প্রচ্ছদ অপরাধ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী পঞ্চাশ মা*ফিয়া নেতার নিয়ন্ত্রণে ঢাকার ক্লা*বপাড়া

ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী পঞ্চাশ মা*ফিয়া নেতার নিয়ন্ত্রণে ঢাকার ক্লা*বপাড়া

482
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী পঞ্চাশ মা*ফিয়ার নেতার নিয়ন্ত্রণে ঢাকার ক্লাবপাড়া। এই মা*ফিয়া*রাই রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো বসিয়েছেন ক্যা*সিনো। আর এই ক্যা*সিনো থেকে তারা হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। হয়েছেন বিত্ত-বৈভবের মালিক।

*এরই মধ্যে তারা মোটা অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পা*চার করেছেন। বিভিন্ন ঐ*তিহ্যবাহী ক্রীড়া ক্লাবের প*রিবেশকে বদলে দিয়ে করেছেন অ*পরাধের আ*খড়া। রা*ত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেসব ক্লা*বে আনাগোনা বাড়তে থাকে অ*পরাধজ*গতের মা*ফিয়া, ধ*নীর দুলাল ও সুন্দরী র*মণীদের। এই মা*ফিয়ারা শাসক দলের হলেও কেউ কেউ একসময় বিএনপির রা*জনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর এরা ভো*ল পাল্টেছেন। ক্ষ*মতাসীন দলে যোগদান শুধুই নয়, বাগিয়ে নিয়েছেন প*দপদবিও।

*পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ক্লাবে দীর্ঘকাল ধরেই জু*য়ার চর্চা ছিল। কিন্তু অ*নুমোদনহীন ক্যা*সিনো কীভাবে হলো তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে ক্লা*বগুলোর সঙ্গে জ*ড়িত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবাহনী-মোহামেডানসহ অন্য প্রায় সব ক্লাবেই জু*য়ার প্রচলন ছিল আশির দশক থেকেই। সেটি করা হতো মূলত ক্লাবের পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য।

*তখন ক্লাবের সংগঠকরা রাজনীতিতে খুব একটা স*ক্রিয় ছিলেন না বরং ক্লাবগুলোর মধ্যে তী*ব্র প্র*তিযোগিতা ছিল। ফলে খেলাধুলাতেও ক্লাবগুলো বেশ ভালো করেছিল। তখন মূলত ওয়ান-টেন নামে একটি জু*য়া হতো, যেটি হা*উজি নামে পরিচিত। স*প্তাহে কয়েক দিন হতো। ক্লা*বের বার্ষিক দাতাদের বাইরের বড় আয় আসত এই হা*উজি থেকেই। জানা গেছে, জু*য়া হিসেবে তখন ক্লাবগুলোতে হা*উজি, ওয়ান-টেন, রামিসহ কিছু খেলা চালু ছিল। আর বোর্ড বা জায়গা ভা*ড়া দিয়ে অর্থ আয় হতো ক্লাবের।

*বিদেশের মতো বিশাল বড় ফ্লোরে হাজার রকমের জু*য়া খেলার য*ন্ত্রপাতি*র সমাহার না হলেও স্ল*ট মেশিন কমবেশি সব ক্লাবে পৌঁছে গেছে গত পাঁচ-ছয় বছরে। মা*দকদ্র*ব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, তিনি সেগুনবাগিচা এলাকায়? অ*বৈধ মা*দক সেবনের খবর পেয়ে একটি অভিযান চালান বছর দুয়েক আগে। অভিযানে ক্যা*সিনোর অস্তিত্ব পান।

*পরে সেটি বন্ধও হয়ে যায় বলে জানান তিনি। সে*গুনবাগিচায় এটি বন্ধ হলেও পরবর্তী সময়ে মতিঝিল, কলাবাগান, তেজগাঁও এবং এলিফ্যান্ট রোডে জমজমাট হয়ে ওঠে কয়েকটি ক্যা*সিনো। তবে নগরীতে ক্যা*সিনোর ধারণা কলাবাগান থেকে শুরু হলেও এর নির্ভরযোগ্য আরেকটি জায়গা হয়ে দাঁড়ায় তেজগাঁওয়ের ফুওয়াং ক্লাব। মূলত তাইওয়ানিদের একটি দল ২০০০ সালের দিকে এখানে পানশালা-কাম-রেস্তোরাঁ চালু করে।

