের টাকার প্র*লোভনে*ও কাজ হচ্ছে না দেখে জি কে শামীম অ*সুস্থতার ভান করেন। বু*কে ব্যথা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তখন তাকে অফিস কক্ষেরই একটি চেয়ারে বসার অনুমতি দেয়া হয়।

*র‌্যাব সূত্র জানায়, গ্রে*ফতারের পর শামীমকে নিচে নামিয়ে আনা হলেও র‌্যা*বের গা*ড়িতে উঠতে তিনি রা*জি হচ্ছিলেন না। শামীম তার কোটি টাকা মূল্যের আলফার্ড গাড়িতে করে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কি*ন্তু তার সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। বা*ইরে দাঁড়ানো পি*কআপে তুলে তাকে র‌্যা*ব কা*র্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

*সূত্র জানায়, জি কে শামীম সব সময় বিশেষ নিরাপত্তা বহর নিয়ে চলাফেরা ক*রতেন। তার গাড়িবহরে ১০-১২টি মো*টরসাইকে*ল, দুটি মা*ইক্রোবাস, পুলিশের ব্যবহৃত ট্রা*ফিক সরঞ্জাম ও ও*য়াকিটকি ব্যবহার করা হতো। এছাড়া শামীমের বডিগার্ডদের গায়ে বিশেষ নিরাপত্তা ফো*র্স কর্তৃক ব্যবহৃত জ্যাকেট সাদৃশ্য পোশাক দেখা যায়। যা রীতিমতো বে*আইনি।

*জি কে শামীম প্র*ভাবশা*লী অনেকের সঙ্গেই অ*বৈধ ক*মিশন ও ঘু*ষ লে*নদেনে*র আলাপ করেন নিজের মোবাইল ফোনে। ত*বে প্রমাণ রাখতে অনেকের সঙ্গেই ক*থাবার্তা বলার পর ফো*নে তা রেকর্ড করে রাখতেন। আবার অনেকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার ও ইমো ব্যবহার করে কথাবার্তা বললেও অন্য আ*রেকটি ফোনে তা রে*কর্ড করে রাখেন। এ কারণে শা*মীমের মোবাইল ফো*নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফ*রেনসি*ক পরীক্ষার মাধ্যমে অ*বৈধ লে*নদেনের সঙ্গে জ*ড়িতদে*র ভয়েস চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

*সূত্র জানায়, জনৈক জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের একাধিক ভ*য়েস রে*কর্ড রয়েছে তার মোবাইল ফোনে। এসব ক*থোপকথনের বেশির ভাগই চিত্রজগতের নায়িকা, মডেল ও শোবিজ জগতের তা*রকাদের ঘিরে। টে*ন্ডার সংক্রান্ত কাজে তিনি অনেক সময় প্র*ভাবশালীদে*র ম্যানেজ করতে এসব ম*ডেল ও উঠতি না*য়িকাদের ব্য*বহার করতেন।

*সূত্র বলছে, জি কে শামীমের ঘ*নিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ত মন্ত্রণালয়ে দা*পটের সঙ্গে ঘোরাফেরা করেন। তার পুরো নাম জিয়াউর রহমান। অ*থচ তিনি পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কোনো ক*র্মকর্তা বা ক*র্মচারী নন। আবার তিনি কোনো রা*জনৈতিক নে*তাও নন। তবে পূর্ত ম*ন্ত্রণালয়ের স*র্বস্তরে তার প্র*ভাব চোখে পড়ার মতো। স*বাই তাকে দেখলে সালাম দেয়, সমীহ করে। লি*ফটম্যানরা ত*টস্থ হয়ে পড়ে।

ম*ন্ত্রীর কক্ষে ঢো*কার আ*গেই দর*জা খুলে দাঁড়িয়ে থাকেন ক*র্মচারীরা। জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে যে কয়জন সি*ঙ্গাপুরে মেরিনা বে ক্যা*সিনো*তে নিয়মিত জু*য়া খেলতে যান জিয়াউর রহমান তাদের অন্যতম। সিঙ্গাপুরের ক্যা*সিনো*তে জিয়া হাজার হাজার ডলার উড়িয়ে দেন অ*বলীলায়। দেশের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করেন হে*লিকপ্টা*রে। জিয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি। রাজধানীর গুলশান-১ এ তিনি থাকেন। গুলশানের হোটেল ও*য়েস্টিনে তাকে নি*য়মিত দেখা যায়। এই জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ‘হট কা*নেকশন’ স*রকার ব*দলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। বিএনপি আমলে তিনি বিএনপির লোক। আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:  জি*জ্ঞাসাবা*দে চাঞ্চল্যকর তথ্য ,বর্তমান ও সাবেক ৭ মন্ত্রী ও ২৩ জন এমপি শামীমের বিজনেস পার্টনার