*পরে তাদের বি*দায়ের পর বাংলাদেশি একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার হাত ধরে চালু হয় ক্যা*সিনো। এর মধ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মতিঝিলের ক্লাবগুলোর নিয়ন্ত্রণ যায় যুবলীগের কয়েকজন নেতার হাতে, যারা পরবর্তী সময়ে নিজেদের মা*ফিয়া হিসেবে তৈরি করেন। জানা গেছে, এক প্রভাবশালী যুবনেতার নিয়ন্ত্রণে চলা ক্যা*সিনো থেকে শুধু চাঁ*দা তোলার কাজ করে একসময় কাকরাইলের বিপাশা হোটেলের ব*য়ের কাজ করা জাকির হোসেন ও গুলিস্তানের হ*কার আরমান এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।

*নতুন মডেলের হ্যা*রিয়ার গাড়ি দাপিয়ে চাঁদা তোলেন আরমান। দুটি ক্যা*সিনোর মালিকানাও রয়েছে তার। কোন ক্যা*সিনোর চাঁ*দার পরিমাণ কত হবে চরম ক্ষ*মতাধর এক যুবলীগ নেতার সঙ্গে বসে ঠিক করে দিতেন আরমান। আর জাকির চাঁ*দা তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় মা*সোহারা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন। সিঙ্গাপুরে অভিজাত ক্যা*সিনো মেরিনা বে’তে গিয়ে তারা জু*য়াও খেলেন একসঙ্গে।

*ওই যুবলীগ নেতার নিয়ন্ত্রণেই মূলত ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব ও ভবনে বিদেশের আদলে অ*বৈধ ক্যা*সিনো গড়ে উঠতে থাকে। আর এ খাত থেকে প্রতিদিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁ*দা তুলতে থাকেন ওই যুবনেতা।

*একসময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক প্র*ভাবশালী নেতাও পাল্লা দিয়ে ক্যা*সিনো খোলার চেষ্টা করেন। একটি ক্লাবে তিনি তা খোলেনও। যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া টে*ন্ডারবা*জির পাশাপাশি ঢুকে পড়েন ক্যা*সিনো জগতে। শুরুতে এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ওই যুবনেতা ও খালেদের মধ্যে শীতল যুদ্ধও চলছিল।

*গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও জু*য়াড়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকায় ক্যা*সিনোর বিস্তার ঘটান নেপালি নাগরিক দীনেশ ও রাজকুমার। প্রভাবশালী এক যুবলীগ নেতার তত্ত্বাবধানে এরা একের পর এক ক্যা*সিনো খুলে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে দেশে পা*চার করেন।

ভিক্টোরিয়া ক্লাব : ২০১৫ সালে ভিক্টোরিয়া ক্লাবে ক্যা*সিনো খোলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অ*বৈধ এ ব্যবসা শুরু করেন নেপালের ক্যা*সিনো ব্যবসায়ী দীনেশ ও রাজকুমার। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন বিনোদ মানালি। নেপাল ও ভারতের গোয়ায় তাদের মালিকানায় ক্যা*সিনো ব্যবসা রয়েছে। চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই বাবা নামের এক নেপালি নাগরিকের কাছে ক্যা*সিনো*টি বিক্রি করে দেন তারা। তখন থেকে বাবা ও তার ম্যানেজার হেমন্ত মিলে ক্যা*সিনো*টি চালাতে থাকেন। ক্লাবের সভাপতি কাজল ও সাধারণ সম্পাদক তুহিন। প্রতিদিন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ভাড়া নেন তারা। আর ওই যুবনেতাকে চাঁ*দা দিতে হয় দিনে ৪ লাখ টাকা। তার সহযোগী যুবলীগ নেতা আরমান ও খোরশেদ প্রতিদিন গিয়ে চাঁ*দার টাকা নিয়ে আসেন। ক্লাবের সিসি টিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন:  বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া মা*দকস*হ আ*টক

কলাবাগান ক্লাব : ঢাকার নামকরা জু*য়াড়ি শফিকুল আলম সেন্টু ২০১৬ সালে কলাবাগান ক্লাবে ক্যা*সিনো খোলেন নেপালি নাগরিক দীনেশ, রাজকুমার ও অজয় পাকরালের সঙ্গে। এখান থেকে প্রতিদিন ২ লাখ টাকা করে চাঁ*দা নিতেন এক প্রভাবশালী যুবনেতা। এখান থেকেও চাঁ*দা তুলতেন আরমান। অভিযোগ আছে, চাঁ*দার অঙ্কে বনিবনা না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে ওই ক্লাব বন্ধ করে দেন যুবলীগ দক্ষিণের এক প্রভাবশালী নেতা। অনেক দে*নদরবার করেও যা আর চালু করতে পারেননি সেন্টু। তবে ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ ওরফে কালা ফিরোজের নির্দেশনায় চালু হয় হা*উজি ও জু*য়া।

উত্তরার ক্যাসিনো : দীনেশ ও রাজকুমারের অংশীদারিত্বে উত্তরায় এপিবিএন অফিসের উল্টো পাশে একটি ভবন ভাড়া করে চালু করা হয় আরেকটি ক্যা*সিনো। তাদের পার্টনার হন তছলিম নামের এক স্থানীয় যুবলীগ নেতা। এরপর ওই এলাকায় প্র*ভাবশারী যুবনেতার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের মাধ্যমে আরও কয়েকটি ক্যা*সিনো গড়ে তোলেন তারা, যার প্রতিটি থেকে দিনে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁ*দা তুলতেন আরমান।

সৈনিক ক্লাব : মালিবাগ-মৌচাক প্রধান সড়কের পাশের একটি ভবনে সৈনিক ক্লাব। অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের নামে এই ক্লাব চলে। আর এটি নির্ধারিত টাকায় ভাড়া নিয়ে ক্যা*সিনো খোলেন যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন ও এ টি এম গোলাম কিবরিয়া। তাদের অংশীদার নেপালি নাগরিক প্রদীপ। এই ক্লাব থেকে প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা চাঁ*দা পান ওই যুবনেতা।

ঢাকা গোল্ডেন ক্লাব : বনানীর আহমেদ টাওয়ারের ২২ তলায় ঢাকা গোল্ডেন ক্লাব খোলেন চাঁদপুরের ব্যবসায়ী আওয়াল পাটোয়ারী ও আবুল কাশেম। ক্লাবটি চালুর কিছুদিনের মধ্যেই কৗশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বেড়ে যায় এক যুবনেতার মা*সোহারার অঙ্ক। ওই সময় যুবলীগ নেতা আরমান জোর করে ক্লাবটির মা*লিকানায় ঢুকে পড়েন। নেপালি নাগরিক অজয় পাকরালের তত্ত্বাবধানে চলত ক্যা*সিনো*টি। এখান থেকেও ওই যুবনেতার জন্য প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা চাঁ*দা তুলতেন আরমান।

ওয়ান্ডারার্স ক্লাব : এই ক্লাবে ক্যা*সিনো খোলেন নেপালি নাগরিক হিলমি। তার এ-দেশীয় অংশীদার মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোবাশ্বের। মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে এই ক্যা*সিনো। এখান থেকে প্রতিদিন এক যুবলীগ নেতাকে দিতে হয় ৫ লাখ টাকা।

ব্রাদার্স ইউনিয়ন : *মহিউদ্দীন মহির ইশারা ছাড়া ঐহিত্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন ব্রাদার্স ইউনিয়নের পাতাও ন*ড়ে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে। সন্ধ্যার পরই এই ক্লাবে চলে জু*য়া আর হা*উজি।