*একজন র‌্যা*ব কর্মকর্তা বলেন, জি কে শামীমের সঙ্গে এই জিয়াউর রহমানের মতো আরও অনেক প্র*ভাবশালী*র ঘ*নিষ্ঠতা রয়েছে। যাদের কাছে টাকা-পয়সা অনেকটা গাছের পা*তার মতোই মূ*ল্যহীন বস্তু। গ্রে*ফতা*র করে গা*ড়িতে তোলার সময় জি কে শামীম তার কর্মচারীদের বলেন, ‘এই ক*য়টা টাকা দাও তো। সঙ্গে নিয়ে যাই।’ এ কথা বলে তিনি ১ হাজার টাকার নোটের কয়েকটা বান্ডিল হে*লাফেলা*য় তুলে প*কেটে ভরার চেষ্টা করেন। কিন্তু র‌্যাব জানিয়ে দেয়, গ্রে*ফতা*র হওয়ার পর সঙ্গে ন*গদ একটি টাকাও নেয়ার কোনো সু*যোগ নেই। অ*গত্যা টাকাগুলো আবার য*থাস্থানে রেখে দিতে বাধ্য হন তিনি।

*র‌্যাব জানায়, জি কে শামীম অ*ভিনব উপায়ে টে*ন্ডারবা*জি করতেন। সম্প্রতি ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু হওয়ায় মূলত জি কে শামীমের মতো ঠিকাদারদের আরও সুবিধা হয়েছে। কারণ আগে থেকেই দরপত্রে এমন শর্ত যোগ করা হয় যাতে পূ*র্বনির্ধারিত ঠি*কাদার হিসেবে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট দ*ফতর ও অ*ধিদফ*তরের উচ্চপর্যায়ে নী*তিনির্ধার*করা নির্ধারিত রেটে কমিশন নিতেন।

*দীর্ঘদিন ধরে এমন ক*মিশন লেনদেনের ফলে জি কে শামীম অনেক কর্মকর্তারই আ*স্থাভাজ*ন হয়ে ওঠেন। ফলে পূ*র্ত সংক্রান্ত মেগা প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবিপিএল যুক্ত থাকে। কোনোটি তিনি নিজেই করেন। আবার কোনো কোনো কাজ জেভি’র (যৌথ উদ্যোগ) মাধ্যমে করেন। আ*বার বেশ কিছু কাজ তিনি অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট কমিশনে বিক্রি করে দেন।

রূ*পপুর পা*রমাণবি*ক *প্রকল্পের বেশ কয়েকটি কাজ নিতে জি কের প্র*তিষ্ঠানকে রীতিমতো মো*টা অঙ্কের ক*মিশন দিতে হয়। এভাবে রূপপুরে কাজ পায় সাজিন ট্রেডার্স, এনডিই, পায়েল ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স।

*র‌্যাব জানায়, জি কে শামীমের বিরুদ্ধে মা*দক, অ*স্ত্র, মা*নি ল*ন্ডারিংয়ে*র সু*নির্দিষ্ট অভিযোগে একাধিক মা*মলা করা হয়েছে। এর মধ্যে মা*দক বা অ*স্ত্রের যে কোনো একটি মা*মলা ত*দন্ত করবে র‌্যাব। যাতে করে আ*ইনের ফাঁ*ক গলে তার মুক্তি পাওয়ার সু*যোগ সী*মিত হয়ে আসে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম শনিবার বলেন, সু*নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জি কে শামীমকে গ্রে*ফতার করে র‌্যাব। বিভিন্ন মহলে তার হট কা*নেকশনের কথা শু*নেছি। তবে আইনের চেয়ে কারও হাত লম্বা ন*য়। সে যতই প্র*ভাবশা*লী হোক না কেন, অ*পরাধ করলে তাকে শা*স্তি পেতেই হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 287
    Shares