দিলকুশা ক্লাব : এই ক্লাবের মালিক নেপালি নাগরিক দীনেশ, রাজকুমার ও ছোট রাজকুমার। ভারতীয় আরও দুজন অংশীদার থাকলেও তাদের নাম জানা যায়নি। এই ক্যা*সিনো থেকে এক যুবনেতার চাঁ*দা প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা। আরমানের নিজের চাঁদা ১ লাখ। ক্লাবটি চালু করতে ওই যুবনেতাকে অগ্রিম দিতে হয় ৪০ লাখ টাকা। আর আরমান অগ্রিম নেন ১০ লাখ। আরমানের ছোট ভাই ইয়ংমেন্স ক্লাবে অ*ভিযানকালে ধ*রা পড়লে তাকে এক বছরের সাজা দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরামবাগ ক্লাব : স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদের তত্ত্বাবধানে একসময়ের ফুটপাত হকার মতিঝিল থানা যুবলীগের বর্তমান নেতা জামালের মালিকানায় ক্যা*সিনো খোলা হয় আ*রামবাগ ক্লাবে। মমিনুল হক সাঈদ তার অলিখিত অংশীদার। আছে নেপালি অংশীদারও। এই ক্যা*সিনো থেকে প্রতিদিন তিন লাখ টাকা দেওয়া হয় দক্ষিণ যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতাকে।

ফুওয়াং ক্লাব : তেজগাঁও লিঙ্ক রোডের ফুওয়াং ক্লাবে একসময় ম*দ বিক্রির পাশাপাশি নিয়মিত বসত ডি*জে গানের আসর। কক্ষে কক্ষে চলত নাচ-গান। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান দ্বিতীয় মেয়াদে ক্লাব মালিক নূরুল ইসলামের সঙ্গে তেজগাঁও জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝামেলার কারণে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ডি*জে আয়োজন। এরপর ওই কর্মকর্তার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ক্লাবের দোতলার হলরুমে বসানো হয় ক্যা*সিনো। নেপালি সুন্দরী তরুণী ও তরুণ কর্মকর্তা-ক*র্মচারীদের মাধ্যমে জাঁ*কজমকভাবে খোলা হয় ক্যা*সিনো*টি। ক্লাবটির একক মালিক নূরুল ইসলাম পু*রস্কারঘোষিত এক শী*র্ষ স*ন্ত্রাসীর আ*ত্মীয় হওয়ায় এই ক্লাবে যুবলীগ নেতার চাঁদার পরিমাণ কম। দিনে ২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:  ক্যা*সিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবার আটক আওয়ামী লীগের এনামুল, রূপন

মোহামেডান ক্লাব : *একসময় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারণে ১৯৯৪ সাল থেকে মোহামেডান ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন লোকমান হোসেন। বনে যান ক্লা*বের সাধারণ সম্পাদক। ২০১১ সালে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর সভাপতি পদ থেকে মোসাদ্দেক হোসেন ফালু সরে গেলেও থেকে যান লোকমান। ভো*টবিহীন অবস্থায় দুই বছরের জন্য তিনি সদস্যসচিব নির্বাচিত হলেও এখনো তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। খেলোয়াড়দের কল্যাণ এবং ক্লাবের মানোন্নয়নের কথা বলে তিনি ক্যা*সিনো বসান একক সিদ্ধান্তে।

*যদিও এ*খান থেকে অর্জিত কোনো টাকা তিনি ক্লাবের মানোন্নয়নে ব্যয় করেন না। ক্লা*বে কিংবদন্তি ফুটবলার বাদল রায় অভিযোগ করে বলেন, লোকমান অবশ্যই ক্যা*সিনো থেকে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন বলে তিনি কক্ষ ভাড়া দিয়েছেন। শুধু লোকমান নন, তার অনুসারীরাও এ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পাচ্ছেন। বাদল রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই মোহামেডানের উন্নয়নের কথা বলেছেন। অথচ লোকমান তা মা*নছেন না। আ*মরা চাই লোকমানের অ*পসারণ। তা না হলে এই ক্লা*ব ধ্বংস হয়ে যাবে।’ বাদল রায় বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম লোকমান বলেছেন, রাজনৈতিক চাপে তিনি ক্যা*সিনোর জন্য কক্ষ ভাড়া দিয়েছেন। আমি তা বিশ্বাস করি না। যদি রা*জনৈতিক চাপই হতো, বিএনপির লোক হয়ে আওয়ামী লীগ আমলে তিনি বি*সিবির পরিচালক পদে আছেন কীভাবে?’

জা*না গেছে, বনানীর ঢাকা গোল্ডেন ক্লাবের মালিক ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও মতিঝিলের স্থানীয় যুবলীগ লীগ নেতা ইমরানের মালিকানায় মোহামেডান ক্লাবে চলছিল ক্যা*সিনো। এর নেপালি অংশীদার কৃষ্ণা। রাজধানীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক ক্যা*সিনোটি*তে এরই মধ্যে অভিযান চালানো হয়েছে। এখান থেকে প্র*তিদিন আরমানের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা চাঁ*দা পেতেন দক্ষিণ যুবলীগের ওই নেতা।

মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব : বিএনপির সময় ইব্রাহীমপুরের আবুল হোসেন লিটন ও তার স্ত্রী সুফিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে জু*য়া ও হা*উজি চালালেও ২০০৯ সালে তা নিজের দ*খলে নিয়ে নেন দক্ষিণ যুবলীগের এক প্র*ভাবশালী নেতা। তার চাচা হিসেবে পরিচিত পুরান ঢাকার ব্য*বসায়ী আলী হোসেনকে সামনে রেখে এই ক্লা*বে ক্যা*সিনো চালু করেন। নেপালের দীনেশ ও রাজকুমার তার ব্যবসায়িক অংশীদার। আলী হোসেনের নামে ক্যা*সিনো*টি চললেও এর মূল মালিক ওই যুবলীগ নেতা। কিন্তু কাগজে-কলমে তার নাম নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইয়ংমেন্স ক্লাব : চারদিকে জু*য়ার টাকা উড়তে দেখে লো*ভে পড়েন যুবলীগের আরেক নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননকে চেয়ারম্যান করে প্রতিষ্ঠা করেন ইয়ংমেন্স ক্লাব। ফুটবল, ক্রিকেটের উন্নয়নের কথা বলে ক্লা*বটি প্রতিষ্ঠার পর অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এনে নিজেই চালু করেন ক্যা*সিনো। কমলাপুর আ*ইসিডির কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চীন থেকে আ*মদানি করা অত্যাধুনিক স*রঞ্জাম এনে বসান তার ক্যা*সিনো*তে। এখান থেকেও ৪ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন যুবলীগ দক্ষিণের এক প্রভাবশালী নেতা।

অ্যাজাক্স ক্লাব : *এলিফ্যান্ট রোডের অ্যাজাক্স ক্লাব চালু হয় যুবলীগ নেতা আরমান, তছলিম ও খোরশেদের তত্ত্বাবধানে। নেপালি নাগরিক ছোট রাজকুমারকে দিয়ে ক্যা*সিনো*টি চালু করেন তারা। এই ক্যা*সিনো থেকে প্রতিদিন দক্ষিণের যুবলীগের পরাক্রমশালী নেতার পকেটে যেত ৩ লাখ টাকা।

ইস্কাটন সবুজ সংঘ : একসময়ের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবে খেলার বদলে চলে জু*য়া আর হা*জি। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর পর্যন্ত সপ্তাহের সাত দিনই চলে জু*য়ার ব্য*বসা। ম*নোরঞ্জনের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয় নানা ধরনের নে*শাজাতী*য় দ্রব্যের। এ*কসময় শী*র্ষ সন্*ত্রাসী ত*কমা পাওয়া এক ব্যক্তি ক্লা*বটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন মাদারীপুরের সারোয়ার ও জামালের মাধ্যমে। তবে একজন সংসদ সদস্য ও যুবলীগের এক নেতাকে মোটা অঙ্কের মা*সোহারা দিয়ে আসছেন তিনি।

জানা গেছে, গুলশান এলাকায় একাধিক বা*র ও ক্লা*বের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কালা নাসিরের বন্ধু তালাল রিজভী নামের একজন। জাতীয় পার্টির একজন প্র*ভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ ম*দদে তালাল রিজভীর ইশারায় ওই ক্লা*বগুলোতে কয়েক দিন আগ পর্যন্ত চলত নানা ধরনের অ*পকর্ম। অন্যদিকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দীন রতন তার এলাকার বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্পোর্টস ক্লাবে হা*উজি ও জু*য়ার ম*দদদা*তা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 2.3K
    Shares